,

নোয়াখালীতে টার্কি মুরগী পালনের উজ্জল সম্ভাবনা

নিশান ডেক্স: দেশে ক্রমবর্ধমান মাংশের চাহিদা মিটাতে পোল্ট্রি শিল্পের পাশাপাশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে টার্কি মুরগীর পালন। টার্কি পালনে খরচ কম হওয়ায় এবং অল্প সময়ে অধিক লাভের পাশাপাশি টার্কি বিদেশেও রপ্তান্তি করা যায়। আর তাই পোল্ট্রি শিল্পের বিকল্প হিসেবে টার্কি শিল্পের দিকেই ঝুঁকছেন নোয়াখালী অঞ্চলের খামারিরা। তবে টার্কি পালনে সরকারী ভাবে কোন সহযোগিতা না থাকা ও মাঠ পর্যায়ে প্রানী সম্পদ কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারনেই বাঁধার মুখে পড়ছে সম্ভাবনাময় এ নতুন শিল্পটি। খামারে মুরগি পালন করতে উৎপাদন খরছ মেটাতেই অনেকে লোকশানে পড়ে খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। তাই খামারের প্রতি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন নোয়াখালী অঞ্চলের অনেক খামারী। তবে টার্কি মুরগীর পালন নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে এ অঞ্চলের মানুষের মনে। গেল কয়েক বছর ধরে টার্কি মুরগী পালন করে নতুন করে লাভের মুখ দেখছেন খামারীরা। টার্কি পালনে খরচ কম হওয়ায় এবং অল্প সময়ে অধিক লাভের পাশাপাশি টার্কি বিদেশেও রপ্তান্তি করে অধিক লাভবনা হওয়া যায়। তাই পোল্ট্রি শিল্পের বিকল্প হিসেবে টার্কি শিল্পের দিকেই ঝুঁকছেন খামারিরা। সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন কর্মসংস্থান। তবে টার্কি মুরগী পালনে সরকারী ভাবে কোন সহযোগিতা না থাকা ও মাঠ পর্যায়ে প্রানী সম্পদ কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারনে বাঁধার মুখে পড়ছে সম্ভাবনাময় এ নতুন শিল্পটি।
বিগত কয়েক বছর ধরে সেনবাগে টার্কি পাখি পালন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সৌদি প্রবাসী কামাল হোসেন ভূঁইয়া (৪০)। ২০১৬ সালে জীবিকার সন্ধানে আমেরিকা গিয়ে ওয়াশিংটনে দেখতে পান টার্কি পাখির খামার। সেখানে থেকে তিনি টার্কি পাখি পতি-পালনে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এরপর ২০১৭ সালে তিনি ভারতের মাদ্রাজ থেকে দুইলাখ টাকা দিয়ে ২০০ পিস (টম ও হ্যান্ড) জাতের পুরুষ ও নারী টার্কি পাখি সংগ্রহ করে সেনবাগ উপজেলার ৫নং অজুর্নতলা ইউনিয়নের উত্তর মানিকপুর গ্রামে খামার গড়ে তোলেন। বর্তমানে তার টার্কি খামারে ২হাজার পিস টার্কি পাখি রয়েছে। ওই টার্কি খামার থেকে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২শ পিস ডিম পাওয়া যাচ্ছে। ওই ডিম থেকে তিনি ইন্টিভিটর মেশিনে সাহায্যে বাচ্ছা উৎপাদন করছে। একই সঙ্গে বাচ্ছা ও বয়স্ক টার্কি পাখি বিক্রি করে বেশ আয়-রোজগার করে তিনি সাবলম্ভী হয়েছে তিনি। তার খামার থেকে বাচ্ছা নিয়ে ইতিমধ্যে ১০/১২টি খামার গড়ে তুলেছেন সেনবাগসহ আশপাশে^র শিক্ষিত ও অর্থ শিক্ষিত বেকার যুবক ও যুব