,

ছাত্রলীগের পরবর্তি সভাপতি পদে আলোচনায় জুয়েল

8

নিশান ডেক্স: ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন শিগ্রই হওয়ার আবাস পাওয়া গেছে। এখন শুধু নির্দিষ্ট দিনের অপেক্ষার পালা। নেতা-কর্মীদের একটাই প্রশ্ন কে হচ্ছেন এই বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
এদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রত্যাশিত পদ পেতে রীতিমতো দৌড়ঝাঁপ করছেন। নারী সদস্যও পেতে পারেন কেন্দ্রীয় সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা অন্য শীর্ষ পদ। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
সম্মেলনের আলোচনায় তৃণমূলের আলোচনায় বর্তমান কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সহ-সভাপতি তৃনমুল থেকে উঠে আসা নুরুল করিম জুয়েল। নম্র,ভদ্র, সদা হাস্যেজ্জল ছাত্র নেতা শুরু থেকেই কেন্দ্রের নেতাদের
দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ছাত্রলীগ সহ সভাপতি হওয়ার প্রায় আড়াই মাসের মধ্যে নোয়াখালী আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করার লক্ষে পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করান এছাড়াও ঐতিহাসিক সম্মেলন আয়োজনের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এর উপস্থিতিতে নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ কমিটি দেন, ইতোমধ্যে নোয়াখালী জেলা, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সম্মেলন সহ কবিরহাট, সেনবাগ, বেগমগঞ্জ, সুবর্ণচর উপজেলা, চৌমুহনী কলেজ, পৌরসভার কার্যক্রমকে বেগবান করার লক্ষে কেন্দ্রে একাধিক মিটিং করেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কর্তৃক সাংগঠনিক দায়িত্ব প্রাপ্ত জেলা মুন্সিগঞ্জ ইউনিটকে সুসংগঠিত করার লক্ষে বার বার জেলা সফর করেন এবং একাধিকবার মতবিনিময় সভা করেন। ইতিমধ্যে নিজ এলাকা সহ প্রায় ৩০টি মাদ্রাসায় ছাত্রলীগ কমিটি গঠন করে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। ২০০১ সালে বি এন পি জামাত ক্ষমতা আসার পর ছাত্রলীগ করার কারনে এস.এস.সি পরিক্ষা দিতে দেয়া হয়নি এই ছাত্রলীগ নেতাকে। তার পর বিভিন্ন নির্যাতনের কারনে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হন পরিবারসহ। হাজারীহাট বাজারে তার বাবার দোকান ভাঙ্গচুর করার প্রতিবাদ করায় দশম শ্রেণীতে থাকা অবস্থায় একদিন জেলও খাটতে হয় তাকে। তার পর বিভিন্ন নির্যাতনের কারণে গ্রম ছাড়তে বাধ্য হন এই ছাত্রনেতা। ঢাকায় গিয়েও দমে থাকেননি এই নেতা, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনতে শুনতে বড় হতে থাকা রাজনীতি থেকে দূরে সরাতে পারেনি তার পরিবার, এ জন্য বাবার হাতে অনেক মারও খেতে হয়েছে। নিয়মিয় দলীয় পোগ্রাম আর সভা সমাবেশ যোগদানের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ছাত্র নেতা ইস্কান্দার মির্জা শামীম ও তৎকালিক সভাপতি লিয়াকত শিকদারের সাথে পরিচয় হয় এই নেতার, ছোট থাকার কারনে আলাদাভাবে সভার নজরে আসে রিপন, রোটন সহ অনন্য ছাত্র নেতাদের। নিয়মিত দলের মিছিল মিটিংয়ে থাকতেন। তেজগাঁও কলেজ ছাত্রলীগ সাথে যুক্ত হন ফরিদপুর রহমান ইরানের হাত ধরে। ২১ আগস্ট শত শত নেতা কর্মীর সাথে এই জুয়েল ও আহত হন সেই সময়। ২০০৪ সালে ২১ শে আগস্ট পর থেকে আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ওবাদুল কাদের সাথে নিয়মিত হন এই ছাত্রনেতা। কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে পা রাখেন সোহাগ, নাজমুল কমিটির মাধ্যমে সহ সম্পাদক হয়ে ২০১১সালে।
২০১১ সালে মে মাসে জামাত-বিএনপির রোষানলে পড়ে জুয়েলের পুরো পরিবার। রাতের অন্ধকারে জামাত বিএনপির লোকেরা এক বর্বরোচিত হামালা চালালে অল্পের জন্য প্রানে বেচে তার মা ও তিনি। এতে পরিবারের অন্যরাও আহত হন। এক একটা দিন করে মৃত্যুর সাথে লড়াই করে ২৩ দিন ভর্তি ছিলেন ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে।
সর্বশেষ দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মৃত্যুদন্ড ঘোষানার রাতে তার বাড়িতে আগুন দেয়া হয়। আাগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয় স্থানীয় আওয়ামীলীগ অফিস সহ আসবাবপত্র কাদের মোল্লার ফাঁসির দিন।
জামাত বিএনপি অধুষ্যিত এলাকা থেকে উঠে আসা এই ছাত্র নেতা সিনিয়র, জুনিয়র সবার সাথে গড়ে তুলেন মধুর সম্পর্ক। গত কয়েক বছর এলকার বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজের মাধ্যমে জয় করে নেন এলাকার সাধারণ মানুষের মন। বাবা নুরুল হুদা ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ সভাপতি হওয়ায় নানান সময় দেখা যায় এলাকার মানুষের অভাব অভিযোগ নিজেকে শুনতে হয়। সমাধান দিতে হয় বাবা ছেলের সমন্বয়ে এগিয়ে চলছে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন। উল্লেখ্য সমাজসেবামূলক কাজের অংশ হিসেবে তরুন এই ছাত্র নেতা বিগত পাঁচ বছর যাবৎ ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করে আসছেন এবং এতিম অসহায় ছাত্রদের নানা ভাবে সহযোগীতা করে আসছেন। বাবা ছেলে মিলে গ্রামে এতিম খানা ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা এবং একটা মসজিদ তৈরি করেছেন। তিনি দিন রাত নিজেকে সাংগঠনিক কাজে জেলা টু জেলা, ইউনিট টু ইউনিট, দপ্তর টু দপ্তরে নিয়োজিত রাখছেন। দেখা যায় প্রয়োজন ব্যতীত নিজেকে ভোগ বিলাসিতা থেকে দূরে রাখছেন। মাঝে মাঝে আপোসহীন পরিশ্রমী এই নেতাকে পাঁয়ে হেঁটেও গন্তব্যে পোঁছাতে দেখা যায়।
সব মিলিয়ে এসব কারনেই তৃনমুলের ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের অনেক নেতার সভাপতি হিসেবে পছন্দের তালিকায় নুরুল করিম জুয়েল। নোয়াখালীবাসী ত্যাগী ছাত্র নেতার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রতিষ্ঠাতা: মরহুম কাজী মো: রফিক উল্যাহ, সম্পাদক: ইয়াকুব নবী ইমন, প্রকাশক: কাজী নাজমুন নাহার। সম্পাদক কর্তৃক জননী অফসেট প্রেস, ছিদ্দিক প্লাজা, করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী থেকে মূদ্রিত।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ছিদ্দিক প্লাজা(৩য় তলা উত্তর পাশ), করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী। মোবাইল: সম্পাদক-০১৭১২৫৯৩২৫৪, ০১৮১২৩৩১৮০৬, ইমেইল-:: jatiyanishan@gmail.com, Emonpress@gmail.com
Developed By: Trust soft bd