,

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আজকের প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ

12744360_1199376506746811_4806314949105390253_n

ইফতেখার হোসাইন : দেশের বিদ্যমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) অনেক দ্রুততার সঙ্গেই এগিয়ে চলছে। উপকূলীয় জেলা নোয়াখালীতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টি নোয়াখালীবাসির জীবনধারায় বহুমাত্রিক গতিবেগ সঞ্চারের পাশাপাশি দেশের প্রযুক্তি সেক্টরের সম্প্রসারণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া প্রতিযোগীতামূলক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বিপুল সম্ভাবনার দুয়ার উমে¥াচন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিকে এভাবে বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা অবকাঠামোগতভাবে উন্নত, একাডেমিকভাবে আধুনিক ও গবেষণাবান্ধব করে গড়ে তুলতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এর উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান। উপাচার্য দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন ‘নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হবে উন্নত আধুনিকতম একটি বিশ^বিদ্যালয়, এটি হবে আজকের প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ’। যেকোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে একজন সৎ, একাডেমিশিয়ান ও সর্বোপরি নিবেদিতপ্রাণ দেশপ্রেমিক উপাচার্যের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কারণ উপাচার্যরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কা-ারি যাদের সুদক্ষ নেতৃত্ব ও পরিচালনায় প্রতিষ্ঠান উন্নতির দিকে এগিয়ে চলে। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে তেমনি এক প্রবাদপ্রতীম উপাচার্য হলেন বরেণ্য শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান যিনি একাধারে প্রথিতযশা শিক্ষাব্যক্তিত্ব, মিডিয়া মুখ ও গবেষক। উপাচার্য হিসেবে ২০১৫ সালের জুন মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি নোবিপ্রবিকে একটি স্থবির, বিশৃঙ্খল, অবস্থা থেকে মুক্ত করে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে আসছেন। ২০০১ এর ১৫ জুলাই সংসদে আইন জারি এবং ২২ জুন, ২০০৬ সালে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এ দীর্ঘ সময় আরো চার উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। বলা হয়ে থাকে, বিশ্ববিদ্যালয়টি শুরু থেকেই নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে চলে আসছিল। কিন্তু বর্তমান উপাচার্যের সময়কালে এখানে সকলক্ষেত্রে শৃঙ্খলার সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে। ছাত্র-শিক্ষকদের মাঝে সম্পর্ক উন্নয়ন, ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী সকলের ভেতর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেম জাগ্রত করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও মান নিশ্চিত করা হয়েছে।
যুগোপযোগী ও উন্নতমানের শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে নোবিপ্রবিতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রী পিএইচডি, এমফিল, এমএস ও পোস্টডকধারী শিক্ষকদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। প্রায় পাঁচ হাজার মেধাবী শিক্ষার্থীর পাঠদানে এখানে নিয়োজিত আছেন ২১৫ জন শিক্ষক। এর মধ্যে ৫০ জনই রয়েছেন পিএইচডিসহ উচ্চতর ডিগ্রীধারী শিক্ষক ও গবেষক। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণার ফল ঠরপঃড়ৎরড়ঢ়রংধ নৎঁহবরবহংরং (ভিক্টোরিওপিসা ব্রুনেইসিস) নামে নতুন অমেরুদ-ী প্রাণীর উদ্ভাবন এবং গাছের শিকডে আলু আর কা-ে টমেটো নামে ‘পমেটো’ সবজি আবিষ্কার । গবেষণায় এখানকার শিক্ষকরা যে অগ্রণ্য তার প্রমাণ জার্নাল অব নোয়াখালী সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি ‘জেএনএসটিইউ’ নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা জার্নাল নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। নোবিপ্রবিতে বর্তমানে ৫টি অনুষদ, ২৪টি বিভাগ ও ২টি ইনস্টিটিউট