,

সুবর্ণচরে কৃষকের মুখে সোনালী হাসি, আগাম তরমুজের বাম্পার ফলন

আরিফ সবুজ: নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আগাম তরমুজ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে । ইতিমধ্যে ক্ষেত থেকে তরমুজ তুলে বিক্রি শুরু করেছেন চাষিরা । নোয়াখালী জেলার পাশাপাশী দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে রপ্তানী হচ্ছে এসব এ তরমুজ । আবহাওয়া ভালো থাকায় প্রচুর ফলন ও ন্যায্য মুল্য পাওয়ায় চাষীদের আনন্দের অন্ত নেই । উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে সারে জমিনে দেখা গেছে, সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন ও চর ক্লাক ইউনিয়নের বি¯ৃÍত এলাকা জুড়ে তরমুজের বিশাল ক্ষেত । উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মেঘনা মাকেটের পাশে চর আকরাম গ্রামের সেখানে চাষী মোঃ ইদ্রিস মিন্টু সেখানে তরমুজ তুলছেন । তোলা তরমুজের এক বিশাল স্তূপ সেখানে লক্ষ করা যায় । মোঃ ইদ্রিস মিন্টু কথা বললে তিনি জানান আমরা এবার তিনমাস আগে থেকেই ২২কানি জমিতে আগাম তরমুজ চাষ করি । পরে ক্ষেতে পরিচর্যার পাশাপাশী নিয়মিত সার ,পানি বিভিন্ন ভিটামিন প্রয়োগ ও আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে । ইদ্রিস মিন্টু জানান আমাদের এবার খরচ হয়েছে প্রায় বিশ লক্ষ টাকা । আমরা ইতিমধ্যে পনের লক্ষ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছি । এবং মোট পঞ্চাশ লক্ষ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবো ইনশাআল্লাহ । পাশ্ববর্তী আরেক তরমুজ চাষী মোঃ নাছির জানান সাড়ে তিন কানি জমিতে মোট প্রায় খরচ হয়েছে তিন লক্ষ টাকা। আমরা এবার ৯লক্ষ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছি । এবং আমরা প্রচুর লাভবান হয়েছি। একই গ্রামের সিরাজ মিয়া জানান আমরা নিজস্ব উদ্যেগে এবার ২কানি জমিতে তরমুজ চাষ করি । প্রথমে বীজ বপন করলে এতে কিছুদিন পরে একটা অসুখে চারা গুলো মরে যায় , পরে আমরা আবার বীজ বপণ করি এবং ফসল পাওয়া পর্যন্ত আমার খরচ হয় এক লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা । এবং আমি মোট তরমুজ বিক্রি করেছি তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকার । একই উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের তরমুজ চাষী মোঃ মোস্তফা মিয়া জানান, আমি এবার চার কানি জমিতে তরমুজ চাষ করি । আমার মোট খরচ হয়েছে প্রায় দুই লক্ষ টাকা । আমি এবার তরমুজ বিক্রি করেছি আট লক্ষ টাকার । প্রথম বারেই আমি ভাল লাভবান হয়েছি বলেও জানান তিনি । তার পাশ্ববর্তী চাষী মোঃ বেলাল মিয়া জানান আমিও প্রথম বারের মতো আড়াই কানি জমিতে তরমুজ চাষে এক লক্ষ আশি হাজার টাকা বিনিয়োগ করি । এবং আমার তরমুজ বিক্রি হয় প্রায় চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা । এছাড়াও সুবর্ণচর উপজেলার চর ওয়াপদা,চরবাটা,চর আমান উল্যাহ ও চর জব্বারসহ প্রতিটি ইউনিয়নেও আগাম তরমুজ চাষ করে কৃষকরা। এতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম পেয়ে কৃষকের মুখে আনন্দের অন্ত নেই । কৃষকরা জানান কৃষি কর্মকর্তাও কোন সহযোগিতা বা পরামর্শ আমরা পাইনি । আমরা এবার সম্পূর্ণ নিজস্ব ধারনায় চাষাবাদ করতে হয়েছে। তবে ভালো ফলন পাওয়ার তেমন অবিযোগের চাপ ছিলনা কৃষকদের মুখে । এদিকে সুবর্ণচর উপজেলার কর্মকর্তা কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ,এবার আমাদের লক্ষমাত্রা হলো ৩,০০০ হেক্টর তবে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে তরমুজ চাষ হয়েছে ৪.২৫০ হেক্টও জমিতে । এবং ইতিমধ্যে কৃষকরা আগাম ফলন তুলছে প্রায় ২.০০০ হেক্টর জমি থেকে । আর বাকি চাষিরা জানান,আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার অসম্ভব ফলন হবে এবং আমরাও এবার প্রচুর পরিমান লাভবান হতে পারবো বলে আশাবাদ করেন তারা।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রতিষ্ঠাতা: মরহুম কাজী মো: রফিক উল্যাহ, সম্পাদক: ইয়াকুব নবী ইমন, প্রকাশক: কাজী নাজমুন নাহার। সম্পাদক কর্তৃক জননী অফসেট প্রেস, ছিদ্দিক প্লাজা, করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী থেকে মূদ্রিত।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ছিদ্দিক প্লাজা(৩য় তলা উত্তর পাশ), করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী। মোবাইল: সম্পাদক-০১৭১২৫৯৩২৫৪, ০১৮১২৩৩১৮০৬, ইমেইল-:: jatiyanishan@gmail.com, Emonpress@gmail.com
Developed By: Trust soft bd