,

খুলনায় কলম সন্ত্রাসী শিবির ক্যাডার সাইফুলকে গ্রেফতার দাবী

annadiganta-7-4-e1530287307901

খুলনা প্রতিনিধি: শিবিরের রাজনীতি থেকে কীভাবে খুলনায় সাংবাদিক পরিচয়ে সাইফুল ইসলাম উঠে এলেন, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের সবার মুখে একই কথা ‘শিবির নেতা কি করে খুলনার আঞ্চলিক পত্রিকা দৈনিক প্রবাহের স্টাফ রিপোর্টার হয় ?

হঠাৎ করেই মোড়লগঞ্জ থেকে উধাও হয়ে গেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ হোগলাবুনিয়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম । যুদ্ধাপরাধীর দল জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন ছাত্রশিবিরের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ভয়ঙ্কর সাথী ক্যাডার সাইফুল।একের পর এক জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিচার চলাকালে ও রায় ঘোষণার সময়ে মোড়লগঞ্জ সহ খুলনা ও সাতক্ষীরায় সহিংস সন্ত্রাসী তৎপরতায় জড়িত শিবির ক্যাডার সাইফুল ইসলাম।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মোঃ সাইফুল ইসলাম। ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুলনার আঞ্চলিক পত্রিকা দৈনিক প্রবাহের স্টাফ রিপোর্টার শিবির নেতা মোঃ সাইফুল ইসলাম https://www.facebook.com/smcsaiful.islam একাউন্টে শিবিরের সমর্থক হওয়ার বিভিন্ন প্রমাণ মিলেছে।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, হোগলাবুনিয়া ইউনিয়ন মোরেলগঞ্জ বাগেরহাট এই পেইজের এ্যাডমিন হোগলাবুনিয়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম ছিলেন।

এছাড়া শিবিরের পাতা বাঁশের কেল্লা সহ সরকার বিরোধী একাধিক পেজেরও এ্যাডমিন ছিলো সাইফুল। বিভিন্ন সহিংসতার আগ মূহুর্তে পেজ থেকে স্টাটাস দিয়ে মিলিত হলেন এমন প্রমানও মিলেছে তার ব্যবহারিত ফেসবুজ পেজগুলো থেকে।

ঐ সকল পেজ থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে অশ্লীল মন্তব্যও রয়েছে।

অভিযোগ আছে, বড় ধরনের হামলা-হাঙ্গামার সাথে জড়িত শিবির ক্যাডাররা প্রায় মোঃ সাইফুল ইসলামের মেসে এসে নিজেদের আস্তানা গড়ে তুলতো এবং গোপন বৈঠক ও বিভিন্ন দিক নির্দেশনা সেখান থেকেই পরিচালনা হতো।

এক সময়ের দূর্ধরর্ষ শিবির ক্যাডার খুলনায় এসে দীর্ঘদিন ছিলেন নিষ্ক্রিয়। পরে নিজের কাঁধের উপর ঝুলে থাকা মামলা- গ্রেফতার আর গা থেকে শিবিরের ট্যাগ মুছতে বন্ধুদের সঙ্গে শুরু হয় ছাত্রলীগের মিছিল-সমাবেশে আসা যাওয়া।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঝামেলা এড়াতে চাকরি নেয় খুলনার আঞ্চলিক পত্রিকা দৈনিক প্রবাহের স্টাফ রিপোর্টা হিসাবে।

বর্তমানে আওয়ামী লীগার সেজে প্রবল প্রতাপে বহাল তবিয়তে চালাচ্ছেন সবকিছু।

এরপর কখনই নিজ এলাকায় যেতেন না এই শিবির নেতা সাইফুল ইসলাম। কারণ ভয় ছিল থলের বিড়াল বেরিয়ে না যায়! এলাকায় গেলেই তো, আগের রাজনৈতিক তথ্য ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর এ কারণে শিবিরের রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে নিজেই খুব একটা আলোচনায়ও থাকতেন না সাইফুল ইসলাম ।

