March 25, 2018
ভোটের হাওয়া: নোয়াখালী-২, সম্ভাব্য প্রার্থীদের পদচারনায় মুখর নির্বাচনী মাঠ

নিশান ডেক্স: নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানাবিধ হিসাব নিকাশ। ইতিমধ্যেই এই আসনটিতে সব দলেরই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ব্যাপক দৌঁড়ঝাপ শুরু হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডের মন জয়ে ব্যস্ত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সেনবাগ থেকে ইসতিহাদ জিসান জানান, আগামী সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-২(সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে হবে ভিআইপিদের লড়াই। এই আসন থেকে মনোনয়ন পেতে মরিয়া আওয়ামীলীগ, বিএনপি জোটের একাধিক প্রার্থীরা। ইতিমধ্যে প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে তারা হলেন- আওয়ামীলীগ থেকে বর্তমান এমপি ও বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোরশেদ আলম, সেনবাগ উপজেলা আওয়ামীলীগের ২ বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান পৌর মেয়র আবু জাফর টিপু, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আতাউর রহমান ভুইয়া মানিক, সেনবাগ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক ৩ বারের সভাপতি আলহাজ্ব জাফর আহম্মদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক, সানজি গ্রুপের চেয়ারম্যান লায়ন জাহাঙ্গির আলম (মানিক), বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারন সম্পাদক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ এফসিএ।
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছে সাবেক বিরোধীদলীয় চীপ হুইফ জয়নুল আবেদীন ফারুক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মফিজুর রহমান।
জামায়াতের ইসলামীর পক্ষ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির ও সেনবাগ উপজেলা ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মাওলানা মো: আলাউদ্দিন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়ন প্রত্যাশিদের নির্বাচনী এলাকায় কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতা নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনটিতে ইউনিয়ন থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যন্ত আওয়ামীলীগের বিগত দিনে দলের ত্যাগী ও স্থানীয় নেতাদের সাথে নিয়ে বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোরশেদ আলম বিভিন্ন পাড়ায় মহল্লায় গণসংযোগের মাধ্যমে দলকে চাঙ্গা করতে দেখা যাচ্ছে। যার ফলে বর্তমানে সেনবাগ আওয়ামীলীগ বিগত দিনের চেয়ে এই আসনটিতে অনেকটা শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
এক সময়ে এই আসনটি বিএনপির দূর্গ হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে আলহাজ্ব মোরশেদ আলম এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ব্যাপক উন্নয়ন মূলক কাজ করে যাচ্ছেন। যা বিগত দিনে কেউ করতে পারেননি। তার উন্নয়নমূলক কাজের মধ্যে রয়েছে ৪ কোটি ৬০লক্ষ টাকায় সেনবাগ উপজেলা কমপ্লেক্সের নতুন ভবন নির্মাণ, ৬ কোটি ২৯ লক্ষ টাকা ব্যায়ে সেনবাগ থানা কমপ্লেক্সের নতুন ভবন নির্মাণ, সেনবাগ পশু হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণ, সেনবাগ হাসপাতালের নতুন ভবন নিমার্ণ, সেনবাগ হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স বরাদ্ধ, ২ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা ব্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা ভবনের কাজের উদ্বোধন, জেলা পরিষদ মার্কেট নির্মাণ, ৮টি মাধ্যমিক স্কুল ভবন, ৩টি মাদ্র্রাসা ভবন, ২টি কলেজ ভবন নিমার্ণ, ৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্মাণ, ১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নিমার্ণ, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ ১২টি, বালিয়াকান্দি কলেজের নতুন ভবন নির্মাণ, সমাজসেবা অফিসে ১২ কোটি টাকার বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে, ১৭টি স্কুল ভবন মেরামত করেন, ৯০ভাগ বিদ্যুৎতায়ন করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ৬০ কোটি টাকার রাস্তার কাজ করেন এবং ৫০ কোটি টাকার রাস্তার বরাদ্ধের প্রক্রিয়াধিন আছে। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ৪১৮টি গভীর নলকূপ স্থাপন, সেনবাগ ফায়ার সার্ভিসের জন্য জায়গা বরাদ্ধ, খাদ্য অফিসের মাধ্যমে চাল ক্রয় করেছে ২৫৯৬ মেঃ টন, ক্রয় করেছে ১৩৪৬ মেঃ টঃ, ত্রাণ মন্ত্রানালয় থেকে ২৬টি ব্রীজ স্থানীয় সরকার থেকে ৬টি ব্রীজ নিমার্ণ করা হয়েছে। রোড্স এন্ড হাইওয়ে থেকে রাস্তার এবং ব্রীজ বাবত ১৫টি কোটি টাকার কাজ করেছেন। মার্তৃত্ব কালীন ভাতা প্রদান করা ছাড়া ও তিনি উপজেলার উন্ন্য়নে অবদান রাখছেন এবং আগামীতে তিনি নির্বাচিত হলে আরো বেশী উন্নয়ন করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলহাজ¦ মোরশেদ আলম দলের নেতাদের সুখে দু:খে তাদের পাশে থেকে সব সময় কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এই আসনে শিক্ষা প্রতিষ্টান, মসজিদ, মাদ্রাসা থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, পোল কালর্ভাট নির্মাণ সহ বিভিন্ন উন্নমূলক কাজ করেছেন।
সেনবাগের এই আসনটি যেখানে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সেখানে খুব অল্প দিনের মধ্যে আলহাজ্ব মোরশেদ আলম এমপি জনগণের ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তিনি একজন জনগণ মুখি নেতা। তাই তিনি স্বল্প সময়ের মধ্যে জনগণের মন জয় করতে পেরেছেন।
তিনি শিক্ষা বিস্তারসহ উপজেলার গরিব অসহায় মানুষের বিপদ আপদে তাদের পাশে থাকেন। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের দু:স্থ, গরিব ও অসহায় শীতার্থদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ এবং সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ও বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যার্তদের মাঝে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। এবং উপজেলার বেকার সমস্যা দূরীকরণের জন্য তার নিজ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষিত বেকার যুবকদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকুরী প্রদান করেন। বর্তমানে এই আসনটিতে দীর্ঘদিন থেকে তৃণমূলে নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির দূর্দীনে তিনি দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে চাঙ্গা করে রাখছেন। তাই বর্তমানে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আলহাজ্ব মোরশেদ আলমকে নৌকার মাঝি হিসেবে দেখতে চান। কারণ তৃণমূলের নেতকর্মীরা মনে করেন তিনি নির্বাচিত হলে সেনবাগের মানুষের জীবন মানের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে।
ইতিমধ্যে সেনবাগ উপজেলা থেকে শুরু করে ৯টি ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ডগুলোর যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, মহিলা আওয়ামীলীগ, যুব মহিলালীগ ও অঙ্গসংগঠনের সকল নেতা কর্মীরা আলহাজ্ব মোরশেদ আলম এমপিকে তাদের রাজনৈতিক আইডল হিসেবে দেখেন এবং তাকে আগামী নির্বাচনে এই আসন থেকে নৌকার মাঝি হিসেবে দেখতে চায়।
এই আসনটিতে আওয়ামীলীগের আরেক তৃনমূলের জনপ্রিয় নেতা, সেনবাগ উপজেলা আওয়ামীলীগের ২ বারের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও সেনবাগ পৌরসভার ২ বারের সফল মেয়র পৌর মেয়র আবু জাফর টিপু এবার মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি সেনবাগ আওয়ামীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের অতি পরিচিত মূখ। তিনি তৃণমূলের ঝরে পড়া অনেক নেতাকর্মীকে নিজে উৎসাহ দিয়ে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে তুলে এনে দলকে চাঙ্গা অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। সেনবাগ আওয়ামীলীগের দুর্দীনে তিনিই আন্দোলন সংগ্রাম, রাজপথে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তিনি সেনবাগ পৌরসভার মেয়র হলেও পুরো উপজেলায় রয়েছে তার একছত্র অধিপত্য। প্রতিটি পৌর এলাকা প্রতিটি ওয়ার্ডে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। পৌরসভা ছাড়াও তিনি বিভিন্ন ইউনিয়ন ভিত্তিক মসজিদ, মাদ্রাসা ও বিগত বন্যায় গরীরদের মাঝে ত্রাণ বিতরন করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদ আপদে তিনি ছুটে যান নিরলস ভাবে। তারই ধারাবাহিকতা নেতাকর্মীরা তাকে খুব পছন্দ করেন। তিনি বিগত পৌরসভা নির্বাচন গুলোতে ও বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। বিগত নির্বাচনগুলোতে তিনি রাজনীতির মাঠে কখনো পরাজিত হননি। তিনি কখনো কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করেননি। দলের দুঃসময়ে তিনি দলের ত্যাগি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সব সময় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসতেন। তাই পৌরসভা থেকে শুরু করে প্রতিটি ইউনিয়নে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা আছে।