নিয়ে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে উপকূলবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সমুদ্রসম্পদ কীভাবে কাজে লাগানো যায় তা নিয়ে উচ্চতর পাঠদান ও গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে এখানে খোলা হয়েছে ওশানোগ্রাফি বিভাগ। বর্তমান বিশে^র চাহিদা অনুযায়ী তথ্য ও প্রযুক্তির শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে এখানে খোলা হয়েছে সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনায় উজ্জ্বল বাংলাদেশ; আর এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নোবিপ্রবিতে চালু করা হয়েছে টুরিজম এ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ারের প্রতি লক্ষ্য রেখে নতুন করে খোলা হয়েছে ব্যাচেলর অব এডুকেশন (অনার্স), ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস এবং সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ। এখানে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মেসি, কৃষি, লাইব্রেরী সায়েন্স, আইআইটি বিষয়ে পড়ানো হয়। এছাড়া আছে ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং। চলতি শিক্ষাবর্ষে (২০১৭-১৮) এবারের নতুন ৫টি বিষয় সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং, শিক্ষা বিভাগ, টুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম এবং সমাজবিজ্ঞান সহ মোট ২৪টি বিষয়ে ১২০০ আসনে শিক্ষার্থীরা নোবিপ্রবিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে। ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৩ এবং ৪ নভেম্বর ২০১৭ অনুষ্ঠিত হবে। এখানে উল্লেখ্য, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও

প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত। ডিজিটাল পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমেই তা সম্ভব হয়েছে। তাই দেশের সেরা মেধাবী শিক্ষার্থীরা এখানে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে। নোবিপ্রবিতে আগামী সেশনে রোবোটিক্স, মেকাট্রনিক্সের মতো প্রযুক্তি নির্ভর আন্তর্জাতিক বিষয় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তি জ্ঞানের পাশাপাশি দেশমাতৃকা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ধারণা দিতে ‘স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস’ নামে একটি বাধ্যতামূলক কোর্স চালু আছে। এছাড়া গত সেশনে ‘বাংলাদেশ এন্ড লিবারেশন ওয়ার স্টাডিজ বিভাগ’ নামে বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মত একমাত্র নোবিপ্রবিতেই এ বিভাগ খোলা হয়। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সকল বিভাগের কোর্স কারিকুলামকে ঢেলে সাজানো হয়েছে যাতে এখান থেকে শিক্ষার্থীরা উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে দেশে-বিদেশে সুনামের সঙ্গে কাজ করতে পারে। উল্লেখ করার মতো বিষয় নোবিপ্রবিতে থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে দেশের অন্যন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি সরকারের পররাষ্ট্র, কৃষি, মৎস্য, শিক্ষাসহ অন্যান্য ক্যাডার সার্ভিসমূহে সুনামের সঙ্গে দেশসেবায় নিয়োজিত। বললে অত্যুক্তি হবে, এখানকার শিক্ষার্থীই পৃথিবীখ্যাত মাইক্রোসফটের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় টিমের সদস্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছে। এছাড়াও নোবিপ্রবির ছাত্র-ছাত্রীরা আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং ইউরোপের নামকরা সব বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএস, পিইচডি ও ফেলোসিফ কোর্সে অধ্যায়নরত। শিক্ষার্থীরা যাতে করে আরো বেশি পরিমাণে বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালসমূহে অধ্যায়নের সুযোগ পায় সে বিবেচনায় চেক প্রজাতন্ত্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ বোহেমিয়া, যুক্তরাজ্যের গ্লাডিয়া এঙ্গলিয়া রাসকিন, স্টারলিং এবং নর্থ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষা সমন্বয় কার্যক্রম চালু করেছে নোবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই জাপানের কুমামোতো বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘শাকুরা একচেঞ্জ প্রোগ্রাম ইন সায়েন্স’ এর জন্য মনোনীত হয়েছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই দুই শিক্ষার্থী।
একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি বিশ^বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন অনেকদূর এগিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বাঙ্গীন উন্নয়নে ২৩৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকার প্রকল্পের নানামুখী উন্নয়ন কাজ যেমন- শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুম, উন্নতমানের বহুতল গ্রন্থাগার, সেমিনার রুম, রিডিং রুম, ওয়াইফাই ও ইন্টারনেট সুবিধা, ক্যান্টিন, পরিবহন সুবিধা, পূর্বের ২টি সহ আরো নতুন ৩টি হল নির্মাণ ও ল্যাব ফ্যসিলিটি ইতিমধ্যেই বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ভবনসমূহের ঊর্ধ্বমূখী সম্প্রসারণ কাজ, নতুন নতুন প্রকল্প নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন, আইসিটি ল্যাব, মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠা, মসজিদ ও উপাসনালয় নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা, যেন একখ- জমিও চাষের বাহিরে না থাকে। তদানুযায়ী নোবিপ্রবির খালি জায়গাকে চাষাবাদের আওতায় আনা হয়েছে। সেখানে ধান ও সবজি চাষ করা হয়েছে। এছাড়া জমিতে কৃষি বিভাগ এবং ফুড এন্ড নিউট্রিশন সায়েন্সের শিক্ষার্থীরা নতুন নতুন প্রজাতি আবিষ্কারের গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। ভৌত সুবিধা বৃদ্ধির চেষ্টার অংশ হিসেবে বর্তমানে নোবিপ্রবিতে বাংলাদেশের বৃহত্তম ৪ লাখ ৩৮ হাজার দুই’শ বর্গফুট আয়তনের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একাডেমিক কাম ল্যাব ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ১০ তলা কোয়াটার নির্মাণের টেন্ডার কাজও সম্পূর্ণ হয়েছে। যেখানে শিক্ষক কর্মকর্তাদের জন্য ৮০টি আধুনিক ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি কর্মচারীদর জন্য ৮০টি ফ্ল্যাট সমৃদ্ধ একটি সুবিশাল ভবন নির্মাণের কাজও হাতে নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি নোবিপ্রবি’র শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাড়ি নির্মাণ, জমি ও ফ্ল্যাট ক্রয় এর সুবিধার্তে অগ্রণী ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঝে ৫০ কোটি টাকার কর্পোরেট হোলসেল ঋণচুক্তি সম্পাদন করা হয়। ফলে নোবিপ্রবি পরিবারের সদস্যদের গৃহনির্মাণ ঋণ নেয়ার পথে আর কোনো বাধা থাকলো না। বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় অভ্যন্তরিণ কর্মযজ্ঞ সম্পাদনের পাশাপাশি দেশের জাতীয় বিপযর্য় মোকাবেলায়ও এগিয়ে রয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের উত্তরাঞ্চলের বন্যাকবলিতদের সহায়তায় সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে নোবিপ্রবি পরিবার। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দের একদিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থসহ মোট ৬ লাখ টাকা বন্যাদুর্গতদের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার ত্রাণ তহবিলে প্রদান করা হয়। শুধু তাই নয় মিয়ানমারের নির্যাতিত জাতিগোষ্ঠী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় ‘ত্রাণ তহবিল সমন্বয় কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। এ বছরের ৩০ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের জন্য ৪৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকার রাজস্ব বাজেট ঘোষণা করা হয়, যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ঘোষিত অন্যান্য বাজেটের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণা খাতেই বরাদ্দ সর্বোচ্চ ৪৩ লাখ টাকা রাখা হয়। গবেষণায় একটি বিশ্বমানের পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে ভবিষ্যৎ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সমুদ্র ও সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ইনস্টিটিউট’। বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরেই ৮৭৫ একর জায়গায় এ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে। এর