,

উপজেলার রাজনীতি বেগমগঞ্জ: টেনশন মুক্ত বিএনপি, চিন্তিত আ’লীগ

vvvvvvvvv

স্টাফ রিপোর্টার: আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নোয়াখালী-৩( বেগমগঞ্জ) আসনে বিএনপির একক প্রার্থী চূড়ান্ত থাকলেও আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থীর প্রার্থী থাকায় চিন্তিত নেতাকর্মীরা। কোন্দলের কারণে দলের ভরাডুবির আশঙ্কা থাকায় আগামী নির্বাচনে শাসক দলীয় নেতা কর্মীরা তাদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে একক প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
জানা গেছে, এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মামুনুর রশিদ কিরণ সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দান, অনুদান এমনকি তৃণমূল থেকে রাজনীতি করে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়। এমনকি গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস্, গ্লোব সফট ড্রিংক, গ্লোব বিস্কুট এন্ড ডেইরি মিল্ক, গ্লোব ফিশারিজ সহ কয়েকটি শিল্প কারখানায় হাজার হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখায় এবং সকলের সমঝোতার ভিত্তিতে একক প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করলে শতভাগ নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হবে না। এছাড়া ও বর্তমান সরকার সারা দেশের মত বেগমগঞ্জে ব্যাপক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই সংসদ সদস্যের ভূমিকার কারণে অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যক্তি হিসাবে সকল মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।
একই আসন থেকে আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও ইন্ট্রাম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এটিএম এনায়েত উল্যাহ মনোনয়ন চাইলেও তাঁর সহোদর ডা: এবিএম জাফর উল্যাহ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ায় তার দিকে হাই কমান্ডের তেমন লক্ষ নেই। কারণ বলতে গেলে একই পরিবারে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যন আর এমপি অন্যান্য প্রার্থীরা মেনে নেবেনা। অন্য দিকে এ আসনে আরেক প্রার্থী সাবেক সেনা প্রধান মইন ইউ আহম্মেদের সহোদর নোয়াখালী জেলা আওমীলীগের সহ-সভাপতি মিনহাজ আহমেদ জাবেদ। বিগত তত্তাবধায়ক সরকারের আমলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ঘাট, পুল-কালভার্ট, বাড়ী, ঘর নির্মাণ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখেন। তবে দলীয় হাই কমান্ডের সাথে সুসম্পর্ক থাকলেও তৃণমূলে নেতা কর্মীদের কাছ থেকে একটু দুরে রয়েছেন। আশার কথা হলো তিনি ২০০৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করে ৪৬ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। দলীয় প্রার্থী কামরুন নাহার মুন্নি পেয়েছিলেন ৪১ শত ভোট এবং বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মামুনুর রশিদ কিরণ ঐ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ৭৫ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। আওয়ামীলীগের এ তিন প্রার্থীর ভোট কাটাকাটির মধ্যে তখন বিএনপির প্রার্থী বরকত উল্যা বুলু ৯৬ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাই এবার মিনহাজ আহমেদ জাবেদ সমঝোতার মাধ্যমে চূড়ান্ত দলীয় একক প্রার্থী হিসাবে ভোট না করলে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষিণ।
এদিকে এই আসন থেকে এমপি প্রার্থী হিসেবে নতুন করে চৌমুহনী পৌরসভার মেয়র ও চৌমুহনী পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সল এর নাম শুনা যাচ্ছে। রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে আক্তার হোসেন ফয়সলের নাম উঠে আসছে সর্বত্র। তিনি পৌর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে উন্নয়নে ভূমিকা থাকায় এবং রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হওয়ায় বিশেষ করে সাবেক সংসদ সদস্য ও শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম নুরুল হক মিয়া দৌহিত্র হিসাবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। এছাড়াও আক্তার হোসেন ফয়সল বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন জেনারেল আকবর হোসেন,সাবেক ডি.জি,ডিজিএফআই ও নবম পদাতিক ডিভিশনের জি ও সি’র ছোট ভাই হিসাবে তিনি হাই কমান্ডে সুবিধা জনক অবস্থানে রয়েছেন। এক্ষেত্রে আক্তার হোসেন ফয়সলকে দিয়ে দলীয় একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করালে এখানে আওয়ামী লীগ জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অপরদিকে বিগত ২০০৩ইং সনে উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনের দীর্ঘ ১৩ বছর পর আগামী ২২ সেপ্টেম্বর চৌমুহনী পাবলিক হলে বেগমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। উক্ত সম্মেলনে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মামুনুর রশিদ কিরণ সভাপতি এবং চৌমুহনী পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পৌরসভার বর্তমান মেয়র আক্তার হোসেন ফয়সলকে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখতে চায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। ওই দুই নির্বাচিত হলে দলের কোন্দল নিরসন হয়ে বেগমগঞ্জে দল আরো শক্তিশালি হবে বলে মনে করেন তূণমূল নেতাকর্মীরা।
এক্ষেত্রে এ আসনে বিএনপি এখনো অত্যন্ত সুবিধাজনক ও চিন্তা মুক্ত রয়েছে। বিএনপির একক প্রার্থী হিসাবে সদ্য কারামুক্ত ও বিএনপির বর্তমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্যা বুলুকে মনোনীত করে রাখা হয়েছে। তার অবর্তমানে তার স্ত্রী লাকি আক্তার ও বেগমগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট আবদুর রহিমকেও প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে বলেও বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেরেছ।
এখানে ২০০১ইং সনে পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম আওয়ামীললীগ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদান করে নির্বাচিত হলেও এরই মধ্যে বরকত উল্যা বুলু ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮ইং সনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। বর্তমানে আওয়ামীলীগের অন্তকোন্দলের কারণে আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বরকত উল্যা বুলুকে কোন শক্তি পরাজিত করতে পারবে না বলে মনে করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
সব মিলিয়ে নোয়াখালী-৩(বেগমগঞ্জ) আসনের মুলত লড়াউ হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে। এটি বিএনপির ভোট ব্যাংক হিসেবে টেনশন মুক্ত বিএনপির প্রার্থী। দলীয় কোন্দলের কারণে জয় নিয়ে চিন্তিত থাকতে হবে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থীকে। এখনে এখনো পর্যন্ত আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মামুনুর রশিদ কিরণ ও বিএনপি থেকে বরকত উল্যাহ বুলুই চুড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে জানে উভয় দলের নেতাকর্মীরা। আগামীতে কি হয় সেটা সময়েই বলে দেবে।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রতিষ্ঠাতা: মরহুম কাজী মো: রফিক উল্যাহ, সম্পাদক: ইয়াকুব নবী ইমন, প্রকাশক: কাজী নাজমুন নাহার। সম্পাদক কর্তৃক জননী অফসেট প্রেস, ছিদ্দিক প্লাজা, করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী থেকে মূদ্রিত।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ছিদ্দিক প্লাজা(৩য় তলা উত্তর পাশ), করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী। মোবাইল: সম্পাদক-০১৭১২৫৯৩২৫৪, ০১৮১২৩৩১৮০৬, ইমেইল-:: jatiyanishan@gmail.com, Emonpress@gmail.com
Developed By: Trust soft bd