তাই এবার তৃণমূল নেতাকর্মীরা তাকে সেনবাগের নৌকার মাঝি হিসেবে দেখতে চান। তিনি নৌকা মার্কায় মনোনয়ন পেলে এমপি নির্বাচিত হলে সেনবাগের প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে শুরু করে ওয়ার্ড ব্যাপী ব্যাপক উন্নয়ন হবে।
এদিকে নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের আওয়ামীলীগের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশীত প্রার্থী হলেন সাবেক সেনবাগ উপজেলা আওয়ামীলীগের ৩ বারের সভাপতি আলহাজ্ব জাফর আহম্মদ চৌধুরী। বিগত দিনে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দান-অনুদানের মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টি কাড়েন। তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মসজিদ মাদ্রাসা নির্মাণে সহযোগিতা, উপজেলার বেকার যুবকদের চাকুরী প্রদানসহ বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ করেছেন। তারই ধারাবাহিকতা তিনি জনমুখী একজন নেতা হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। বিএনপির যেখানে ঘাঁটি সেখানে বিগত দিনে এই আসনটিতে তিনি আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেলেও কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের কারণে পরাজিত হন। তিনি পরাজিত হওয়ার পরও মান-অভিবান ভূলে গিয়ে দলের জন্য কাজ করেন । তাই তৃণমূল নেতাকর্মীরা তাকেও নৌকার মাঝি হিসেবে পেতে চান।

সেনবাগের এই আসনটিতে আওয়ামীগের আরেক মনোনয়ন প্রার্থী হলেন, নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও তমা গ্রুপের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ভুইয়া মানিক। তিনি বিগত কয়েক বছর আগে সেনবাগের রাজনীতিতে তেমন কোন সক্রিয় অবস্থান না থাকলেও ইদানিং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আলোচনায় আছেন।
এদিকে সেনবাগের আসনটিতে আওয়ামীলীগের আরেক মনোনয়ন প্রার্থী সানজি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও লায়ন জাহাঙ্গীর আলম মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা লায়ন জাহাঙ্গীর আলম মানিক। এই আসনটিতে আওয়ামীলীগের আরেক প্রার্থী হলেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারন সম্পাদক ড.জামাল উদ্দিন আহমেদ এফসিএ। তিনি বিগত ২০০৮ সালের নির্বাচনে নৌকার মার্কার মনোনয়ন পেয়ে পরাজিত হন।
নোয়াখালী-২ সেনবাগ-সোনাইমুড়ী এই আসনটি বিগত বছরের তুলনামূলক ভাবে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবেই খুব পরিচিতি। কারণ এই আসনটিতে বিএনপির পক্ষে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইফ ও টানা ৫বার এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত জয়নুল আবেদিন ফারুক। তিনি এই আসনে বিএনপির একজন হেভিওয়েট প্রার্থী। এই আসনে বিএনপির ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-২ সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী (আংশিক) আসনে বিএনপি-র মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আরেকজন হেভিওয়েট প্রার্থী হলেন, বিএনপি-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সেনবাগ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমান। ইতিমধ্যেই তিনি উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ভাবে সহযোগীতা করে, অত্র এলাকার একজন দানশীল ব্যক্তি হিসাবে যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছেন। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান থাকা কালিন, সেনবাগ পৌরসভা থেকে শুরু করে প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ব্যাপী বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে সেনবাগে কোথাও কোনো ধরনের অসামাজিক কর্মকান্ড থেকে এলাকাকে মুক্ত রাখার জন্য ও মেলা, বাল্য বিবাহ, যৌতুক প্রথা ইত্যাদি অসামাজিক ও অনৈতিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের যুবকদের মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে, তাদেরকে পাঠাগার গঠন ও বিভিন্ন খেলাধুলার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও আর্থিক সহযোগীতা করে আসছেন। এলাকার গরীব-দূঃখি জনগনের বিবাহ ও লেখাপড়ার ব্যয়ভার বহন তথা বিভিন্ন সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে আর্থিক সহযোগীতা প্রদানে, তাঁহার অত্যান্ত সূখ্যাতি রয়েছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীন ও পরবর্তী সময়ে তাঁহার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার দূর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ ছিল না। যার কারণে তিনি বিএনপি তথা অন্যান্য দলীয় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কাছে অত্যান্ত জনপ্রিয়।
বিগত বছর গুলোতে তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মূলক তেমন কোনো মামলা ও হামলা ছিল না। সম্প্রতি সময়ে কিছু স্বার্থান্বেসি ব্যক্তি, তাঁহার সুনাম ক্ষূন্ন করার জন্য তাঁহার বিরুদ্ধে কয়েকটি মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করেন। এতকিছুর পরও সেনবাগের রাজনৈতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা প্রসংসনীয়। তাই বিএনপি-র তৃণমূল নেতাকর্মীরা একান্তভাবে মনে করেন- আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, তাঁকে দলীয় মনোনয়ন দিলে, বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করবেন। সেনবাগ উপজেলায় নিরলস ভাবে বিভিন্ন উন্নয়নে অবদান রাখতে সচেষ্ট থাকবেন এবং প্রকারন্তরে সেনবাগবাসী যথেষ্ট উপকৃত হবেন।
এই আসন থেকে আরেকজন হেভিওয়েট প্রার্থী হলেন নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির, সেনবাগ উপজেলা ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মাওলানা মো: আলাউদ্দিন। তিনি দীর্ঘদিন থেকে উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন মূলক কাজ করে যাচ্ছেন। বিগত বন্যার সময় সেনবাগের প্রতিটি ইউনিয়ন ব্যাপী বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরন করেন। এছাড়া ও তিনি সেনবাগের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গরীব অসহায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সামগ্রী বিতরন করেন ও শীতের সময় শীর্তাথদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরন করেন। এছাড়া উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে গরীব দুঃখীদের মাঝে রমযানের সময় ইফতার সামগ্রী বিতরন ও ঈদের সময় ঈদবস্ত্র বিতরন করেন। উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসার উন্নয়নে ও তিনি ব্যাপক ভূমিকা পালন করে থাকেন। সেনবাগে তিনি দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ করায় তৃণমূলের মানুষের কাছে তিনি অনেকটাই জনপ্রিয়। তাই আসন্ন আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-২ সেনবাগ সোনাইমুড়ী আংশিক আসনে নেতাকর্মীরা মনে করেন তিনি দলীয় মনোনয়ন পেলে সেনবাগের এই আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে।
তবে যে যাই বলুক, সেনবাগের শান্তিপ্রিয় মানুষ চায় এলাকার পরিবেশ শান্ত থাকুক, শান্তিপূর্ন ভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে একজন জন হৈতিষি, গরীবের বন্ধুকে তারা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

Spread the love
আরো খবর


প্রতিষ্ঠাতা: মরহুম কাজী মো: রফিক উল্যাহ, সম্পাদক: ইয়াকুব নবী ইমন, প্রকাশক: কাজী নাজমুন নাহার। সম্পাদক কর্তৃক জননী অফসেট প্রেস, ছিদ্দিক প্লাজা, করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী থেকে মূদ্রিত।

বার্তা, সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ছিদ্দিক প্লাজা(৩য় তলা উত্তর পাশ), করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী। মোবাইল: সম্পাদক-০১৭১২৫৯৩২৫৪, ০১৮১২৩৩১৮০৬, ইমেইল-:: jatiyanishan@gmail.com, Emonpress@gmail.com