April 13, 2018
মন্তব্য প্রতিবেদন: পূন:রায় সরকারী মিডিয়া তালিকাভূক্ত হলো দৈনিক জাতীয় নিশান

ইয়াকুব নবী ইমন: আলহামদুল্লিাহ-ধারাবাহিক সাফল্যের আরো একধাপ এগিয়েছে বৃহত্তর নোয়াখালীর প্রথম দৈনিক পত্রিকা “দৈনিক জাতীয় নিশান”।
চলতি বছরের ৮ এপ্রিল দৈনিক জাতীয় নিশান পত্রিকার জন্য একটি স্মরনীয় দিন। অনেক ছড়াই উৎরাই পেরিয়ে হাটি হাটি পা পা করে এগিয়ে যাচ্ছে দৈনিক জাতীয় নিশান। দিন যত যাচ্ছে দৈনিক জাতীয় নিশানের ভাগ্যকাশে ধরা দিচ্ছে নতুন নতুন সাফল্য। এই সাফল্য পেতে দৈনিক জাতীয় নিশান পরিবারের সদস্যদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। মৃত প্রায় একটি পত্রিকাকে কি ভাবে টিকিয়ে রাখতে হয় তা পুরোপুরিই দেখিয়ে দিতে পেরেছে জাতীয় নিশানের সাথে সম্পৃক্ত বর্তমান সৌকস টিমটি। তাদের অভিনন্দন জানাই। সেই সাথে অভিনন্দন জানাই দৈনিক জাতীয় নিশানের পঠকমহলকে যারা কখনো ছেড়ে যায়নি পত্রিকাটিকে।
প্রিয় পাঠক, বলতে দ্বিধা নেই-মাঝে দৈনিক জাতীয় নিশানের চলার পথে নেমে এসেছিল অনামিষার এক অন্ধকার রাত্রি। ৮০ দশকে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হওয়ার পর ২০১৪ সালে দেশেব্যাপী হরতাল-অবরোধ আর বিশৃংখলা এবং পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক কাজী মো: রফিক উল্যাহর অসুস্থতার কারণে যথা সময়ে অডিট রিপোর্ট জমা ও শুনানিতে উপস্থিত হতে না পারায় পত্রিকাটির ডিএফপি বাতিল হয়ে যায়। যদিও আমি ২০১১ সাল থেকে পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়ীত্ব পালন করছিলাম। কিন্তু তখনো কাজী স্যারই সব কিছু ম্যানেজ করতেন। আমার দায়ীত্ব ছিল শুধু সম্পাদনার মাধ্যমে পত্রিকাটি পাঠকের হাতে তুলে দেয়া। আমি কতটুকু পেরেছি তা আমার পাঠক বন্ধুরাই ভালো জানেন। আমি সব সময় চেষ্টা করেছি পাঠককে নতুন কিছু উপহার দিতে। একটি মফস্বল শহর থেকে প্রতিদিন দৈনিক পত্রিকা বের করা কত যে দু:সাধ্য তা যারা এই প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত তারাই জানেন।
প্রিয় পাঠক, ডিএফপি বাতিল হলেও পত্রিকাটির প্রকাশনা আমরা অব্যাহত রাখি। পাঠকের চাহিদার কথা চিন্তা করে আমরা প্রতিদিনই পত্রিকাটি প্রকাশ করেছি। এর জন্য বিশাল যে বাজেটের প্রয়োজন ছিল তা কিন্তু অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। যেখানে মাস শেষে পত্রিকার স্টাফদের বেতন দিতে হিমশিম খেতে হতো আমাকে। পত্রিকার আর্থিক অনটন সব সময় লেগেই থাকতো। মাঝে মাঝে দু:খ করে ফেসবুকেও অনেক স্ট্রাটাস দিয়েছি আমি। রাগে, দু:খে আর ক্ষোভে পত্রিকাটি ছেড়ে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম কয়েক বার। কিন্তু এই পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত কর্মীদের দিকে তাকিয়ে, এ পেশায় বেড়ে উঠা নিজের ভবিষ্যতে দিকে তাকিয়ে আমার ব্যক্তিগত আয়-রোজগার সবই পত্রিকাটির প্রকাশনায় ব্যয় করেছি।
এরিমধ্যে ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারী পত্রিকাটির প্রকাশক ও সম্পাদক কাজী মো: রফিক উল্যহ হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। তখন একটি কুচক্রিমহল নিশানের কষ্ঠরোধ করতে নানাভাবে ষড়যন্তে লিপ্ত হয়। তাদের নানামুখি ষড়যন্ত্রে পত্রিকাটির প্রকাশনা মারাত্মক ভাবে ব্যহত হয়। কিন্তু আল্লাহ সহায়-কয়েক দিনের ব্যবধানে আমরা পত্রিকাটি পূন:রেজিষ্ট্রেশন পেতে সমর্থ হই। বর্তমানে প্রিন্ট, ই-পেপার ও অনলাইন মিলিয়ে বৃহত্তর নোয়াখালীর একমাত্র পত্রিকার দাবীদার দৈনিক জাতীয় নিশান। আমরা কাউকে প্রতিপক্ষ ভাবিনা, জাতীয় নিশান তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাবে সামনের দিকে।
প্রিয় পাঠক, শত বাঁধা বিপত্তি কখনো দৈনিক জাতীয় নিশানের অগ্রযাত্রাকে ব্যহত করতে পারেনি, সামনেও পারবেনা ইনশাআল্লাহ। দৈনিক জাতীয় নিশান পরিবারের সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রম, সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে সাংবাদিকতা করায় জাতীয় নিশান ফেল পূনরায় বাংলাদেশ চলচিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) তালিকাভূক্ত হওয়ার মর্যাদা।। গত ৮ এপ্রিল ডিএফপির উপ-পরিচালক(বিজ্ঞাপন ও নিরীক্ষা) জনাব ইয়াকুব আলী সাহেবের স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে অর্জিত এই সাফল্য জাতীয় নিশানের চলার পথ আরো মসৃণ হবে বলে আমার বিশ^াস। পত্রিকাটির প্রিয় পাঠক, সহকার্মী, বিজ্ঞাপনদাতা, প্রতিনিধি ও শুভাকাঙ্খীদের কাছে কৃতজ্ঞ কারণ জাতীয় নিশানের এই দীর্ঘ পথ চলার সাথী আপনারাও। আমরা সবাইকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। চাই সমাজের নির্যাতিত, নিপিড়িত ও সুবিধাবঞ্চিত তৃণমুলের জনগনের কথা তুলে ধরতে। দৈনিক জাতীয় নিশান হোক এ অঞ্চলের গণমানুষের মুখপত্র এই প্রত্যাশায় রইলো। মহান আল্লাহ আমাদের সত্য ও ন্যায়ের পথে থাকার তৌফিক দিন-আমিন।

Spread the love
আরো খবর


প্রতিষ্ঠাতা: মরহুম কাজী মো: রফিক উল্যাহ, সম্পাদক: ইয়াকুব নবী ইমন, প্রকাশক: কাজী নাজমুন নাহার। সম্পাদক কর্তৃক জননী অফসেট প্রেস, ছিদ্দিক প্লাজা, করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী থেকে মূদ্রিত।

বার্তা, সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ছিদ্দিক প্লাজা(৩য় তলা উত্তর পাশ), করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী। মোবাইল: সম্পাদক-০১৭১২৫৯৩২৫৪, ০১৮১২৩৩১৮০৬, ইমেইল-:: jatiyanishan@gmail.com, Emonpress@gmail.com