,

ধারবাহিক প্রতিবেদন-১: দূর্নীতির আখড়া বেগমগঞ্জ পিআইও অফিস

gkgit106-copy

বিশেষ প্রতিনিধি: বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ক কর্মকর্তার অফিসটি দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।  যেন তেন প্রকল্পের নাম দিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নয় ছয় করা হচ্ছে সোলার প্যানেল স্থাপন প্রকল্পেও। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে ও চৌমুহনী পৌর এলাকায় ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের অবকাঠামো উন্নয়ন রক্ষনাবেক্ষন প্রকল্পের আওতায় বরাদ্ধকৃত নগদ টাকা ভূঁয়া প্রকল্পের নামে লুটপাট করে নিচ্ছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পিআইও অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রকল্পের সভাপতি-সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ঠরা। সরেজমিন বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এ সব তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দূর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে স্থানীয় সচেতন মহল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যলয়ের মাধ্যমে সরকার চলতি অর্থ বছরের বিশেষ বরাদ্ধের ১ম পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান ও রাস্তার উন্নয়নের মধ্যে  ১ কোটি ১১ লক্ষ ২৯ হাজার ১ ছব্বিশ টাকা বরাদ্ধ দেয়। এর মধ্যে ১নং আমানউল্যাহপুর ইউনিয়নের রাস্তা মেরামত কাজের ৬টি প্রকল্প আর সোলার প্যানেল ৫টি প্রকল্প, ২নং গোপালপুর ইউনিয়নের রাস্তার মেরামতে ৫টি প্রকল্প, সোলার প্যানেল ৬টি, ৩নং জিরতলী ইউনিয়নের রাস্তা মেরামতের ৭টি ও সোসাল প্যানেলের ৭টি প্রকল্প, ৪নং আলাইয়ার ইউনিয়নের রাস্তার কাজে ৫টি ও সোলার প্যানেল ৮টি প্রকল্প, ৫নং ছয়ানী ইউনিয়নের রাস্তার কাজে ৪টি ও সোলার প্যানেলের ৭টি প্রকল্প, ৬নং রাজগঞ্জ ইউনিয়নের রাস্তার উন্নয়নে ৬টি ও সোলার প্যানেল ৭টি প্রকল্প, ৭নং একলাশপুর ইউনিয়নের রাস্তার কাজে ৯টি ও সোলার প্যানেল ৮টি প্রকল্প, ৮নং বেগমগঞ্জ ই্উনিয়নের রাস্তার কাজে ১৩টি ও সোলার প্যানেল ৫টি প্রকল্প, ৯নং মীরওয়ারীশপুর ইউনিয়নে রাস্তার উন্নয়ন ৭টি  ও সোলার প্যানেল ৯টি প্রকল্প, ১০নং নরোত্তমপুর ইউনিয়নে রাস্তা মেরামতে ৮টি ও সোলার প্যানেল ৬টি প্রকল্প, ১১নং দূর্গাপুর ইউনিয়নের রাস্তা মেরামতে ৭টি সোলার প্যানেলে ১৪টি প্রকল্প, ১২নং কুতুবপুর রাস্তা মেরামতে ৮টি ও সোলার প্যানেল ৭টি প্রকল্প, ১৪নং হাজীপুর ইউনিয়নের রাস্তার কাজে ৮টি ও সোলার প্যানেলে ১১টি প্রকল্প, ১৩নং রসূলপুর ইউনিয়নে রাস্তা মেরামতে ফখরুল মিয়ার বাড়ির রাস্তার কাজে ৫৫ হাজার ৯শত বাষট্টি টাকা সোলার প্যানেলের ৬টি প্রকল্প, ১৫নং শরীফপুর ইউনিয়নের রাস্তা মেরামতে ১৫টি ও সোলার প্যানেলে ৫টি প্রকল্প, ১৬নং কাদিরপুর ইউনিয়নে রাস্তা মেরামতে ৯টি সোলার প্যানেল ৬টি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। চৌমুহনী পৌরসভার মধ্যে রাস্তা মেরামত ও প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে ১০টি ও সোলার প্যানেল স্থাপনে ৩২টি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বিভিন্ন নামে প্রকল্প থাকলেও রহস্য জনক কারনে ওয়ার্ড বা নির্ধারিত স্থান উল্লেখ্য করা হয়নি। যা দূর্নীতির স্পষ্ট লক্ষন। কারণ ওয়ার্ড বা নিধারিত স্থান উল্লেখ থাকলে জনগণ বেশি জানতে পারবে ফলে দূর্নীতি করা যাবেনা। এমন আশঙ্কায় এই কৌশল নেয়া হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।