অভিযোগের সত্যতা জানতে কথা হয় মোরেলগঞ্জ হোগলাবুনিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ডাঃ আকতারুজ্জামান সঙ্গে তিনি জানান, স্থানীয় শিবিরের বড় নেতা ছিল সাইফুল ইসলাম ।শিবিরের কমিটিতে দায়িত্ব পালন করে সে। দিনের আলোর মতো সত্য যে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীরা তাদের এই অবরোধের নামে জ্বালাও, পোড়াও, ভাংচুর, বোমা হামলা ও পেট্রোল বোমা মেরে সাধারণ জনগণকে পুড়িয়ে মারার কাজে লিপ্ত। জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা উচিৎ। এরা দেশ ও জাতির শত্রু।

মোরেলগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোকলেসুর রহমান জানান , দেশজুড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে নাশকতা ও সহিংসতার মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের পতন ঘটাতে ছক কষে মাঠে নেমেছে জামায়াত-শিবির। সাধারণ জনগণকে পুড়িয়ে মারার কাজে লিপ্ত। জড়িত সকলকে আইনের আওয়তায় আনা হবে। মোরেলগঞ্জে সন্ত্রাসী তৎপরতায় জড়িত শিবির ক্যাডার সাইফুল ইসলাম তাকে গ্রেফতার করে আইনে আওয়তায় এনে শাস্তির দাবী করছি।

মোরেলগন্জ উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ওবাইদুল ইসলাম টিটু জানান, সাইফুল ইসলাম ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ হোগলাবুনিয়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ছিলেন সাইফুল ইসলাম। এই দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে তৎপর রয়েছে তারা। যুদ্ধাপরাধের বিচার চলাকালে ও রায় ঘোষণার সময়ে মোরেলগঞ্জে সহিংস সন্ত্রাসী তৎপরতায় জড়িত শিবির ক্যাডার সাইফুল ইসলাম, তাকে গ্রেফতার করে আইনে আওয়তায় এনে শাস্তির দাবী করছি।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম এমদাদুল হক এমদাদ জানান, মোরেলগঞ্জ উপজেলায় জামায়াত-শিবির কর্মী লাঠি-সোটা নিয়ে বিভিন্ন জঙ্গি স্লোগান করেছেন। আজ পর্যন্ত, যত জঙ্গি বাংলাদেশে গ্রেফতার হয়েছে তারা সব জামায়াতের অথবা এর ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবিরের সদস্য ছিল। এদের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করা উচিৎ।

একই কথা জানালেন- স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বাল্যকালের বন্ধুদের কথাতেও মিল পাওয়া যায় শিবির ক্যাডার সাইফুল ইসলাম শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অনেক তথ্য।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল বলেন, জঙ্গীবিরোধী অভিযান জোরদার করার পর শিবিরের সন্ত্রাসীরা এখন ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে আত্মগোপন করে আছে। ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মী মোটরসাইকেলে প্রেস স্টিকার লাগিয়ে নিরাপদ ঘুরে বেড়ান।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঝামেলা এড়াতে তাই তাঁরা প্রেস স্টিকার লাগাতেন। ছাত্রশিবিরের সাথী, নেতাকর্মীদের মামলায় অভিযুক্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। বিগত সময়ে শিবির ক্যাডারদের অনেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েও শিবিরের সাথী পরিচয় দেয়নি তারা। সংগঠনের পরিচয় লুকিয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত পরিচয় কিংবা ভুয়া পরিচয় দিয়ে নিজেদের আড়াল করার চেষ্টা করে এসব সাথী ক্যাডার। যারা এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছে এবং মদদ দিচ্ছে, তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে খুলনার নারী সাংবাদিক ইশরাত ইভা খুলনার কন্ঠের প্রকাশক, দৈনিক অন্য দিগন্তের খুলনা ব্যুরো প্রধান এবং আন্তজার্তিক আওয়াজবিডির খুলনা ব্যুরো প্রধান ও তার স্বামী শেখ রানা খুলনার কন্ঠের সম্পাদক কে নিয়ে নিউজ হয় তিনটি অনলাইন পোর্টালে। পোর্টালগুলো, খুলনা টাইমস, খুলনা ভিশন২৪ ও মধুমতি২৪ অনলাইনে এবং এই মধুমতি অনলাইন পোর্টাল নতুন খুলেছে শিবির নেতা সাইফুল ইসলাম। এটাকেই তিনি সরকার বিরোধী একটি প্লাটফর্ম করে তুলতে চেয়েছিলেন।

