,

নোয়াখালীর সড়কগুলোতে যেন মৃত্যুর ফাঁদ, কার্যকর পদক্ষেপ নেই কর্তৃপক্ষের

14

নিশান ডেক্স: নোয়াখালীর সড়ক-মহাসড়ক গুলোতে যেন প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হয়েছে। জেলা শহর সদর থেকে শুরু করে উপজেলাগুলোতেও একের পর এক ঘটছে সড়ক দূর্ঘটনা। দূর্ঘটনা রোধে নেই কোনো কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ। এসব সড়ক দুর্ঘটনায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে চালকদের বেপরোয়া গতি, রাস্তার ওভারেটিং প্রতিযোগিতা ও অদক্ষতার কারণেরই ঘটছে এইসব দূর্ঘটনা। এতে করে মৃত্যুর পাশাপাশি অনেকেই সারা জীবনের জন্য পঙ্গুত্ব জীবন যাপন করতে হচ্ছে। গণপরিবহন গুলোর দ্রুত গতি ও রাস্তার ওভারেটিং রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়াই কেবল আরো বেড়েই চলেছে দূর্ঘটনা। বিশেষ করে সড়কে সিএনজি অটোরিক্সা, টমটম ও জীপগাড়ির বেশীর ভাগ চালকরাই কিশোর ও অদক্ষ হওয়ায় রাস্তায় কোনো নিয়ম কানুন না মেনে বেপরোয়া গতিতে দূর পাল্লার পরিবহনের সাথে ওভাররেটিং প্রতিযোগিতা দিতে গিয়ে বেশীর ভাগ দূর্ঘটনার কবলিত হচ্ছে। অন্যদিকে আবার সিএনজি অটোরিক্সাগুলোর মালিকের পক্ষ থেকে চালকদের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নেওয়ায় চালকরা তাদের টার্গেট লক্ষ করতে গিয়েই কেবল সড়কের বেপরোয়া গতিতে যাত্রী উঠা নামা থেকে শুরু করে রাস্তায় অস্বাভাবিক পরিস্থিতি শুরু করে তারা। অনেক সময় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য যাত্রীদের সাথে শুরু হয় সিএনজি অটোরিক্সা চালকদের বাকবিন্ডতা। সিএনজি অটোরিক্সা মালিকরা চালকদের নির্দিষ্ট হারে টাকা ধার্য করে দেওয়াই চালকরা নির্দিষ্ট টাকা যোগাড় করতে সড়ক-মহাসড়কগুলোতে করতে হচ্ছে প্রতিযোগিতা। এদিকে গত এক মাসে নোয়াখালীতে বেশ কয়েকটি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার সকালে নোয়াখালী সেনবাগ উপজেলার রাস্তারমাথা এনকে এন্টার প্রাইজের সামনে একটি সিএনজি ও পিকআপের মুখোমুখি সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে ২জন নিহত হয় এবং হাসপাতালে আরো ২ জন নিহত ও ৫জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন সেনবাগ উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের উত্তর রাজারামপুর গ্রামের ঈমান আলী খান বাড়ির ফিরোজা বেগম (৫০), তার ছেলে কুয়েত প্রবাসী মোহন খান (৩৫) ও নাতী মিরন খান (৬), সিএনজি চালক আবু তাহের (২৫)। আহতরা হলেন শিম (২৬) ও পিকআপের চালক ও আরোহী। এছাড়া একই উপজেলার গত ৩১ আগস্ট ,সৈয়দা বেগম নামের এক বৃদ্ধা রাস্তা পারাপারের সময় কাদরা ভূঁইয়া বাড়ির দরজায় দ্রুত গতির একটি সিএনজি চালিত অটো রিক্সা চাপায় দিলে গুরুত্বর আহত হয় তিনি। পরে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকলে মারা যান। একই দিন সোনাপুর-রামগতি সড়কের মো: সাইফুল্লাহ নামের আরেক আরোহীকে রামদয়াল বাজার সংলগ্ন অপর দিক থেকে আসা একটি বাস তার মোটরসাইকেলকে চাপা দিলে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান। এদিকে ২৮শে আগষ্ট কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বসুরহাট-নাজির মিয়া সড়কের পাশে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে অপর দিক থেকে আসা দ্রুত গতির একটি সিএনজি ছাপা দেয়। পরে স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি নিহত হন। নিহত শিক্ষক মাও: আব্দুল ওয়াহেদ বামনী ভুঁইয়া সেলিনা আক্তার মহিলা মাদ্রাসায় সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। একই দিন বিকেলে নোয়াখালী সদরে সোনাপুর গামী একটি পিকআপ ও একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংর্ঘষের ঘটনায় আরো ২মটর সাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হয়। গত কিছুদিন আগে ও নোয়াখালী জমিদারহাট হজনী খালের সামনে বেপরোযা গতিতে আসা একটি সুগন্ধা বাস নিয়ন্ত্রন হারিয়ে রাস্তার পাশে পড়ে যায় এতে প্রায় ৩০জন আহত হয় এবং একই দিন সুর্বণচর উপজেলায় একটি বাস নিয়ন্ত্রন হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদের পড়ে যায় এতে ৩০জন আহত হয়। এদিকে এইসব দূর্ঘটনা হওয়ার পরও কতৃপক্ষ যেন নিরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। তাদের নেই কোনো অভিযান, বিশেষ করে গত মাসে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের পর পর সড়কে পিটনেস বিহীন গাড়ি, লাইসেন্স বিহীন ডাইভারকে কিছুটা আইনের আওতা আনা হলেও এখন অনেকটা নিরব ভূমিকা পালন করছে।
এদিকে এক সিএনজি চালক বলেন, গাড়ি চালানোর জন্য তাদেরকে মালিকপক্ষ একটি নির্দিষ্ট হারে টাকা ধার্য করে দেওয়া হয়। মালিকপক্ষকে যেভাবে হোক এই টাকা দিতে হবে। তাই বেশীর ভাগ সিএনজি অটোরিক্সাগুলো দ্রুত গতিতে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য রাস্তা প্রতিযোগিতা শুরু করে। বিশেষ করে তারা রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় তাদের থেকে বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন সংগঠনের নাম দিয়ে প্রতিটি উপজেলায় চাঁদা আদায় করে থাকে। এক পর্যায়ে তারা প্রতিদিন ৬০-৭০টাকা দিতে হয় এইসব সংগঠনকে। তারপর আবার থানা মালতি দিয়ে রাস্তায় তাদেরকে গাড়ি চালাতে হয়। তাই তারা মনে করেন, সড়কে বিভিন্ন সংগঠন গুলো যদি তাদের থেকে চাঁদা না নেয় আর মালিকপক্ষ যদি নির্দিষ্ট হারে টাকা না ধার্য করে তাহলে সড়কে অনেকটাই শান্তি ফিরে আসবে। মানুষ নিরাপদে যানবাহনে গন্তব্যে পৌঁছবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রতিষ্ঠাতা: মরহুম কাজী মো: রফিক উল্যাহ, সম্পাদক: ইয়াকুব নবী ইমন, প্রকাশক: কাজী নাজমুন নাহার। সম্পাদক কর্তৃক জননী অফসেট প্রেস, ছিদ্দিক প্লাজা, করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী থেকে মূদ্রিত।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ছিদ্দিক প্লাজা(৩য় তলা উত্তর পাশ), করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী। মোবাইল: সম্পাদক-০১৭১২৫৯৩২৫৪, ০১৮১২৩৩১৮০৬, ইমেইল-:: jatiyanishan@gmail.com, Emonpress@gmail.com
Developed By: Trust soft bd