,

নোয়াখালী জেলা পরিষদ নির্বাচনে স্যোসাল মিডিয়া ও জনজরিপে চেয়ারম্যান প্রার্থী ভিপি মোহাম্মদ উল্যাহ এগিয়ে

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারী ভাবে জেলা পরিষদ নির্বাচন ঘোষনা আসার পর থেকেই আলোচনায় আসে নোয়াখালী জেলা পরিষদের আগামী দিনের চেয়ারম্যান কে হচ্ছেন। এই নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। তবে বিগত কয়েক দিন ধরে সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুক সহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও জনগনের মতামত উঠে আসছে। অর্ধডজন প্রার্থীর মধ্যে ভিপি মোহাম্মদ উল্যাহর পক্ষেই রায় দিচ্ছেন দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। অনেকে বিভিন্ন শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ্য প্রার্থী ঘোষনা দিয়ে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রচার, জনগনের ও দলীয় নেতাকর্মীদের মতামত চান। একাধিক বার ফেসবুকে মতামত চাওয়া হলেও বরাবরই সাধারণ জনগণ ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ভিপি মোহাম্মদ উল্যাহর পক্ষে অবস্থান করছেন।
অনলাইন মাধ্যমে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মন্তব্যে উঠে আসছে ভিপি মোহাম্মদ উল্যাহ বিগত দিনে দায়ীত্ব পালন কালে বিভিন্ন উন্নয়ন ও দলের জন্য ত্যাগ স্বীকারের ইতিহাস।
সেই ইতিহাসের কিছু অংশ তুলে ধরা হলো-১৯৬২ সালে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নোয়াখালীতে সফরে আসলে চৌমুহনী স্টেশনে শ্লোগান দেওয়া অবস্থায় ভিপি মোহাম্মদ উল্যাহকে জাতীর জনক ট্রেনে নিজের বগিতে তুলে সাথে নিয়ে যান। তখন তিনি চৌমুহনী মদন মোহন হাইস্কুলের ৭ম শ্রেনীর ছাত্র ছিলেন। সেই দিন থেকে তিনি জাতীর জনকের ভক্ত হন এবং মূলত উনার হাত ধরেই তার প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু হয়। একই সালে কুখ্যাত হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশ গ্রহন করেন। ১৯৬৫ সালের শেষের দিকে ডিফেন্স পাকিস্তান রুল(ডিপিআর) এ তিনি গ্রেফতার হন এবং মেট্রিক পরীক্ষার একাংশ তিনি জেলে থেকে দেন। একই সালে পাক-ভারত যুদ্ধের পর পাকিস্তানের লাহোরে জাতীর জনক ৬ দফা দাবী ঘোষনা করেন এবং তিনি বিভিন্ন জন সভায় বক্তব্য দেওয়ার কারণে গ্রেফতার হন। এর পর ১৯৬৬ সালে ৭ জুন বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবী এবং ৬ দফার সমর্থনে হরতালের আগের দিন ভিপি মোহাম্মদ উল্যাহ গ্রেফতার হন। ১৯৬৭-৭০ সাল পর্যন্ত তিনি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ৬ দফার বই বিক্রির নামে ঢাকায় অবস্থান করে বাইতুল মোকাররম মসজিদের সামনে প্রতিদিন বিকালে সভা সমাবেশ অব্যাহত রাখেন যার কারণে তিনি একাধিকবার গ্রেফতার হন। ১৯৬৭ সালে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কুখ্যাত আগরতলার মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সারা বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম চৌমুহনী কলেজ থেকে মিছিল বের হয়, যার অগ্রভাগে ছিলেন ভিপি মোহাম্মদ উল্যাহ।
১৯৭০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী মাওলানা মওদুদির সভা পন্ড ও মিথ্যা হত্যা মামলায় তাকে আসামী করে গ্রেফতার করা হয়। বঙ্গবন্ধু সে সময় নিজেই মোহাম্মদ উল্যাহকে উক্ত মামলা থেকে রক্ষা করেন। একই সালে চৌমুহনী কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবীর প্রেক্ষিতে তাকে ঢাকা থেকে এনে চৌমুহনী কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন করতে দল থেকে বাধ্য করা হয় এবং তিনি বিপুল ভোটে পূর্নপ্যানেল জয়লাভ করেন। ১৯৭১ সালে তিনি নোয়াখালী জেলা স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধে তিনি ত্রিপুরার চোত্তাখোলায় ফেনীর মরহুম খাজা আহম্মদ এমপি ও মরহুম এম এ আজিজ সাহেবের সাথে ক্যাম্প নির্মানে সক্রিয় অংশ গ্রহন করেন এবং জেলা থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করতে ইচ্ছুক যুবক-তরুনদের তিনি সেখানে প্রেরনের ব্যবস্থা করেন। জেলা মুজিব বাহিনীর প্রধান মাহমুদুর রহমান বেলায়েত এর বিশস্ত হিসেবে দায়ীত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের পর দলের কঠিন সময় তিনি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়ীত্ব পালন করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি আলসারে আক্রান্ত হন। এ সময় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জেলা মুজিব বাহিনীর প্রধান এবং চাটখিলের এমপি মাহমুদুর রহমান বেলায়েতের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু জানতে পারেন ভিপি মোহাম্মদ উল্যাহ আলসারে আক্রান্ত। তাৎক্ষনাত বঙ্গবন্ধু সরকারী গাড়ি পাঠিয়ে নোয়াখালী থেকে ভিপি মোহাম্মদ উল্যাহকে ঢাকায় নিয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং বঙ্গবন্ধু নিজে তাকে হাসপাতালে দেখতে যান। শেখ কামাল প্রায় তাকে দেখতে হাসপাতালে যেতেন। দীর্ঘ ৩ মাস হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তিনি সুস্থ হয়ে জাতীর জনকের নির্দেশে আবার চৌমুহনী কলেজ ছাত্রসংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে বাধ্য হন এবং প্রতিপক্ষ দল অংশ গ্রহন না করায় তাকে আবার ভিপির দায়ীত্ব পালন করতে হয়। একই বছরে ১৯৭৫ সালে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মম ভাবে স্বপরিবারে হত্যা করার পর ১৫ আগষ্ট সকালে পুরাতন এমপি হোস্টেলে এমপিদেরকে নিয়ে মরহুম ওবায়দুর রহমান (পরবর্তিকালে বিএনপি নেতা) সভা ডাকেন উক্ত সভায় ভিপি মোহাম্মদ উল্যাহ তাকে প্রশ্ন করেন-আপনারা সবাই ঁেবচে আছেন কিন্তু কি অপরাধে বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে লাশ হয়ে ৩২ নাম্বারে পড়ে আছেন। তখন ওবায়দুর রহমান সাহেবের সাথে তর্ক-বিতর্কে জড়ালে কয়েক জন এমপি ও আর্মি সদস্যরা ভিপি মোহাম্মদ উল্যাহকে সভা থেকে বের করে দেন। তিনি সেখান থেকে বের হয়ে বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে ছদ্মবেসে নোয়াখালীতে চলে আসেন এবং সন্ধা ৭ টায় বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে চৌমুহনীতে বিশাল মিছিলের নেতৃত্ব দেন। এর পর দিন আনুমানিক রাত ১২ টায় তিনি গ্রেফতার হন। সেই সময় তিনি প্রায় তিন বছর জেলে ছিলেন। জেল থেকে আসার কয়েক দিনের মধ্যে ভিপি মোহাম্মদ উল্যাহর পিতা মারা যান। পিতার মৃত্যুর শোক বুকে নিয়ে কঠিন সময়ে তিনি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সহ সকল অঙ্গসংগঠনের হাল ধরেন। সেই দিন দলকে আর্থিক ভাবে দেখার মতো কেউ ছিলনা। তিনি খেয়ে না খেয়ে অনেক কষ্ট করে দলের হাল ধরে রেখেছিলেন। ১৯৮১ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দলের সভানেত্রী হওয়ার পর প্রথম জনসভা হয় নোয়াখালীতে। সেই জনসভা সফল করার জন্য ভিপি মোহাম্মদ উল্যাহ সারা নোয়াখালীতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন এবং জনসভা সফল হয়। ১৯৮১ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি এরশাদ বিরুধী বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম করার কারণে একাধিকবার গ্রেফতার ও জুলুম নির্যাতনের শিকার হন। