,

স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক: চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে অনেকটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৬ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে তুলেছে ২২৮ রান। তৃতীয় দিন শেষে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ২৭৩ রানের। ক্রিস ওকস ১১ ও স্টুয়ার্ট ব্রড ১০ রান নিয়ে ব্যাট করছেন।

এখন চতুর্থ দিনের শুরুতে দ্রুত ইংলিশদের দুই উইকেট নিতে পারলেই হয়। কারণ বাংলাদেশের সামনে এরইমাঝে যে লক্ষ্য দাঁড় করিয়েছে ইংল্যান্ড সেটা টপকে জেতা খুবই কঠিন। যদিও হাতে দুই দিন পড়ে রয়েছে। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা যদি মাটি কামড়ে উইকেটে থাকতে পারেন তবেই আশা করা সম্ভব। তা না হলে আরেকটি পরাজয় যে অপেক্ষা করছে সেটা না বললেও চলে।

সুযোগ বারবার আসে না। বাংলাদেশের সামনে সুযোগ ছিল লিড নেয়ার। উল্টো তৃতীয় দিনের শুরুতে আগের দিনের ২২১ রানের সাথে আর মাত্র ২৭ রান যোগ করতেই বাকি পাঁচ উইকেট উধাও। যেখানে বাংলাদেশের লিড নেয়ার কথা সেখানে ৪৫ রানের লিড পেয়ে গেল ইংল্যান্ডই। এই টেস্টে ভালো কিছু করতে না পারলে এটা নিশ্চিতভাবেই মুশফিকুর-সাকিবদের আফসোস বাড়িয়ে দেবে।

জহুর আহমেদ চৌধুর স্টেডিয়ামের উইকেট এখন যে আচরণ করছে তাতে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করতে গিয়ে বাংলাদেশ আরো বিপদে পড়বে। সাকিব, মিরাজ, তাইজুলরা উইকেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ফায়দা আদায় করে নিচ্ছেন। এই সুবিধাটা তো ইংল্যান্ডও পাবে। তাদেরও আছে মঈন আলী, আদিল রশিদ আর এগার বছর পর দলে ফেরা গ্যারেথ বেটির মত স্পিনার। তাই বলা বাহুল্য, চতুর্থ ইনিংসে রান তাড়া করতে গিয়ে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে বাংলাদেশকে।

এদিন ইংল্যান্ড ৪৫ রানে এগিয়ে থেকেও দ্বিতীয় ইনিংস স্বস্তিতে শুরু করতে পারেনি। সাকিব-মিরাজের ঘূর্ণির সামনে ৬২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুকতে থাকে ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ প্রথমেই তুলে নেয় অ্যালিস্টার কুকের উইকেটটি। ইংল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলা ইংলিশ অধিনায়ককে বাংলাদেশের স্পিনাররা দুঃস্বপ্নই উপহার দিয়েছে। প্রথম ইনিংসে সাকিবের বলে বোল্ড হওয়া কুক (১২) ফিরে গেছেন মিরাজের বলে মাহমুদুল্লাহর হাতে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে।

কুক চলে যাওয়ার পর ইংলিশ শিবিরে আঘাত হানেন সাকিব। তিনি ফিরিয়ে দেন জো রুটকে (১)। আর এই উইকেটের মধ্যে দিয়েই সাকিব দেড়’শ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করলেন। সাকিবের পরের ওভারেই শর্টলেগে মুমিনুল হকের হাতে ক্যাচ দেন বেন ডাকেট (১৫)।
মধ্যাহ্ন বিরতির পর মঈন-গ্যারি ব্যালান্সের প্রতিরোধও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দলীয় ৪৬ রানে তাইজুলের বলে সুইপ করতে গিয়ে ইমরুল কায়েসের হাতে ক্যাচ দেন ব্যালান্স (৯)।

চট্টগ্রাম টেস্টে এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে মঈন। আগের ইনিংসে বারবার রিভিউ নিয়ে বেঁচে যাওয়া এই অলরাউন্ডার করেছিলেন ৬৮ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে সেই সুযোগ আর সাকিব তাকে দেননি। ৬২ রানে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলে ১৪ রানেই শেষ হয় মঈনের ইনিংস।

মুলত এখান থেকেই বেন স্টোকস আর জনি বেয়ারস্টোর ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু। দু’জনে মিলে ষষ্ঠ উইকেটে ১২৭ রান যোগ করে ইংল্যান্ডকে নিরাপদ দুরত্বে পৌঁছে দিয়েছে। দলীয় ১৮৯ রানে বেয়ারস্টোকে(৪৭) বোল্ড করে এই জুটি ভাঙেন চট্টগ্রাম টেস্টেই অভিষিক্ত কামরুল ইসলাম রাব্বি। টেস্টে এটি তার প্রথম উইকেট।

এর কিছুক্ষণ পরেই সেঞ্চুরির পথে হাঁটতে থাকা স্টোকসকে ফিরিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি এনে দেন সাকিব। এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে স্টোকসের ব্যাট থেকে এসেছে ৮৫ রান ১৫১ বলে। এরমধ্যে চার মেরেছেন ছয়টি, ছক্কা তিনটি। পরে আদিল রশিদকে (৯) ফিরিয়ে ক্যারিয়ারে পনেরবার ক্যারিয়ারে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখান সাকিব। উইকেটগুলো পেতে তাকে বল করতে হয়ছে ৩১ ওভার। রান দিয়েছেন ৭৯। সাকিবের দিনে একটি করে উইকেট পেয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও কামরুল ইসলাম রাব্বি।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড:
ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস: ২৯৩/১০ (১০৫.৫ ওভার)

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২৪৮/১০ (৮৪ ওভার)

ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংস: ২২৮/৮ (৭৬ ওভার) ( স্টোকস ৮৫, বেয়ারস্টো ৪৭, ডাকেট ১৫, মঈন ১৪, কুক ১২, ওকস ১১। সাকিব ৫/৭৯, রাব্বি ২৪/১, তাইজুল ১/৪০, মিরাজ ১/৫৪)।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রতিষ্ঠাতা: মরহুম কাজী মো: রফিক উল্যাহ, সম্পাদক: ইয়াকুব নবী ইমন, প্রকাশক: কাজী নাজমুন নাহার। সম্পাদক কর্তৃক জননী অফসেট প্রেস, ছিদ্দিক প্লাজা, করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী থেকে মূদ্রিত।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ছিদ্দিক প্লাজা(৩য় তলা উত্তর পাশ), করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী। মোবাইল: সম্পাদক-০১৭১২৫৯৩২৫৪, ০১৮১২৩৩১৮০৬, ইমেইল-:: jatiyanishan@gmail.com, Emonpress@gmail.com
Developed By: Trust soft bd