,

নোয়াখালীতে রাজনীতিক দূর্বত্তায়নে বাড়ছে হত্যাকান্ড

স্টাফ রিপোর্টার: নোয়াখালীর আইনশৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। বেড়েছে খুন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দস্যুতা, ধর্ষণ, অপহরণ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার ঘটনা। একের পর এক ঘটে যাচ্ছে চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক হত্যাকান্ডও। সন্ত্রাসীদের উপদ্রবে এক সময়ের শান্তির জনপদ নোয়াখালী দিন দিন অশান্ত হয়ে উঠছে। গত দেড় মাসে সংঘাত ও গুলিতে নিহত হয়েছেন ১০ জন।
জানা গেছে, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কারণে কিছু সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। যা নোয়াখালীর আইনশৃংখলার ইতিহাসে অতীতের সকল রেডর্ক ভঙ্গ করেছে। এদিকে দলীয় কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জেলায় অবৈধ অস্ত্রের মহড়া চলছে। কোন্দলকে কাজে লাগিয়ে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন নেতার পক্ষ হয়ে ভাড়ায় খাটছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে সাধারণ মানুষ। এদিকে একের পর এক রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের ঘটনায় আতঙ্ক ও আদ্বেগের মধ্যে রয়েছে খোদ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরাই। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মূলত ২০১৪ সালের ২৭ জুলাই জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধক্ষ্য হাজী ইউছুফ আলী সেলিম ওরফে নিশাত সেলিম হত্যাকন্ডের মধ্য দিয়ে নোয়াখালীতে ধারাবাহিক ভাবে রাজনৈতিক হত্যাকান্ড শুরু হয়। এছাড়াও চায়না আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জায়েদুল ইসলাম মারূপকে গুলি করে হত্যা, বেগমগঞ্জের ছয়ানীতে গুলিতে তিন যুবলীগ কর্মী নিহতের ঘটনায় দেশব্যাপী আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে। সর্বশেষ হাতিয়ায় চলা ধারাবাহিক রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের ঘটনায় সেখানকার মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে। মাত্র ১৭ দিনের ব্যবধানে সেখানে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আশরাফসহ ৩টি রাজনৈতিক হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছে।
এমতাবস্থায় অবৈধ অস্ত্রধারীদের গ্রেফতার ও সন্ত্রাস নির্মূলে দ্রুত অভিযান চালানোর দাবী জানিয়েছেন জেলার সচেতন মহল। তবে নোয়াখালীর পুলিশ প্রশাসন বলছে সন্ত্রাস নির্মূলে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে অর্ধশত সন্ত্রাসীকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল হাতিয়া উপজেলার তমরুদ্দি ঘাটের কাছে মেঘনা নদী থেকে বাহার সর্দার(৫০) নামের আওয়ামী লীগের এক কর্মীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত বাহার সর্দার উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের দক্ষিণ শুল্লকিয়া গ্রামের আলী আহমদের ছেলে। তিনি হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর সমর্থক বলে জানিয়েছে পুলিশ। ১৩ এপ্রিল আওয়ামীলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের পর থেকে বাহার সর্দার নিখোঁজ ছিল।
গত ১৫ এপ্রিল নোয়াখালীর চৌমুহনী-ফেনী সড়কের পপুলার বিস্কুট ফ্যাক্টরীর পাশ থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির(৪০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। কি ভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি কেউ।
গত ১৩ এপ্রিল হাতিয়ার চরকিং ইউনিয়নের ভৈরব বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে নুরুল আলম (৩০) নামে যুবলীগের এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। নিহত নুরুল আলম চরকিং ইউনিয়নের দক্ষিণ শুল্লকিয়া গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে।
গত ৯ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আশরাফ উদ্দিন(৩৫)। নিহত আশরাফ উদ্দিন হাতিয়া উপজেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান ও চরকিং ইউনিয়নের মৃত জিয়াউল হক তালুক মিয়ার পুত্র এবং হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফ উদ্দিনের ছোট ভাই। ৩০ মার্চ দলীয় কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের আফাজিয়া বাজারে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হন আশরাফ উদ্দিনসহ দুইজন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি মোহাম্মদ আলী সমর্থিত রবীন্দ্র চন্দ্রকে প্রধান আসামি সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
গত ৩ এপ্রিল হাতিয়া উপজেলার চানন্দিনা বাজার সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে আমিনুল হক (৪১) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আমিনুল হকের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্ধীপ উপজেলার হারিছপুর গ্রামে।
গত ১ এপ্রিল সুবর্নচর উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের মন্নাননগর-আটকপালিয়া সড়কের পাশের আবদুল মালেকের দোকানের পেছনের একটি বাদাম ক্ষেত থেকে অজ্ঞাক পরিচয় একটি লাশ (৩৫) উদ্ধার করে পুলিশ।
গত ৩১ মার্চ নোয়াখালী সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের চর কাউনিয়া গ্রামের ডিম ব্যাপারী বাড়িতে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মনিজা খাতুন (৫৫) নামের এক নারীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। নিহত মনিজা খাতুন ওই গ্রামের মৃত আবদুল খালেকের স্ত্রী।
গত ১৯ মার্চ নোয়াখালী সদর উপজেলার পশ্চিম মাইজদী গ্রাম থেকে পান্না আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত পান্না আক্তার ওই এলাকার ফারুক আহমদের স্ত্রী।
গত ১৮ মার্চ সুবর্নচর উপজেলার চরওয়াপা ইউনিয়নের চরকাজী মোকলেছ গ্রামের কুকিজ মার্কেট এলাকায় আব্দুল মালেক (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গলাটিপে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।
গত ৪ মার্চ নোয়াখালী সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসেমকে(৪৫) গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এমন হত্যাকান্ডের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নোয়াখালীর সার্বিক আইনশৃংখলার বিষয়ে পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরীফ বলেন, আইনশৃংখলার উন্নয়নে পুলিশ প্রশাসন সব সময় কাজ করছে। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান চলছে। আশা করি সহসাই আইনশৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রতিষ্ঠাতা: মরহুম কাজী মো: রফিক উল্যাহ, সম্পাদক: ইয়াকুব নবী ইমন, প্রকাশক: কাজী নাজমুন নাহার। সম্পাদক কর্তৃক জননী অফসেট প্রেস, ছিদ্দিক প্লাজা, করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী থেকে মূদ্রিত।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ছিদ্দিক প্লাজা(৩য় তলা উত্তর পাশ), করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী। মোবাইল: সম্পাদক-০১৭১২৫৯৩২৫৪, ০১৮১২৩৩১৮০৬, ইমেইল-:: jatiyanishan@gmail.com, Emonpress@gmail.com
Developed By: Trust soft bd