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর চৌমুহনীতে ১৬ই ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের বিজয় দিবসের মিছিল চলাকালে ভিপি মোহাম্মদ উল্যাহকে লক্ষ করে বোমা হামলা করা হলে তার ডান চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং কৃত্রিম চোখ সংযুক্ত করা হয়। ২০০১ সালে পূনরায় বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তিনি আবার যুলুম নির্যাতনের শিকার হন এবং ঢাকার অফিস ও চৌমুহনীর দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হাত চাড়া হয়ে যায়। একই সময় তিনি দলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় করা ও বিএনপি সরকার বিরুধী আন্দোলনে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৩ সালের পর (২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারী) আওয়ামী লীগের কোন নেতা এই প্রথম বেগমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি হলেন ভিপি মোহাম্মদ উল্যাহ। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকা কালে তিনি দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগনের আস্থা অর্জন করেন।
আওয়ামী লীগের রাজনীতির এই পরীক্ষিত নেতাকে দল ও প্রশাসন থেকে সরাতে বিভিন্ন ভাবে ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু তিনি সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে জাতীর জনকের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজও নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু তাকে ৬ দফার মোহাম্মদ উল্যাহ ও কালো মানিক বলে ডাকতেন।
এছাড়া তিনি ১৯৬২ সালে বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে রাজনীতি শুরু করার পর থেকে চৌমুহনী মদন মোহন উচ্চ বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, চৌমুহনী নগর ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, চৌমুহনী কলেজের দুই বারের ভিপি, নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি অহিংসা পরম ধর্মে বিশ্বাসী। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি অনেক গুরু দায়িত্ব পালন করলেও কখনো নিজের স্বার্থের দিকে তাকান নি। দল ও দেশের স্বার্থকেই বড় করে দেখেন। তিনি নিজে নেতা না হয়ে অন্যকে নেতা তৈরী করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। যার কারণে তার হাজার হাজার কর্মী আজ জাতীয় ও স্থানীয় ভাবে প্রতিষ্ঠিত ও দলের হাল ধরে আছেন। এ জন্যই তাকে নেতা-কর্মী গড়ার কারিগর বলা হয়। তাইতো সকল ক্ষেত্রে দলের নেতা-কর্মীরা ভিপি মোহাম্মদ উল্যাহকে এগিয়ে রাখেন। বর্তমান জেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও বিভিন্ন মাধ্যমের জরিপে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগন ভিপি মোহাম্মদ উল্যাহকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। বার বার দল ক্ষমতায় আসলেও এবং তিনি নিজে ৫ বছর উপজেলা চেয়ারম্যান থাকার পরও বাড়িতে একটি ঘর নাই। বর্তমানে তিনি ভাড়া বাসায় থাকেন। চৌমুহনী বাজারে এক টুকরো জায়গা নেই। অথচ তিনি ইচ্ছা করলে অনেক ধন-সম্পদের মালিক হতে পারতেন। যার প্রতিদান স্বরুপ তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগন ভিপি মোহাম্মদ উল্যাহকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায়।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রতিষ্ঠাতা: মরহুম কাজী মো: রফিক উল্যাহ, সম্পাদক: ইয়াকুব নবী ইমন, প্রকাশক: কাজী নাজমুন নাহার। সম্পাদক কর্তৃক জননী অফসেট প্রেস, ছিদ্দিক প্লাজা, করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী থেকে মূদ্রিত।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ছিদ্দিক প্লাজা(৩য় তলা উত্তর পাশ), করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী। মোবাইল: সম্পাদক-০১৭১২৫৯৩২৫৪, ০১৮১২৩৩১৮০৬, ইমেইল-:: jatiyanishan@gmail.com, Emonpress@gmail.com
Developed By: Trust soft bd