,

আগামীর পথ চলায় সকলকে পাশে চাই

untitled-1-copy

ইয়াকুব নবী ইমন: বৃহত্তর নোয়াখালীর গণমানুষের মুখপত্র ’দৈনিক জাতীয় নিশান’ পত্রিকার ৩৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আজ ১৯ সেপ্টেম্বর। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অসহায়, নির্যাতিত, নিপিড়িত মানুষের কথা বলতে ১৯৭৯ সালের এই দিনে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের গাবুয়া নিবাসী মরহুম কাজী আইয়ুব আলী মাষ্টারের সুযোগ্য পুত্র মরহুম কাজী মোহাম্মদ রফিক উল্যাহ পত্রিকাটি প্রতিষ্ঠা করেন। মূলত বৃহত্তর নোয়াখালী (ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষীপুর) অঞ্চলের সুবিধা বাঞ্চিত সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের চিত্র, দু:খ, দূর্দশা তুলে ধরতেই কাজী মোহাম্মদ রফিক উল্যাহ সাহেব চৌমুহনীর করিমপুর রোড থেকে কাজী প্রিন্টিং এন্ড পাবলিকেশন্স এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে দৈনিক জাতীয় নিশান পত্রিকাটি প্রকাশনা শুরু করেন। এটি প্রথমে সাপ্তাহিক হিসেবে প্রকাশিত হলেও সময়ের প্রয়োজনে ১৯৯১ সালে পত্রিকাটিকে দৈনিকে রুপান্তরিত করা হয়। পত্রিকাটি দৈনিক করার পর কাজী মোহাম্মদ রফিক উল্যাহকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অল্প দিনের মধ্যেই দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মানুষের মনে জায়গা করে নেয় পত্রিকাটি। নানমুখি প্রতিভার অধিকারী ছিলেন মরহুম কাজী মোহাম্মদ রফিক উল্যাহ। উনার মধ্যে ছিলো দুরুন এক লেখনি শক্তি। ’হিং টিং শট, আজরাইলের ডায়রী, খোদার কাছে বান্দার চিঠি, বিশ্বাস করুন হাচা কথা—হিম্মত আলী, তিন হাজার বছরের নোয়াখালী’ ইত্যাদি শিরোনামের কলামগুলো ছিল খুবই জনপ্রিয়। দৈনিক জাতীয় নিশানের পাঠকরা আজো অনুভব করেন কাজী মোহাম্মদ রফিক উল্যাহর সেই খুরধার লেখনি।
প্রতিষ্ঠা থেকে আজবধি উঠতে পত্রিকাটিকে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পার করতে হয়েছে। মোকাবেলা করতে হয়েছে অনেক কঠিন ষড়যন্ত্রের। যা আজো মোকাবেলা করছে দৈনিক জাতীয় নিশান। এক সময় যখন সমাজের অসহায় মানুষের জন্য কথা বলার কেউ ছিলনা তখন ওই মানুষগুলোর একমাত্র ভরসা ছিল জাতীয় নিশান। সত্য প্রকাশে দৈনিক জাতীয় নিশান পত্রিকা কর্তৃপক্ষ কখনো পিচ পা হতো না। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। দৈনিক জাতীয় নিশান শুধু দেশ ও মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। এই দায়বদ্ধতার মধ্যে থেকেই জাতী, দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।
আজকের এই দিনে আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি দৈকিন জাতীয় নিশান পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক কাজী মোহাম্মদ রফিক উল্যাহ স্যারকে। তিনি চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারী আমাদের সবাইকে কাঁদিয়ে এই নশ্বর পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। আমি উনার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি, সেই সাথে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে এই ফরিয়াদ- আল্লাহ যেন স্যারের ভূলত্রুটি ক্ষমা করে উনাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন(আমিন)।
