,

দূর্নীতির মহোউৎসব সেনবাগের মোহাম্মদপুর রামেন্দ্র মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে

received_826024687574637

সেনবাগ প্রতিনিধি: নোয়াখালী সেনবাগ উপজেলার মোহাম্মদপুর রামেন্দ্র মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দূর্নীতির মহোউৎসব চলছে। এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বেলায়েত হোসেন বি.এ.সির নামে নানান দূনীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে কোচিং এর নাম করে  এবং দশম শ্রেনির ছাত্র-ছাত্রীদের কাজ থেকে ফরম পিলাপের সময় অতিরিক্ত টাকা আদায়, সাটিফিকেট ও ভর্তি বাণিজ্য সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়াও বিধি বহির্ভূত এমপিও, স্কুলের বিভিন্ন  প্রান্ড আত্মসাৎ সহ নানাবিধ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জানা যায় গত রমযানের ঈদের ছুটির পর স্কুল চালু হলে ৬ষ্ঠ শ্রেনী থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের অর্ধ বাষিকী পরীক্ষা শুরু হয় গত ০৬/০৭/২০১৭ইং তারিখে এবং পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে গত ১১/০৭/২০১৭ইং  তারিখে স্কুলে পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে কোচিং ফ্রি না পাওয়ার কারনে পরীক্ষার্থীর  হাত থেকে প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র কেড়ে নেই ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক রোকসানা আক্তার কলি, সিনিয়র শিক্ষক মাশকুরা বেগম ও সিনিয়র শিক্ষক আবুল কাশেম। এতে তারা ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে আগে টাকা দাবী করে এবং তারপর পরীক্ষা দিতে বলে এবং ছাত্র-ছাত্রীরা বলে টাকা পরে দিবে এবং এটা বললেও ছাড় হয়নি তাদের, ওই স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মাসকুরা বেগম এবং রোকসানা আক্তার কলি ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষা চলা কালীন সময়ে ৩০ মিনিটের মত ক্লাসের বাহিরে দাঁড় করিয়ে রাখে এমতাবস্থায় ওই স্কুলের কৃষি ডিপ্লোমা বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক বিশ্বজিত সাহা মাশকুরা বেগমকে শিক্ষার্থীদের আজকের মত পরীক্ষা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করলেও মাশকুরা না শুনে শিক্ষার্থীদের বাহিরে দাঁড় করিয়ে রাখে,  তখন প্রায় পরীক্ষার সময়ের ৪৫ মিনিট অতিবাহিত হলেও ছাত্র-ছাত্রীরা প্রধান শিক্ষকের কাছে গেলে তিনি জোর দাবি করে টাকা দেওয়ার জন্য বলে এবং আজকের মত পরীক্ষা নেওয়ার জন্য ওই শিক্ষককেই অনুরোধ করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই স্কুলের অষ্ঠম শ্রেনীর এক ছাত্রী আমাদের জানান তিনি সহকারী শিক্ষক মাশকুরা বেগমকে বলেন, যে স্যার আমার বাবা রিকশা চালায় স্যার আমি পড়ালেখা করতেও কষ্ট হয় আমি কিভাবে দিবো এই টাকা তখন মাশকুরা বেগম বলে তা ওনার জানার বিষয় নই। টাকা দরকার টাকা দিলেই হবে। এই ছাড়াও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে  উপবৃত্তির টাকা পাওয়ার জন্য নাম লেখাতে ১০০ টাকা আবার সিম রেজিষ্ট্রশন করতে ১০০ টাকা নিয়ে থাকেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক বেলায়েত হোসেন বি.এস.সি। এই ব্যাপারে আমাদের কাছে ভূক্তভোগি এক অভিভাবক মোঃ জাকির হোসেন আমাদেরকে জানান, তার কাছ থেকে এই রকম ভাবে টাকা নিলো শিক্ষক ও তার মেয়েকে পরীক্ষা দিতে দিচ্ছেনা স্কুলের শিক্ষকরা, পরীক্ষা ফিসের টাকা দিলেও তার মেয়েকে কোচিং এর টাকার জন্য প্রবেশপত্র দিচ্চেনা শিক্ষকরা, এছাড়াও একজন ছাত্রের পিতা আমাদেরকে জানান,  তার এক ছেলে ওই স্কুলে পড়ালেখা করে এবং পরীক্ষার ফ্রি বাবত আর কোচিং সহ ১০০০ টাকা লাগে টাকা প্রথমে না দিতে পারায়  পরীক্ষার সময় টাকার জন্য বিভিন্ন ভাবে শিক্ষকরা তার ছেলেকে হয়রানির স্বীকার করছে। এমতাবস্থায় তিনি তার ছেলেকে নিয়ে স্কুলের শিক্ষকের কাছে গিয়ে ৬০০ টাকা দিয়ে বলে স্যার আমি সিএনজি চালাই কোনো রকম আমার ছেলে মেয়েকে কষ্ট করে পড়ালেখা করাচ্ছি কিন্তু বাকি টাকা স্যার আমি যোগাড় করে আপনাকে এসে দিয়ে যাবো কিন্তু ঠিক পরের দিন শিক্ষক আবার তার ছেলেকে টাকার জন্য পরীক্ষার সময় হয়রানি স্বীকার করছে।
