August 5, 2017
আর কত ধর্ষিত হবে নারী!!

indexইয়াকুব নবী ইমন: আজ কাল পত্রিকার পাতা উল্টোলেই দেখা যায় ধর্ষনের খবর। টিভি পর্দায় চোখ রাখলেই দেখি ধর্ষনের ভয়াবহ চিত্র। আমার জানা মতে গত ২৪ ঘন্টায় সারা দেশে একাধিক ধর্ষন সহ অন্তত ১১টি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। একটি অনলাইন পত্রিকার সূত্রে এই ঘটনাগুলো আমি জানতে পারি। ’মাদারিপুরে কলেজ ছাত্রীকে প্রেমিকসহ বন্ধুরা মিলে গণধর্ষন’, ’নওগায় বাকপ্রতিবন্ধীকে পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষন’, ’রাজশাহীতে  আড়াই বছরের শিশুকে ধর্ষনের চেষ্টা’ ’ ঢাকায় সৌদি পাঠানোর কথা বলে গৃহবধুকে ১০ দিন আটকে রেখে ধর্ষন’ টাঙ্গাইলে নির্জন ঘরে আটকে রেখে কিশোরীকে ৭ মাস ধরে ধর্ষন, ধর্ষক চাচা আটক’ ’বগুড়ায় প্রেমিক কর্তৃক স্কুল ছাত্রী ধর্ষিত’ রাজশাহীতে ধর্ষনের পর ভিডিও প্রকাশ, কলেজ ছাত্র গ্রেফতার’ ’রাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানির অভিযোগ’ রাজশাহীতে বাসা থেকে তুলে নিয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রীকে ধর্ষনের অভিযোগ’ বগুড়ায় কিশোরী ধর্ষন ও মা-মেয়ের মাথা নাড়া: তুফান ও কাউন্সিলর রুমকি রিমান্ডে’ ’সিরাজগঞ্জে রাতে আধারে ঘরে ঢুকে গৃহবধুকে ধর্ষন। আহা আর কত লিখবো প্রিয় পাঠক, ২৪ ঘন্টার ধর্ষনের শিরোনাম লিখতে গিয়েই আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। আশ্চর্যের বিষয় হলো -এই ঘটনাগুলো মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে। সেই সূত্রে আমি লিপিবদ্ধ করেছি। আরো কত এমন ধর্ষনের ঘটনা দেশের আনাছে কানাছে ঘটছে আর তা লোক লজ্জার ভয়ে মাটি চাপা পড়ে যাচ্ছে। অনেকে মুখ বুঝে সহ্য করছে। ধর্ষনের যন্ত্রনা সহ্য করা কত কঠিন তা ওই ধর্ষিতা ছাড়া কেউ বুঝতে পারেনা। আমাদের দেশের সমাজ ব্যবস্থায় একটি নারী নির্যাতনের ঘটনা বা ধর্ষনের মতো ঘটনা যত দ্রুত ধামাচাপা দেওয়া যায় ততই মঙ্গল মনে করেন অনেকে। এমনি ধর্ষিতার পরিবারও। কিন্তু কেন দেশে এমন ধর্ষনের ঘটনা ঘটছে। এই নিয়ে কারো কোন মাথা ব্যথা নেই। মাথা ব্যথা শুধু আমার মতো (দু’এক কলম লেখার যোগ্যতাও নেই) আমজনতার।
প্রিয় পাঠক এই কলামটি লেখার আগে গতকাল বিকালে আমি আমার ফেসবুক আইডিতে ’ধর্ষকদের ফাঁসি চাই’ শিরোনামে একটি লেখা দিয়েছিলাম। সেখানে দু’একজন ছাড়া অনেকেই আমার  সাথে একমত পোষন করেন। এরমধ্যে কয়েকজন রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিও রয়েছেন। তাদের ধন্যবাদ জানাই বিষয়টি উপলব্ধি করার জন্য। কারণ এই মূহুর্তে এর বিকল্প আর দেখছিনা। ধর্ষন ঠেকাতে এই এখন প্রযোজ্য।
পাঠকের বুঝার সুবিধার্থে এখাতে তা হুবহু তুলে ধরছি।
