,

সেনবাগ সরকারি হাসপাতালের বেহাল দশা

12

ভ্রাম্যামান প্রতিনিধি: সেনবাগ সরকারি হাসপাতালের বেহাল দশা বিরাজ করছে। এতে করে সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে পুরো উপজেলার সাধারন জনগন। উপজেলার একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে চিকৎসা সেবার মান একেবারে নিচে নেমে গেছে। চরম অনিয়ম, হাসাপাতালের চারদিকে ময়লা আবর্জনার স্তূপ ও অব্যবস্থার কারণে যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না রোগীরা। সরকারি হাসপাতালে সরকারের সরবরাহকৃত ওষুধ পর্যাপ্ত, হাসপাতালের আধুনিক ভবন আছে, পর্যাপ্ত ডাক্তার আছেন, বেড আছে, নার্স আছেন, আছেন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সবকিছুই। কিন্তু নেই শুধু উপযুক্ত চিকিৎসা। দিনের বেলায় যদিও ডাক্তাররা ডিউটিতে থাকে কিন্তু সন্ধা হলেই কোনো রোগী চিকিৎসা নিতে আসলে ডাক্তার না থাকায় বেশীরভাগ রোগীদের ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকে এই হাসপাতালে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চলে আসছে। সম্প্রতি সেনবাগ উপজেলার বেশীর ভাগই গরিব অসহায় মানুষ অসুস্থ্য হলেই প্রাইভেট হাসপাতালে টাকার অভাবে চিকিৎসা নিতে না পেরে তাদের একমাত্র গরিবীয় আশ্রায়স্থল সরকারি হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসে কিন্তু উন্নত চিকিৎসা না পেয়ে বেশীর ভাগই রোগীকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সেনবাগ সরকারি হাসপাতালটির প্রতিটি ভবনের চারপাশে ময়লা আর্বজনার স্তূপ পড়ে আছে। ময়লা-আবর্জনা পড়ে দূর্ঘন্ধ বের হচ্ছে। এতে করে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা আরো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে মানুষকে উন্নত সেবা প্রদান করার কথা সেখানের চারপাশে যদি এই রকম বর্জ্য পড়ে থাকে তাহলে মানুষতো এমনিই অসুস্থ হয়ে যাবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় চারদিকে ভয়াবহ পরিবেশ রুপ ধারন করে হাসপাতালটি নিজেই রোগী হয়েই পড়েছে। আবার হাসপাতালের টয়লেটগুলোর পরিস্কার না করায় দুগন্ধ সৃষ্টি হয়ে সুস্থ মানুষও অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। এক কথায় এই হাসপাতাটিতে রোগীদের বিড়ম্বনার শেষ নেই। সরকারি আইন অনুয়ায়ী হাসপাতালে ২৪ ঘন্টা ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও সন্ধা হওয়ার পর থেকে রোগীরা কোন সেবা পায় না বললেই চলে।
সকাল থেকেই দুপর পর্যন্ত পর্যাপ্ত সেবা কিছুটা পেলেও দুপুরের পর থেকে রাত্র পর্যন্ত হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খাম খেয়ালীর অভিযোগ পাওয়া যায়। বর্তমানে হাসপাতাটিতে যন্ত্রপাতি ওষুধ সরবরাহ যাচ্ছে নিয়মিত, আছে চিকিৎসক, নার্স, আয়াসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী; শুধু নেই কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা। শুধু সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতায় সেবাবঞ্চিত থাকছেন রোগীরা। ডাক্তারের অবর্তমানে ওয়ার্ডবয় আর নার্সদের গাফিলতিতে আয়ারা হয়ে ওঠেন সর্বেসর্বা। বর্তমানে ছুটির দিন আর সপ্তাহের প্রতি রাতের বেলায় হাসপাতালের চেহারা যেন আমূল পাল্টে যায়। বহু খোঁজাখুঁজি করেও কর্মরত ডাক্তারদের সন্ধান মেলে না। দরজা আটকে বিশ্রামে থাকা নার্সদের ডাকলে রীতিমতো রক্তচক্ষু দেখতে হয়।
ভুক্তভোগী এক রোগীর পরিবার জানান, তারা হাসপাতালে রোগী নিয়ে গেলে রোগীর অবস্থা সংকটপন্ন হলেও নেই তেমন কোনো তৎপরতা। হাসপাতালের নার্সরা এসে প্রথমেই সামান্য স্যালেইন পিট করে দিয়ে গেলে এর পর আর দেখা যায়নি। পরে তার তাদের রোগীকে অন্যত্র নিয়ে যায়। এই হাসপাতালটি উপজেলার প্রধান স্থাস্থ্য কমপ্লেক্স হলেও হাসপাতালের সেবার মান এতটা নি¤œ দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকার সচেতন মহল। এমতাবস্থায় সেনবাগ সরকারি হাসপাতালটির প্রতি রোগীদের আস্থা উঠে যাচ্ছে।
সেনবাগ সরকারী হাসপাতালটিতে চিসিৎসার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে স্থানীয়রা প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তপেক্ষ কামনা করেছেন
এ ব্যাপারে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো: জাকির হোসেনের সাথে আলাপ করতে মোবাইলে কল করলেও তিনি ধরেননি।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রতিষ্ঠাতা: মরহুম কাজী মো: রফিক উল্যাহ, সম্পাদক: ইয়াকুব নবী ইমন, প্রকাশক: কাজী নাজমুন নাহার। সম্পাদক কর্তৃক জননী অফসেট প্রেস, ছিদ্দিক প্লাজা, করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী থেকে মূদ্রিত।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ছিদ্দিক প্লাজা(৩য় তলা উত্তর পাশ), করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী। মোবাইল: সম্পাদক-০১৭১২৫৯৩২৫৪, ০১৮১২৩৩১৮০৬, ইমেইল-:: jatiyanishan@gmail.com, Emonpress@gmail.com
Developed By: Trust soft bd