আওতায় রয়েছে একটি পরিবেশবান্ধব ও উন্নতমানের ‘ট্যুরিস্ট জোন’ ও ‘ব্লু-ইকোনমিক’ জোন। এখানে বিশাল এলাকা জুড়ে ইকোপার্ক থাকবে। এছাড়া এর ১২৫ একর জায়গা জুড়ে থাকবে সুবিশাল ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট ও সাফারি পার্ক। ওই ইনস্টিটিউট থেকে ত্রিশ কিলোমিটার দূরে একটি অত্যাধুনিক জেটি নির্মাণ করা হবে। যা হবে বিশ্বে প্রথম কোনো একক ইনস্টিটিউট যেখানে শিক্ষার্থী ও গবেষকরা জন্য সমুদ্র বিজ্ঞান, সামুদ্রিক সম্পদ, ডেল্টা গঠন, এনভায়রনমেন্টাল ইকোলজি এবং মহাকশ বিষয়সমূহে গবেষণা করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-

ছাত্রীদেরকে সময়োপযোগী শিক্ষাদানের পাশাপাশি মনস্তাত্বিক বিকাশ ও শারীরিক সক্ষমতা অর্জনের বিষয়টিকে অধিক প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। সে লক্ষ্যে শরীরচর্চা ও শিক্ষা বিভাগকে সম্পূর্ণরুপে ঢেলে সাজানো হয়েছে। পৃথকভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের হলসমূহে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। বিদ্যমান সাংস্কৃতিক কমিটিগুলোকে উৎসাহিত করে শক্তিশালী করা হয়েছে। যারা এখন ক্যাম্পাসে নানাধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করছে। জাতীয় পর্যায় থেকেও নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে প্রতিবারই ‘বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াড ও জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং কনটেস্ট’ এর আয়োজন করা হয়। ইতিমধ্যে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে শতভাগ নকলমুক্ত করা হয়েছে। আর মাদক এবং সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলার যুগোপযোগী কিছু কর্মসূচিও হাতে নেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বাঙ্গীন কর্মকা- তুলে ধরা ও জনমত গঠনে নোবিপ্রবি ‘জনসংযোগ ও প্রকাশনা’ বিভাগকেও যথাযথ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মযজ্ঞ পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিক মিডিয়াবান্ধব (প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক) হয়েছে। কারণ একটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্ফুটিত হওয়ার জন্য জনসংযোগ ও প্রচারকার্য অতীব প্রয়োজন। এর গুরুত্ব বুঝে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীয়ভাবেই এর পৃষ্ঠপোষকতা করছে। সর্বপরি নোবিপ্রবিকে বাংলাদেশ ও বিশে^র বুকে অন্যতম একটি স্বতন্ত্র ও আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরতে এখানে বিরামহীন জনসংযোগ কর্মকযজ্ঞও চলছে ।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত ২০৪১ সালের একটি উন্নত ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রধানমন্ত্রীর রুপকল্পের যথাযথ সফল বাস্তবায়নের সঙ্গে সাথী হয়ে এ লক্ষ্য পূরণে কাজ করে যাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় শিক্ষার্থী-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, নোয়াখালী অঞ্চলের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসন সকলেরই সমর্থন ও সহযোগীতা পেয়ে আসছি। আমার চার বছরের মেয়াদকালের মধ্যে এ বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি আধুনিক ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশের উপযোগী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবো এবং আমার দৃঢ় বিশ্বাস নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হবে এ প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রতিষ্ঠাতা: মরহুম কাজী মো: রফিক উল্যাহ, সম্পাদক: ইয়াকুব নবী ইমন, প্রকাশক: কাজী নাজমুন নাহার। সম্পাদক কর্তৃক জননী অফসেট প্রেস, ছিদ্দিক প্লাজা, করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী থেকে মূদ্রিত।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ছিদ্দিক প্লাজা(৩য় তলা উত্তর পাশ), করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী। মোবাইল: সম্পাদক-০১৭১২৫৯৩২৫৪, ০১৮১২৩৩১৮০৬, ইমেইল-:: jatiyanishan@gmail.com, Emonpress@gmail.com
Developed By: Trust soft bd