”ধর্ষকদের ক্রসফায়ার চাই!!!!!!!!চার দিকে শুধু ধর্ষণ আর ধর্ষণ, আগে বাসা বাড়িতে, আবাসিক হোটেলে, নির্যন স্থানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও এখন চলন্ত বাসে, ট্রাকে, বিমানে, নৌকায়, ট্রলারে ধর্ষিত হচ্ছে নারি, শিশু, কিশোরি, তরুনি। কেন তারা ধর্ষিত হচ্ছে, কারা তাদের ধর্ষণ করছে, দায়ি কি ধর্ষক? ধর্ষিতা, না কি তাদের অভিভাবক। প্রশ্ন আরো আছে, ধর্ষণের জন্য পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক পেক্ষাপট কোন অংশেই দায়ী কম নয়, আমাদেও দেশে সব অপরাধের পেছনে রাজনৈতিক দূর্বৃত্তায়ন কাজ করে। তাই এ পর্যায়ে এসে আমি মনে করি ধর্ষণ ঠেকাতে ধর্ষকদের ক্রসফায়ার দেয়া হোক। যেমনটা দাবী করেছিলাম খুনিদের ক্ষেত্রে। প্রকৃত অপরাধীকে ক্রসফায়ার দিলে আমার কোন আপত্তি নাই, তাই ধর্ষকদেরও এই আওতায় আনা দরকার বলে আমি মনে করি। তবে মা বোনদেরকে বলবে-আরেকটু শালিন হোন, পর্দা করুন, সম্মান পাবেন, ধর্ষিত হবেন না। দুনিয়া ও আখেরাতের কথা চিন্তা করে সবাইকে নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার অনুরোধ করছি। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দিন আর শয়তানের ধোকা থেকে রক্ষা করুন।”
এমন স্টাটাসের পর ধর্ষন নিয়ে লেখার জন্য অনেকে আমাকে অনুরোধ করেছেন। আসলে একজন নারী কখন ধর্ষিত হয়, আর এর পেছনে দায়ীগুলো আগে আমাদের চিহিৃত করতে হবে।
আমার এক প্রতিবেশী একবার কথার চলে বলেছিলেন-’ আরে হুনেন মিয়া যত দিন আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে বেহায়াপনা বন্ধ হবেনা ততদিন ধর্ষন তলতেই থাকবে, চলতেই থাকবে, আমি তার কথায় হা করে তাকিয়ে থেকে বললাম, ভাই বুঝিয়ে বলেন-তিনি বললেন, আমাদের দেশের বর্তমান অবস্থা হচ্ছে এমন- রাতে বা দিনে পিতা যায় গার্ল ফ্রেন্ডের সাথে ডেটিং করতে, মা যায় বয় ফ্রেন্ডের সাথে সেটিং করতে আর তাদের সন্তানরা যায় বন্ধুদের সাথে পিটিং করতে। তার কথা শুনে আমি অবাক হলেও কিছু বলার ছিলনা। শুধু মাথা নাড়িয়ে সায় দিয়ে নিজের পথ ধরলাম। পরে ভাবলাম আসলেও তাই। বর্তমান সমাজেতো তাই হচ্ছে। কে শুনে কার কথা। এমন জোড়া লাগানো সংসার থেকে কি আপনি ভালো কিছু আশা করতে পারেন। নিশ্চই না। তাইলে আমার ঘরের ওই মেয়েটি বন্ধুর হাতে ধর্ষিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ সেতো ধর্ষিত হতেই বন্ধুর কাছে পিটিং করতে গেছে। তবে হ্য, যদি ওই পরিবারের বাবা-মা শালিনতার মধ্যে থাকতেন, নিজেদের আড্ডার কথা চিন্তা না করে সন্তানের কথা চিন্তা করতেই তাহলে হয়তো আমার অনেক বোন ধর্ষনের হাত থেকে রেহাই পেত। তাই আমি মনে করি ধর্ষনের মতো ভয়াবহ নারী নির্যাতনের ঘটনা থেকে সন্তানদের বাঁচতে আমাদের বাবা-মা তথা অভিভাবকদের আরো সচেতন হতে হবে। অভিভাবকের পাশাপাশি সমাজ, এলাকাবাসী ও সরকারকেও এগিয়ে আসত হবে। তবেই আমরা পাবো নারি নির্যাতন মুক্ত একটি সুন্দর সমাজ। ইয়াকুব নবী ইমন, সম্পাদক, দৈনিক জাতীয় নিশান। ০১৭১২৫৯৩২৫৪।

Spread the love


প্রতিষ্ঠাতা: মরহুম কাজী মো: রফিক উল্যাহ, সম্পাদক: ইয়াকুব নবী ইমন, প্রকাশক: কাজী নাজমুন নাহার। সম্পাদক কর্তৃক জননী অফসেট প্রেস, ছিদ্দিক প্লাজা, করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী থেকে মূদ্রিত।

বার্তা, সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ছিদ্দিক প্লাজা(৩য় তলা উত্তর পাশ), করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী। মোবাইল: সম্পাদক-০১৭১২৫৯৩২৫৪, ০১৮১২৩৩১৮০৬, ইমেইল-:: jatiyanishan@gmail.com, Emonpress@gmail.com