এবং কেউ যদি স্কুল থেকে তার পরীক্ষা পাশের সাটিফিকেট নিতে আসে তাহলে তাকে গনতে হয় ২০০ টাকা, টাকা দিলে কাজ হয় না দিলে হয় না। এবং ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বেলায়েত হোসেন বি.এস.সি গত বছরের এস এসসি পরীক্ষার্থী মরীয়ম আক্তার নামের তার স্কুলে অধ্যায়নরত এক ছাত্রীকে তার ফরম ফিলাপ করাতে দেরী হওয়ায় মরিয়মের রোল নাম্বারে আরেকটি মেয়েকে এনে বিপুল অঙ্কের টাকা খেয়ে ফরম ফিলাপ করিয়ে দেওয়া হয় অন্য একটি মেয়েকে। ভুক্তভোগি মরিয়মের পিতা মোঃ হেলাল উদ্দিন স্কুলে এসে প্রথমে বললে প্রধান শিক্ষক বলেন তার মেয়ে নাকি স্কুলেই পড়ে না এবং আবার বলে সে সব বিষয় ফেল করছে তাকে ফরম ফিলাম করা যাবেনা তখন মরিয়মের পিতা হেলাল উদ্দিন  তার রোল নাম্বার দিয়ে রেজাল্ট জানতে চাইলে তিনি রেজাল্ট দেখাতে অস্বীকার করে এবং  এক পর্যায়ে মরিয়মের পিতা হেলাল উদ্দিনকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেয় এবং মরিয়মের পিতা হেলাল উদ্দিন উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ব্যাপারটি অবহিত করার কথা বললে তিনি বলেন ওরা আমাদের লোক কিছুই হবে না এবং এক পর্যায়ে হেলাল উদ্দিকে হুমকি দেয়। তিনি আর ব্যাপারটি নিয়ে বাড়াবাড়ি করেন নাই তার ভয়ে। এই স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে আতঙ্কের নাম প্রধান শিক্ষক বেলায়েত বি.এস.সি, সহকারি শিক্ষক মাশকুরা বেগম, সহকারী শিক্ষক রোকসানা আক্তার কলি, সিনয়র শিক্ষক আবুল কাসেম। উল্লেখ্য এই স্কুলটি উনবিংশ শতাব্দীর শুরুতেই জমিদার বাবু রামেন্দ্র রায় চৌধুরীর অনন্য সৃষ্টি  জমিদার কনিষ্ঠ পুত্র কৃষ্ণ প্রসন্ন রায় চৌধুরী  এর অক্লান্ত পরিশ্রমে, মৃত আতর আলী মিয়া ও মৃত হাজী লাল মিয়াদের অনুদানে বিদ্যাপীঠটি ১৯১৬ সালে প্রতিষ্টিত হয়। শতাব্দীর গৌরবময় এই  বিদ্যাপীঠটিতে শুরুতেই প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পরিচালনা করেন (১৯১৬ -১৮) “বাবু হেমচন্দ্র  গুপ্ত  (১৯১৯ -২৩) ” বাবু উপেন্দ্র কুমার চক্র বর্তী (১৯২৪ -৫৩) ” নাদেরুজ্জামান (১৯৫৪ -৬২) “বাবু মনোরন্জ্ঞন মজুমদার  (১৯৬৩) ” আবদুল জলিল (১৯৬৪ -৬৮)  “মমিনুল হক চৌধুরী (১৯৬৯ -৭১)  মোঃ ওয়ালী উল্লাহ (১৯৭২ -২০০০) “”বাবু হিমাংশু বিকাশ সাহা (২০০১ -২০১০)। এক সময়ে তাদের অধিনে মোহাম্মপুর রামেন্দ্র মড়েল উচ্চ বিদ্যালয়টি মানসম্মত পড়াশুনা, সাহিত্য, ক্রীড়ায়, জেলা ও বিভাগ ব্যাপী কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের মেধা তালিকা স্থান লাভ করে। বর্তমানে এই স্কুলটিতে দূর্নীতির মহোউৎসব চলে প্রতিনিহিত। তাই আগের তুলনাই এই বছরও পাশের হার অনেকাংশে কমে গেছে, ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা, এমতাবস্থায় ছাত্র-ছাত্রীরা ও অভিভাবকদের অনেকটাই অনিহা জম্মেচ্চে, ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কাযর্ক্রম। ঐতিহ্যবাহী এই স্কুলের নাম অনেকটাই ক্ষুন্ন হয়েছে তাই ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার,  জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করছে স্থানীয় ভূক্তভৌগিরা। দ্রুত দূর্নীতিগ্রস্থ এইসব শিক্ষকদের প্রত্যাহার করে প্রতিষ্টানটির ঐতিহ্য রক্ষা করার জন্য নতুন মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করার জন্য কতৃর্পক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছে ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবকরা।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রতিষ্ঠাতা: মরহুম কাজী মো: রফিক উল্যাহ, সম্পাদক: ইয়াকুব নবী ইমন, প্রকাশক: কাজী নাজমুন নাহার। সম্পাদক কর্তৃক জননী অফসেট প্রেস, ছিদ্দিক প্লাজা, করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী থেকে মূদ্রিত।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ছিদ্দিক প্লাজা(৩য় তলা উত্তর পাশ), করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী। মোবাইল: সম্পাদক-০১৭১২৫৯৩২৫৪, ০১৮১২৩৩১৮০৬, ইমেইল-:: jatiyanishan@gmail.com, Emonpress@gmail.com
Developed By: Trust soft bd