,

সেনবাগে পিএসসি পরীক্ষার্থীর শ্লীলতাহানীর ঘটনায় শিক্ষকের কারাদন্ড নিয়ে তোলপাড়

111

নিশান ডেক্স : নোয়াখালীর সেনবাগে পিএসসি পরীক্ষার্থীর শ্লীলতাহানীর ঘটনায় এক শিক্ষকের কারাদন্ড নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল বুধবার দিনভর বিষয়টি ছিল ’টপ অব দ্যা ডিস্টিক’। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন সাইটে ঘটনাটি প্রকাশ হওয়ার পর চারদিকে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে। অনেকের ওই শিক্ষক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন। অনেকে আবার শিক্ষকের এমন কান্ডে হতবাক হন।
গতকাল বুধবার বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, পিএসসি পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রে এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগে শিক্ষক মোঃ ইব্রাহিমকে (২৯) আটকের পর এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়। মঙ্গলবার বিকেলে সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন আলম ওই কারাদন্ডাদেশ দেন। অভিযুক্ত শিক্ষক ইব্রাহিম সেনবাগ উপজেলার ৩নং ডমুরুয়া ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামের আবদুর রবের পুত্র ও উপজেলার ৪নং কাদরা ইউনিয়নের চাঁদপুর খলিফা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
পিএসসির সমাজ বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় পরীক্ষা চলাকালে সেনবাগের গাজীরহাট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নকল দেখার ভান করে শিক্ষক ইব্রাহিম এক শিক্ষার্থীর শরীরে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানী করে বলে অভিযোগ করে ওই শিক্ষার্থী। এরপর কেন্দ্রের দায়ীত্বরতরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানালে তিনি দ্রুত পুলিশ পাঠিয়ে ওই শিক্ষকে তারা কার্যালায়ে নিয়ে আসেন। এরপর উপস্থিত স্বাক্ষ্য প্রমানে ওই অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আলম অভিযুক্ত শিক্ষক মো: ইব্রাহিমকে(২৯) ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন। পরে তাকে কারাগারে প্রেরণের জন্য থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ ঘটনাটিকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখছে, আবার কেউ কেউ তার বিরুদ্ধে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিত ঘটনা বলে আখ্যা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শাহা জালাল নামে এক ব্যক্তি মন্তব্য করেন “ইব্রাহীম ছেলেটি ভদ্র স¦ভাবের ছেলে, তার গ্রামের বাড়ি দক্ষিণ নলুয়া আমার নানার বাড়ির পাশে। সে গত বছর বিসিএস পরীক্ষায় দিয়েছে। তার ব্যক্তিগত স্বভাব চরিত্র অত্যান্ত ভালো। এই ব্যাপারে তিনি সঠিক তদন্ত করার জন্য আবারও অনুরোধ জানান।
শহিদ উল্যাহ চৌধুরী নামের আরেক জন মন্তব্য করেন, সহকারী শিক্ষা অফিসার ইমরানের ঈশারায় বদনাম নিতে হলো এ শিক্ষককে। এ ইমরানই ঘটনার খল নায়ক।
এ.জেড রানা মন্তব্য করেন, ষড়যন্ত্রের শিকার হল নিরীহ গরিবের ছেলে এই শিক্ষক। তিনি এব্যাপারে জেলা প্রশাসকের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত করার জন্য অনুরোধ জানান।
মাসুদুর রহমান মন্তব্য করেন, কমেন্ট করার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি যদি ঘটনা সত্যি হয় কিছু বলার নাই আর যদি মিথ্যা হয় তাহলে তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
এমডি সবুজ মন্তব্য করেন, ফেসে গেলেন বাস্তব কিন্তু সেই এমন ঘটনা ঘটানোর মত ছেলে নয়।
জি এস মোশারফ হোসেন মন্তব্য করেন, এই ছেলে গরীবের সন্তান বিধায় সে প্রাইমারী স্কুলে নিয়েছেন। তার যোগ্যতা অনেক উপরের চাকরী। আমি সবার দৃষ্টি আকর্ষন করতে চাই এই ছেলে যদি এরকম কাজের সাথে জড়িত থাকে তালে আরো বেশি শাস্তির দাবী করি। আর সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে দেখা দরকার। এর মতো একটা মেধাবী ছাত্র এবং ফিটনেস ছেলে মাত্র ৫ম শ্রেনীর ছাত্রীর সাথে এ কাজ করতে পারেনা। যে ভাবে সেনবাগে পরকিয়ার খবর প্রচার হচ্ছে সেই হিসেবে অনেক ঘরের বৌ এর সাথেও তার সম্পর্ক থাকতে পারে। আরেকটা বিষয় হলো এই ঘৃনিত কাজ করে থাকলে সে আরো অনেক ভাবে করছে। তা আগে পরে তদন্ত করে দেখা দরকার। বি:দ্র: এই ইব্রাহিত ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের মেধাবী একজন ছাত্র, সে বিসিএস করা একজন ছাত্র। সে প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতা করার কথা না। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস তাকে এই চাকরী করতে হইতেছে। এটাতে তার প্রমোশন হওয়ার কথা সে কারণে কি ষড়যন্ত্র। সেনবাগের সচেতন মহলের কাছে আমার জোর দাবী এই উচ্চ পর্যায়ের শিক্ষত স্মার্ট সুদর্শন চেহারার অধিকারী একজন শিক্ষক ৫ম শ্রেনীর ছাত্রীর সাথে কি শ্লীলতহানী করতে পারে। আর মেয়েটি কোন স্কুলের তার পূর্নাঙ্গ ঠিকানা প্রকাশ করা হোক।
বুধবার সন্ধায় সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন আলমের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, উপস্থিত স্বাক্ষ প্রমানের ভিত্তিতে মোবাইল কোর্টে ওই শিক্ষকের সাজা হয়েছে। পরবর্তিতে কি হয়েছে সেটা আমার দেখার বিষয় নয়।
সহকারী শিক্ষা অফিসার ইমরানের সাথে শিক্ষক ইব্রাহিমের মনমালিন্যের বিষয়টি জানতেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না এমন কিছু আমার জানা নেই। আর শিক্ষা অফিসার ওই খানে ডিউটিতেও ছিলেননা। তিনি কি ভাবে এখানে সম্পৃক্ত হবেন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রতিষ্ঠাতা: মরহুম কাজী মো: রফিক উল্যাহ, সম্পাদক: ইয়াকুব নবী ইমন, প্রকাশক: কাজী নাজমুন নাহার। সম্পাদক কর্তৃক জননী অফসেট প্রেস, ছিদ্দিক প্লাজা, করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী থেকে মূদ্রিত।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ছিদ্দিক প্লাজা(৩য় তলা উত্তর পাশ), করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী। মোবাইল: সম্পাদক-০১৭১২৫৯৩২৫৪, ০১৮১২৩৩১৮০৬, ইমেইল-:: jatiyanishan@gmail.com, Emonpress@gmail.com
Developed By: Trust soft bd