এছাড়া ২০১৬-১৭অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের আওয়াতায় (কাবিটা) প্রকল্প নামে ১নং আমানউল্যাহপুর ইউনিয়নের মধ্যে অভিরামপুর আমানউল্যাহ জামে মসজিদ ও কন্ট্রাক্টর বাড়ি জামে মসজিদে সোলার প্যানেল স্থাপন ৩ লক্ষ ১০ হাজার টাকা, ২নং গোপালপুর ইউনিয়নে আটিয়াকান্দি সিরাজ উদ্দিনপুর জামে মসজিদ ও আটিকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সোলার প্যানেল স্থাপন ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা, ৩নং জিরতলী ইউনিয়নে কেবি ইউনিয়নে উচ্চ বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপন ৩ লাখ টাকা ও মধ্যম জিরতলী জামে মসজিদ ও জিরতলী রাস্তার জামে মসজিদ সোলার প্যানেল স্থাপন ৩ লাখ টাকা, ৪নং আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের কোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চাঁদ মিয়া হাজি জামে মসজিদে সোলার প্যানেল স্থাপন ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা, ৫নং ছয়ানী ইসলামীয়া ফাযিল মাদ্রাসা ও ভবানী জীবনপুর মাদ্রাসা সোলার প্যানেল স্থাপন ৩ লাখ টাকা, ৬নং রাজগঞ্জ ইউনিয়নে আলামপুর সরকারি  প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও মজিবপুর জামে মসজিদ ফোরকানিয়া মাদ্রাসায় সোলার প্যানেল স্থাপন ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা, ৭নং একলাশপুর আয়তুর রহমত জামে মসজিদ ও মৌলভি সুফি সাহেব জামে মসজিদ সোলার প্যানেল স্থাপন ৩ লাখ ১৪ হাজার ৫৬৫ টাকা, ৮নং বেগমগঞ্জ ইউনিয়নে বায়তুন নুর জামে মসজিদ ও বায়তুন জান্নাত জামে মসজিদ সোলার প্যানেল স্থাপন ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা, ৯নং মীরওয়ারীশপুর ইউনিয়ন মিজি বাড়ি জামে মসজিদ বায়তুন নুর জামে মসজিদ ও বারিরহাট জামে মসজিদ সোলার প্যানেল স্থাপন ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা, ১০নং নরোত্তমপুর বকশিমিয়া জামে মসজিদ ও পশ্চিম নরোত্তমপুর আশ্রাফুল উলিয়া মাদ্রাসা সোলার প্যানেল স্থাপন ১ লক্ষ টাকা। ১১নং দূর্গাপুর লক্ষ্মীনারায়নপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও পশ্চিম লক্ষ্মীনারায়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সোলার প্যানেল স্থাপন ৩ লাখ টাকা, ১২নং কুতুবপুর ইউনিয়ন মীর আহাম্মদপুর মাদ্রাসা সোলার প্যানেল স্থাপন ৩ লাখ টাকা ও কাজির হাট উচ্চ বিদ্যালয় সোলার প্যানেল স্থাপন ৩ লাখ টাকা, ১৩নং রসুলপুর ইউনিয়নে পূর্ব রফিকপুর জামে মসজিদ ও দক্ষিন রফিকপুর ওয়ালি ব্যাপারি জামে মসজিদ সোলার প্যানেল স্থাপন ৩ লাখ টাকা, ১৪নং হাজিপুর ইউনিয়নে মজিব উচ্চ বিদ্যালয় ও দক্ষিণ পশ্চিম হাজিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সোলার প্যানেল স্থাপন ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা, ১৫নং শরীফপুর ইউনিয়ন মুরাদপুর জামে মসজিদ ও মুরাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সোলার প্যানেল স্থাপন ৩ লক্ষ টাকা, ১৬নং কাদিরপুর  ইউনিয়ন কাদিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ও সাহেবের হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপন ৩ লাখ টাকা, কাবিটার অন্তভূক্ত