এ বিষয়ে কথা হয় সাংবাদিক ইশরাত ইভার সাথে। তিনি বলেন, খুলনার একটি মহল যেখানে কিছু কথিত সাংবাদিক রয়েছে তারা তাদের নিজের দোষ ঢাকতেই আমাকে ও আমার স্বামীকে নিয়ে ভূয়া নিউজ ছাপিয়েছে। নিউজের হেডলাইন দেয় সাইবার ক্রাইম গ্রুপের হোতা আমি কিন্তু এটা পুরোপুরি মিথ্যা। আমার নিজস্ব ফেসবুক আইডি দিয়ে আমি প্রায় দু বছর সরকারী নিউজ ও অনলাইনে প্রচার প্রচারণার জন্য একটি ফেসবুক গ্রুপ করি নাম তার ‘বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ অনলাইন সাপোটারর্স’ এই গ্রুপটাকে তারা বন্ধ করতে তৎপর হয়ে ওঠে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে তারা কিছু নামধারী সাংবাদিক মিলে আমাকে অনলাইন প্রচার গ্রুপকে সাইবার ক্রাইম গ্রুপ করে দেয়। তাদের আরেকটি উদ্দেশ্য ছিলো, তা হলো গতবছর খালিশপুরের জামায়াত নেতা ভূমিদস্যু তকদির হোসেন বাবুকে নিয়ে আমি তিন পর্বের নিউজ করি। তাতে এই ভূমিদস্যু বাবু ক্ষিপ্ত হয়ে অন্যের ফেসবুক আইড দিয়ে আমার ও আমার স্বামীর নামে মিথ্যা ৫৭ধারায় মামলা করে এবং সেই মামলায় আমরা জামিন নেই। তারপরই ভূমিদস্যু বাবু হয়ে ওঠে আরো সহিংস। আমাকে এসিড ছুড়ে হত্যার হুমকি দেয় প্রকাশ্যে।

আমি ভূমিদস্যু বাবুর নামে খুলনা সদর থানায় ৪ই এপ্রিল ২০১৭তে ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের করি। আমার এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে দোষী প্রমান করে চার্জশিট আদালতে জমা দেয়। ভূমিদস্যু বাবু এই মামলায় জামিন নিয়েছে এবং খালাসের জন্য আদালতে আরজি জমা করেছে। নিজেকে সে নির্দোষ প্রমান করতেই বড় অংকের অর্থের বিনিময়ে সাইফুল ইসলাম সহ আরো কয়েকজনকে দিয়ে ভূয়া সংবাদ করায়।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রতিষ্ঠাতা: মরহুম কাজী মো: রফিক উল্যাহ, সম্পাদক: ইয়াকুব নবী ইমন, প্রকাশক: কাজী নাজমুন নাহার। সম্পাদক কর্তৃক জননী অফসেট প্রেস, ছিদ্দিক প্লাজা, করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী থেকে মূদ্রিত।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ছিদ্দিক প্লাজা(৩য় তলা উত্তর পাশ), করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী। মোবাইল: সম্পাদক-০১৭১২৫৯৩২৫৪, ০১৮১২৩৩১৮০৬, ইমেইল-:: jatiyanishan@gmail.com, Emonpress@gmail.com
Developed By: Trust soft bd