,

সত্য প্রকাশে লড়ে যাচ্ছেন সাংবাদিকরা

Untitled-1-copy-222x225

ইয়াকুব নবী ইমন: যখন চারদিকে অন্ধকার ঘনিভূত, যখন দেশের মানুষ দিশেহারা, যখন সমাজের নির্যাতিত নিপিড়িত মানুষের হাহাকারে আকাশ বাতাশ ভারি হয়, যখন সাধারণ মানুষের কোথাও যাওয়ার কোন স্থান থাকেনা, যখন বিচারের বাণি নিরবে নিবৃতে কাঁদে, অন্যায় যেখানে নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় তখন এসব কদাচার দুর করতে একমাত্র সাংবাদকরাই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
প্রিয় পাঠক, এর আগে আমি আমার একটি কলামে লিখেছিলাম-“একাই লড়বো আমি”। সত্যি আমি সমাজের শত অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার, ঘুষখোর, সুদখোর, দূর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে একাই লড়াই করতে গর্ববোধ করি। আমি মনে করি এই লড়াইড়ে আমি মরলে হবো শহিদ, বাঁচলে হবো গাজি। তবুও আমি আগামী প্রজম্মকে দেখিয়ে দিয়ে যেতে চাই কি ভাবে সমাজের দুষ্ট চক্রের বিরুদ্ধে লড়তে হয়। কারণ লড়াই করার জন্যইতো আমি এই পেশায় এসেছি। আমার সাংবাদিকতা পেশাটি যে কঠিন, আর আমি জেনে শুনে কঠিনেকে ভালোবেসেছি। প্রিয় পাঠক, যে কথাটি বলার জন্য আজকে এই লেখাটি লিখতে বসেছি তা নিশ্চই ইতিমধ্যে আপনারা আন্দাজ করতে পেরেছেন।
সত্য প্রকাশে লড়ে যাচ্ছেন সাংবাদিকরা শিরোনামটি দিয়েছি সম্প্রতি দেশে সাংবাদিকদের উপর হামলা, মামলা, নির্যাতনের প্রসঙ্গটি তুলে ধরতে। আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, গত সপ্তাহে দেশের প্রথম শ্রেনীর দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম মিজান, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত ও খুলনার সর্বাধিক পঠিত অনলাইন পত্রিকা খুলনা কন্ঠের প্রকাশক ও সম্পাদক ইশরাত ইভার বিরুদ্ধে মানহানির মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ইতিমধ্যে নঈম মিজান ভাই বলেছেন, নিয়ম অনুযায়ী বাদি পর পর ৩ শুনানির তারিখে আদালতে হাজির না হলে মামলা এইতেই খারিজ হয়ে যায়, কিন্তু উনার মামলার বাদি ৫ শুনানিতে হাজির হননি। ৬ষ্ঠ শুনানিতে আদালত নইম মিজানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন। আমি আদালত নিয়ে কোন মন্তব্য করতে চাইনা। ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্তের বিরুদ্ধেও আদালত একটি মানহানির মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন। এদিকে অনলাইন পত্রিকা খুলনা কন্ঠের প্রকাশক ও সম্পাদক ইশরাত ইভার বিরুদ্ধে খালিশপুর এলাকায় এক ভূমিদস্যুর দায়ের করা মামলায় আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন। এই মামলা দায়ের, মামলার চার্জসিট প্রদান ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা চলছে। এ নিয়ে সারা দেশের সাংবাদিকরা প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছেন ও এখনো বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশ হচ্ছে।
মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দেশের প্রথম শ্রেনীর দুটি পত্রিকার সম্পাদক ও একটি আঞ্চলিক পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা চলছে। আমাদের বর্তমান সরকারের কর্তাব্যক্তিরা প্রায় সময় বলে থাকেন দেশের গণমাধ্যন স্বাধীন। গণমাধ্যমের উপর কোন হস্তপেক্ষ নেই সরকারের। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখি উল্টো চিত্র। দেশের কোথাও সরকারী কোন লোকের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেই সেটা সত্য হলেও তাদের চেলা-চামচারা গণমাধ্যমের সংশ্লিষ্ঠদের বিরুদ্ধে আদালতে বা থানায় মামলা ঠুকে দিচ্ছেন। আর বর্তমানে ৫৭ ধারা নামে যে আইন আছে দেশে তা দিয়ে যে কোন লোক বিশেষ করে সাংবাদিকদের ফাঁসানো সহজ হয়ে গেছে। তাই ৫৭ ধারা এখন সাংবাদিকের জন্য গলার কাটা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
প্রিয় পাঠক, শত বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে আমরা জনগনের সামনে সত্য কথাটি তুলে ধরার চেষ্টা করি। কেউ ক্ষমতায় থেকে সরকারী জায়গা দখল করবে, সমাজের অসহায় মানুষকে নির্যাতন করবে, হত্যা-ধর্ষণ-রাহাজানি করে যাবে আর আমরা মুখ বুঝে দেখে যাবো তাতো হয়না। সমাজের সুশিলরা, ক্ষমতাসীন দলের বড় কর্তাব্যক্তিরা, সরকারী আমলাদের চোখ থাকতেও তারা অন্ধ হতে পারেন, কিন্তু এক জন সংবাদ কর্মী হিসেবে আমরা বসে থাকতে পারিনা। কারণ আমার বিবেক আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায় সমাজের অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে। আমি যদি নির্যাতিতদের পাশে না দাঁড়াই তবে কেন আমি এই পেশায় আসলাম। আমার মন আমাকে খুবলে খায় আর ধিক্কার দেয়। আজকের সমাজ ব্যবস্থায় সাধারণ আমজনতা গোল্লায় যাক, আমরাটা ঠিক থাক, এই নীতিই অবলম্বন করছেন সবাই। কিন্তু এর থেকে বাইরে এক শ্রেনীর মানুষ আছেন যারা নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ান, তারা হলেন-আজকের সংবাদ কর্মী। এই দায়ীত্বটুকু পালন করতে গিয়েই মামলা, হামলা, খুন, গুম, নির্যাতন আর হুমকির শিকার হচ্ছেন তারা। কিন্তু আর কত নির্যাতিত হবেন সাংবাদিকরা, আমরাওতো মানুষ, আর মানুষের পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে যায়, তখন প্রতিরোধ স্পিহা তাকে বাঁচার স্বার্থে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে উদ্বুদ্ধ করে। সুতরাং- আরেকটা লড়াই করতে হবে-যা কলমের লড়াই, আর এই লড়াইয়ে আমরাই জিতবো ইনশাআল্লাহ। (ভূলত্রুটি মার্জনিয়)- লেখক: ইয়াকুব নবী ইমন, সম্পাদক, দৈনিক জাতীয় নিশান ও নোয়াখালী প্রতিনিধি, বাংলা টিভি, ০১৮১২৩৩১৮০৬

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রতিষ্ঠাতা: মরহুম কাজী মো: রফিক উল্যাহ, সম্পাদক: ইয়াকুব নবী ইমন, প্রকাশক: কাজী নাজমুন নাহার। সম্পাদক কর্তৃক জননী অফসেট প্রেস, ছিদ্দিক প্লাজা, করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী থেকে মূদ্রিত।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ছিদ্দিক প্লাজা(৩য় তলা উত্তর পাশ), করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী। মোবাইল: সম্পাদক-০১৭১২৫৯৩২৫৪, ০১৮১২৩৩১৮০৬, ইমেইল-:: jatiyanishan@gmail.com, Emonpress@gmail.com
Developed By: Trust soft bd