মহিলারা। বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে টার্কি খামারী পরিদর্শনে গেলে সৌদি প্রবাসী কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া জানায় তিনি প্রতিটি ১৫ থেকে ৩০ দিনে বাচ্ছা বিক্রি করেন ৭শত টাকা ও ২মাসের প্রতিটি বাচ্ছা বিক্রি করেন ২৫শ টাকা। অপরদিকে মাংসের প্রতিকেজী টার্কি তিনি বিক্রি করেন ৬শ থেকে ৭শত টাকায়। প্রতিটি টার্কি ৮ থেকে ২৮ কেজী পর্যন্ত ওজন হয়। টার্কির ক্রেতা ঢাকা ও চট্টগ্রামের অভিজাত হোটেল -রেস্তোরা যেমন হোটেল শেরাটন। ঢাকা থেকে ক্রেতারা গাড়ি নিয়ে এসে টার্কি পাখি গুলো নিয়ে যায়। তিনি আরো জানান,এই পাখি গুলো পতিপালন একেবারে সহজ বালু ভর্তি ফ্লোর সেডে থাকতে অভ্যস্ত।এগুলো খাদ্য হচ্ছে সবুজ ঘাস ও লতাপাতা এবং পোল্টি ফিড। একটি প্রাপ্ত বয়স্ক পাখি প্রতিদিন একশ গ্রাম খাদ্য খায়। এর মধ্যে সবুজ ঘাস ৮০ ভাগ। তিনি আরো জানান,গ্রামের মা-বোন ও শিক্ষিত-অর্থ শিক্ষিত বেকার যুবকরা এই পাখি পালন করে সহজেই সাবলম্বী হতে পারে। যেনম একজোড়া বাচ্ছা টার্কি পাখির মুল্য ১৪ শ টাকা । তিন মাসে ওই বাচ্ছা পাখিটির নুন্যতম ওজন ৩ কেজী তা হলে পাখিটির মূল্য দাড়বে ৭শ টাকা হাওে ২১শত টাকা ৬মাসে প্রতিকেজী টার্কি ৫হাজার ৬শত টাকা। এছাড়াও প্রতিটি টার্কি ৬মাস বয়স থেকে ডিম দেওয়া শুরু করে যা টানা ৬মাস পর্যন্ত ১৮০টি ডিম দেয়। প্রতিটি ডিমের মূল্য ২শত টাকা।
তিনি আরো জানান, টার্কি খামারিদের নিকট থেকে তিনি পাখিগুলো ক্রয় করে বিক্রির ব্যবস্থা করেন। এবং ডিমগুলো বিনামূল্য ইন্টিভিটর মেশিনে ফুটিয়ে খামারিদের সরবরাহ করেন।
এ ব্যাপারে নোয়াখালী জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ড. মো: জাকির হোসেন জানান, মাঠ পর্যায়ে প্রানী সম্পদ কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কথা অস্বীকার করে টার্কি মুরগী পালনে খামারীদের উদ্বুদ্ধ করনের পাশাপাশি নানা রকম পরামর্শ দেওয়ার কথা জানালেন তিনি। তবে টার্কি মুরগী পালন করে দেশে মাংশের চাহিদা পূরন ও বিদেশে রপ্তানি করে বিদেশী মুদ্রা অর্জনের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারী ভাবে আরো বেশি উদ্যেগ নেয়া হবে এমতনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় মুরগী খামারিদের ।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রতিষ্ঠাতা: মরহুম কাজী মো: রফিক উল্যাহ, সম্পাদক: ইয়াকুব নবী ইমন, প্রকাশক: কাজী নাজমুন নাহার। সম্পাদক কর্তৃক জননী অফসেট প্রেস, ছিদ্দিক প্লাজা, করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী থেকে মূদ্রিত।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ছিদ্দিক প্লাজা(৩য় তলা উত্তর পাশ), করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী। মোবাইল: সম্পাদক-০১৭১২৫৯৩২৫৪, ০১৮১২৩৩১৮০৬, ইমেইল-:: jatiyanishan@gmail.com, Emonpress@gmail.com
Developed By: Trust soft bd