April 17, 2017
সন্ত্রাসীসের জনপদ গোপালপুর, যেখানে জনপ্রতিনিধিও নিরাপত্তাহীন

প্রতিনিধি: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়ন এখন সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। সন্ত্রাসের জনপদ গোপালপুরে প্রতিদিন সেখানে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও দাঙ্গা হাঙ্গামার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ মানুষতো দুরে থাক গোপালপুর এখন জনপ্রতিনিধিরাই নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে। সন্ত্রাসীরা এতো বেপরোয়া যে গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হুদা মিন্টুর উপরও হামলা চালিয়েছে। গত ২ এপ্রিল বিকালে তারা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এই হামলা চালায়। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান কামরুল হুদা মিন্টু বাদী হয়ে সন্ত্রাসী ওই এলাকার জোবায়েদ উল্যাহর পুত্র নওশাদ, খোকন, খোকনের পুত্র সাকিব, জাফর উল্যাহর পুত্র বাদল ও বাবরকে বিবাদী করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগে জানা যায়, উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন থেকে এলাকায় বিভিন্ন প্রকার অপরাধের সাথে জড়িত। এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জবরদখলসহ নানা প্রকার অপরাধ করে আসছে তারা। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে বা অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে তারা একজোট হয়ে ওই ব্যক্তিকে নানা ভাবে নাজেহাল করে এমনটি হামলা চালিয়ে আহত করার ঘটনাও ঘটনায়।
গত ১ এপ্রিল রাতে খোকনের পুত্র সাকিব ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হুদা মিন্টুর গোয়াল ঘরে ঢুকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গরুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এতে গরুটি মারাত্মক ভাব আহত হয়। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান সাবিককে জিজ্ঞাসা করলে সাকিব ক্ষিপ্ত হয়। এর জের ধরে গত ২ এপ্রিল বিকালে সন্ত্রাসী সাকিব, বাদল ও বাবরের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হুদা মিন্টুর বাংলাবাজারস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে তাকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা চেয়ারম্যানের উপর হামলাকারীদের গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।
ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হুদা মিন্টু সাংবাদিকদের জানান, আমার অভিযোগের ৩নং আসামী সাকিব এর আগে ২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর আমাদের গোয়াল ঘরে ঢুকে পিটিয়ে তিনটি গাভী হত্যা করে। এ ভাবে তারা বিভিন্ন ভাবে আমাকে নির্যাতন করে। আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরও এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছে। যেহেতু আমি জনপ্রতিনিধি তাই আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আশা করি প্রশাসন সঠিক বিচার করবেন।
তিনি আরো বলেন, এই নওশাদ এক সময় জামায়াতের ক্যাডার ছিল। সম্প্রতি তিনি রাতারাতি আওয়ামী লীগে বনে যান। তার সেল্টারে এলাকার সন্ত্রাসীরা মাথা ছাড়া দিয়ে উঠেছে। এলাকার শান্তিপূর্ন পরিবেশ রক্ষার সার্থে দ্রুত এসব সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবী জানান।
এ ব্যাপারে বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি সাজিদুল রহমানের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের অভিযোগে ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন তথ্য প্রমাণ না থাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান চাইলে আমরা অপরাধীদের বিরুদ্ধে অবিশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেব।

Spread the love
আরো খবর


প্রতিষ্ঠাতা: মরহুম কাজী মো: রফিক উল্যাহ, সম্পাদক: ইয়াকুব নবী ইমন, প্রকাশক: কাজী নাজমুন নাহার। সম্পাদক কর্তৃক জননী অফসেট প্রেস, ছিদ্দিক প্লাজা, করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী থেকে মূদ্রিত।

বার্তা, সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ছিদ্দিক প্লাজা(৩য় তলা উত্তর পাশ), করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী। মোবাইল: সম্পাদক-০১৭১২৫৯৩২৫৪, ০১৮১২৩৩১৮০৬, ইমেইল-:: jatiyanishan@gmail.com, Emonpress@gmail.com