রাস্তার মাটির কাজের মধ্যে ২নং গোপালপুর ইউনিয়নের তুলাচারা উজির আলী দরজা হতে কামী বাড়ি দরজা পর্যন্ত মাটির কাজ ৩ লক্ষ ৬৪ হাজার  ৫৬৫ টাকা, ৩নং জিরতলী ইউনিয়ন কালিরহাট পাকা রাস্তার মাথা থেকে বাবুপুর পোস্ট অফিসের রাস্তা পর্যন্ত মাটির কাজ ৩ লাখ টাকা ও রঘুরামপুর হান্নানের দোকান হতে মুছামিয়া পন্ডিত বাড়ি পর্যন্ত ৩ লাখ টাকা, ৬নং রাজগঞ্জ ইউনিয়নের শ্রীধরপুর মিদ্দাবাড়ি  হতে পাটোয়ারী বাড়ি জামে মসজিদ পর্যন্ত মাটির কাজ ৩ লাখ টাকা ও ডুবাই মার্কেট হতে শ্রীধরপুর রাস্তার কাজ ৩ লাখ টাকা, ৭নং একলাশপুর ইউনিয়নে একলাশপুর মাজার গেইট হতে আটিয়াবাড়ির ব্রীজ পর্যন্ত মাটির কাজ ৩লাখ টাকা, ৮নং বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন মুজাহিদপুর বৈরাগীবাড়ি হতে সরকার বাড়ি হয়ে বনিকা বাড়ি পর্যন্ত মাটির কাজ ৩ লাখ টাকা, মুজাহিদপুর, ইসলামপুর, আমানতপুর বেড়ী বাঁধ নির্মাণ ১০ লক্ষ টাকা, ১০নং নরোত্তমপুর ইউনিয়ন  সোনাইমুড়ীর নাটেশ^র সীমানা হয়ে দক্ষিণ মুখী থেকে বেকে ছোট হাজিপুর বাড়ির ব্রীজ ও সাকু সরদার ব্রীজ পর্যন্ত ৩ লাখ টাকা, নরোত্তমপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হতে মন্নান মিয়ার বাড়ির রাস্তার উন্নয়ন ৩ লাখ টাকা। ১৩নং রসুলপুর ইউনিয়ন ১২১নং রফিকপুর ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ ভরাট ৩ লাখ টাকা, ১৪ নং হাজীপুর ইউনিয়নেসর পূর্ব হাজিপুর আনোয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট ৩ লাখ টাকা, বাঁশতলা থেকে  এই মসজিদ উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তার মেরামত কাজ ৩ লাখ টাকা, হাজি উজির আলী সড়ক শরীফপুর ইউনিয়ন ডাক্তারপাড়া মুজাহিদ সড়ক কুত্তরিয়া পাড়া সড়ক মেরামত ৩ লাখ টাকা ও নতুন ব্রীজ হতে চৌধুরী কনস্টেবল বাড়ি পর্যন্ত মাটির কাজ  ৩ লাখ টাকা বরাদ্ধ হয়েছে। সরেজমিন এসব প্রকল্প পরিদর্শনে অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়। সাধারণ মানুষ সঠিক কাজ না হওয়ায় ক্ষুব্দ । পিআইও অফিসের কমিশন বাণিজ্যেও অতিষ্ঠ সংশ্লিষ্ঠ প্রকল্পের সভাপতি-সম্পাদকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
তবে বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম মাওলা বরাবরই দূর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন।
প্রিয় পাঠক-বেগমগঞ্জ উপজেলা পিআইও অফিসের ব্যাপক অনিয়ন ও দূর্নীতি খবর এই প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ঠদের বক্তব্যসহ আগামী সংখ্যায় বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরা হবে। আপনার এলাকার কোন অনিয়ম আর দূর্নীতির তথ্য থাকলে আমাদের এই নাম্বারে ০১৮১২৩৩১৮০৬ জানান। জনস্বার্থে আমরা তা প্রকাশ করবো।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রতিষ্ঠাতা: মরহুম কাজী মো: রফিক উল্যাহ, সম্পাদক: ইয়াকুব নবী ইমন, প্রকাশক: কাজী নাজমুন নাহার। সম্পাদক কর্তৃক জননী অফসেট প্রেস, ছিদ্দিক প্লাজা, করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী থেকে মূদ্রিত।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ছিদ্দিক প্লাজা(৩য় তলা উত্তর পাশ), করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী। মোবাইল: সম্পাদক-০১৭১২৫৯৩২৫৪, ০১৮১২৩৩১৮০৬, ইমেইল-:: jatiyanishan@gmail.com, Emonpress@gmail.com
Developed By: Trust soft bd