প্রিয় পাঠক, কাজী মোহাম্মদ রফিক উল্যাহ স্যার বাধ্যর্কজনিত কারণে ২০১১ সালে আমাকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশনা অব্যাহত রাখার দায়ীত্ব অর্পন করেন। সেই থেকে আজবদি সেই দায়ীত্ব পালন করে যাচ্ছি। বর্তমানে আমি পত্রিকাটির সম্পাদক। এই সম্পাদনার দায়ীত্বটুকু পালন করতে গিয়ে আমিও নানা বাঁধা বিপত্তিতে পড়েছি। তাছাড়া বর্তমান বাজারে বিশাল কর্পোরেট যুগে আমার মতো নগন্য একজন মানুষ দৈনিক জাতীয় নিশানের মতো বিশাল একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা ও পত্রিকাটির প্রকাশনা অব্যাহত রাখা দুরূহ ব্যাপার। তবু চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলা, সত্যাকে দেশ-জাতী ও পাঠকের সামনে তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি আমরা। পাঠক মহল নিশ্চই লক্ষ করেছেন আমরা যে কোন অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক দূর্বত্তায়ন, মাদক, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অন্যায় অপরাধ গুরুত্বের সাথে তুলে ধরার চেষ্টা করি। তবে হ্যা-এটা শিকার করছি যে, একটি মফস্বর শহর থেকে দৈনিক পত্রিকা বের করে তা পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমাদের অনেক কিছু যাচাই বাচাই করে চলতে হয়। তবুও আমরা আশাবাদি যে পাঠক সমাজ সব সময় দৈনিক জাতীয় নিশানের পাশে থাকবেন।
প্রিয় পাঠক, একটি পত্রিকার প্রধান চালিকা শক্তি হলো অর্থ। আর পত্রিকার অর্থটাই আসে সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন থেকে। কিন্তু অত্যান্ত দুঃখের সাথে বলতে হয়, বর্তমানে স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে বিজ্ঞাপনের আকাল চলছে। তাছাড়া রাজনৈতিক দূর্বত্তায়ন ও চাটুকারীতার কারণে দৈনিক জাতীয় নিশান সেই সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। কারণ জাতীয় নিশান দেশ ও জনগণ ছাড়া কারো কাছে দায়বদ্ধ নয়। আমি দ্বার্থহীনচিত্তে বলতে চাই-দৈকিন জাতীয় নিশান অতীতে যেমন কারো চাটুকারীতা বা লেজুড়বৃত্তি করেনি ভবিষ্যতেও করবেনা কথা দিলাম। মহান আল্লাহর ইচ্ছায় যতদিন দৈনিক জাতীয় নিশান বেঁচে থাকবে ততদিন গণমানুষের কথা বলে যাবে।
এ পর্যায়ে এসে আমি সর্বশক্তিমান মহাল আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি দৈনিক জাতীয় নিশান পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক কাজী মোহাম্মদ রফিক উল্যাহ স্যারের পরিবারের সদস্যদের প্রতি যাদের সহযোগীতায় পত্রিকাটি এখনো স্ব-গৌরবে টিকে আছে। সেই সাথে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি যারা বিভিন্ন সময় দৈনিক জাতীয় নিশানকে বিজ্ঞাপন দিয়ে, অর্থদিয়ে, পরামর্শ দিয়ে, সংবাদ দিয়ে সহযোগীতা করেছেন। আশা করি আগামীতেও কর্কট কঠিন অন্ধকার পথা পাড়ি দিতে আপনাদেরকে পাশে পাবো।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রতিষ্ঠাতা: মরহুম কাজী মো: রফিক উল্যাহ, সম্পাদক: ইয়াকুব নবী ইমন, প্রকাশক: কাজী নাজমুন নাহার। সম্পাদক কর্তৃক জননী অফসেট প্রেস, ছিদ্দিক প্লাজা, করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী থেকে মূদ্রিত।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ছিদ্দিক প্লাজা(৩য় তলা উত্তর পাশ), করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী। মোবাইল: সম্পাদক-০১৭১২৫৯৩২৫৪, ০১৮১২৩৩১৮০৬, ইমেইল-:: jatiyanishan@gmail.com, Emonpress@gmail.com
Developed By: Trust soft bd