June 23, 2017
আমরা দু:খিত হাওরবাসী-পাহাড়বাসী—!!!

ইয়াকুব নবী ইমন: ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসে মানুষের মাঝে ঈদ আনন্দ বইতে থাকে। ঈদ আসে ঈদ যায়, ঈদ আমাদের মাঝে রেখে যায় কিছু রঙ্গীন, দু:খ-বেধনা ভরা ম্মৃতি। আমাদের দেশের অনেক বড় লোক ঈদের আগেই বিদেশ থেকে ঈদের পোশাক ক্রয় করে ফেলেন। তারা শুধু ঈদের শপিংয়ের জন্যই সিঙ্গাপুর, লন্ডন, এমেরিকা, ভারত সফর করেন।
কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে ঈদের মানে কিন্তু তা নয়। ঈদ আমাদের যে শিক্ষা দেয় তা হলো সম্প্রতির বন্ধন সৃষ্টি করা। অপ্রিয় হলেও সত্য, আমরা কি ঈদের সেই সম্প্রতি বজায় রাখতে পারছি। ঈদুল ফিতর উদযাপনের আগে আমরা পুরো এক মাস পবিত্র মাহে রমজান পালন করে থাকি। আর এই রমজানের উদ্দেশ্য হলো আত্ম সংযমি হওয়া বা আত্মশুদ্ধি লাভ করা। বান্দার সুবিধার্থে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এই রমজানকে তিন ভাগে ভাগ করে দিয়েছেন। প্রথম ১০ দিন রহমত, ২য় ১০ দিন মাগফেরাত ও ৩য় ১০ দিন নাজাত। অর্থাৎ আমরা রমজানের প্রথম ১০ দিন ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহর রহমত চাইবো। ২য় ১০ দিন রোজা রেখে ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহ দরবারে মাগফেরাত চাইবো। আর ৩য় ১০ দিন রোজা রেখে, মসজিদে ইতেকাফে অংশ গ্রহন করে, সবে কদর মহা মহিমান্নিত রাতে ইবাদের মাধ্যমে আল্লাহর দরবাবে কান্নাকাটি করে নাজাত চাইবো। অথচ আমাদের দেশে সম্পূন্ন উল্টো চিত্র। রমজানের শুরুতে এশার নামাজ ও তারাবির নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে লাইন পড়ে যায়। অনেক সময় এই  মৌসুমী নামাজিদের ভীড়ে মসজিদে তিল ধরনের জায়গাও থাকেনা। তাদের হুড়াহুড়িতে নামাজ পড়াটাই দায় হয়ে পড়ে। আর রমজান যত শেষ হয়ে আসে তারা মসজিদ থেকে ততই ছিটকে পড়ে। আদতে তা হওয়ার কথা নয়। অথচ রমজান যতই শেষ হয় আল্লাহর  নৈকট্য লাভের ততই সুযোগ সৃষ্টি হয়।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহর নবী হযরত মোহাম্মদ(স:) বলেন, ’রমজান মাস পেয়ে কোন ব্যক্তি যদি আল্লাহর কাছ থেকে গুনাও মাপ করিয়ে নিতে না পারে তবে তার মতো হতভাগা আর কেই নাই’।
আবার আমদের দেশে দেখা যায় রমাজের শেষাংশে যাকাত দেওয়ার তোড়জোড়। যাকাত যে ভাবে আদায় করার কথা ধনীরা সেই ভাবে আদায় করছেননা। আজকাল দেখা যায়, ধনীরা ঢাকঢোল পিটিয়ে যাকাত আদায় করে থাকেন। যা কতকুটু শরিয়ত সম্মত তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা দরকার।
আমাদের দেশের মানুষ নির্বিগ্নে ঈদ উদযাপনের জন্য  সরকার বাহাদুর নানা মুখি কর্মসূচী গ্রহন করেছে। জলে-স্থলে অতিরিক্ত সরকারী বাহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবুও ঈদে ঘরমুখো মানুষের দূর্ভোগ কমছেনা। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাওনা কোথাও সড়ক দূর্ঘনাসহ বিভিন্ন ঘটনা দূর্ঘটনায় অনেক মানুষ মৃত্যু বরণ করছে। বিশেষ করে সড়ক দূর্ঘটনায় মানুষ মৃত্যুর ঘটনা কোন মতেই হ্রাস করা যাচ্ছেনা। যা নিয়ে চিন্তিত খোদ সরকার প্রধানও।
দেশের উচ্চ বিত্তের লোকেরা মহা ধুমধামে ঈদ উদযাপন করলেও চরম গ্যাড়াকলে পড়েন নিম্ম ও মধ্যবিত্তের মানুষেরা।
আমাদের অনেকের মাঝে এবার ঈদ আনন্দ বয়ে আনলেও ঈদ আনন্দ বইবেনা হাওরবাসী, পাহাড়বাসী, বন্যায় আক্রান্ত উত্তরাঞ্চলবাসীর মনে। ঈদ আনন্দ আসবেনা সম্প্রতি পাহাড় ধসে নিহতদের পরিবারে, পাহাড় ধসের পর উদ্ধার কাজের সময় মাটি চাপা পড়ে নিহত স্বশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পরিবারে। আমরা দু:খিত হে হাওরবাসী, পাহাড়বাসী ও উত্তরবঙ্গবাসী। আমরা তোমাদের প্রকৃত ঈদের আনন্দ উপহার দিতে পারলাম না। আমরা তোমাদের পাশে দাঁড়াতে পারলামনা।
লেখক: ইয়াকুব নবী ইমন, সম্পাদক, দৈনিক জাতীয় নিশান, ০১৭১২৫৯৩৫৪।

Spread the love


প্রতিষ্ঠাতা: মরহুম কাজী মো: রফিক উল্যাহ, সম্পাদক: ইয়াকুব নবী ইমন, প্রকাশক: কাজী নাজমুন নাহার। সম্পাদক কর্তৃক জননী অফসেট প্রেস, ছিদ্দিক প্লাজা, করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী থেকে মূদ্রিত।

বার্তা, সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ছিদ্দিক প্লাজা(৩য় তলা উত্তর পাশ), করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী। মোবাইল: সম্পাদক-০১৭১২৫৯৩২৫৪, ০১৮১২৩৩১৮০৬, ইমেইল-:: jatiyanishan@gmail.com, Emonpress@gmail.com