,

বেগমগঞ্জে যৌতুকের দাবীতে অন্তসত্বা গৃহবধু রিনাকে হত্যার অভিযোগ পরিবারের, এলাকায় ক্ষোভ

noakhali-pic-rina

প্রতিনিধি: বেগমগঞ্জ উপজেলার নরোত্তমপুর গ্রামের ৯নং ওয়ার্ডের বদিুউর রমহমানের বাড়িতে যৌতুকের দাবীতে গৃহবধু রাশেদা খানম রিনাকে(২৮) নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার পর নিহত রিনার ভাই আবদুল মমিন বাদী হয়ে থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ও বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চৌমুহনী পৌরসভার গনিপুর ৬নং ওয়ার্ড এলাকার আবুল কাশেমের মেয়ে রাশেদা খানম রিনার সাথে ৮ বছর আগে নরোত্তমপুর গ্রামের ৯নং ওয়ার্ডের বদিুউর রমহমানের বাড়ির মৃত বদিউর রমহান ওরফে লিজ বদুর পুত্র নুর মোহাম্মদ বাদশা ওরফে বাদশা আলমের(৩৮) সাথে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। তাদের ৮ বছরের সংসার জীবনে রাইসা(৬) ও রোহান(৩) নামের দুই সন্তান জম্ম নেয়। রিনার মৃত্যুর সময় ৫ মাসের অন্তসত্বা ছিলো। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবীতে বাদশা রিনাকে নানাভাবে নির্যাতন করতো। মেয়ের মুখের দিকে তাদিকে রিনার বাবা ও ভাইয়েরা বাদশাকে ৫ লাখ টাকা প্রদান করে। কিন্তু দু:চরিত্রের বাদশা মামালা মোকদ্দমায় জড়িয়ে, নেশা করে, জুয়া খেলে এই টাকা শেষ করে ফেলে। এর পর তাকে আরো ৩ লাখ টাকা বাবার বাড়ি থেকে এনে দেয়ার জন্য বাদশা রিনাকে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করতে থাকে। রিনা যৌতুকের টাকা বাবার বাড়ি থেকে এনে দিতে অস্বীকার করায় গত ১৬/৭/২০১৭ইং তারিখে রিনাকে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে। খবর পেয়ে রিনার আত্মীয়রা তার শশুর বাড়িতে গিয়ে রিনাকে উদ্ধার করে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে বাদশা আর যৌতুক চাইবেনা ও রিনাকে নির্যাতন করবেনা বলে ওয়াদা করে রিনাকে আবার বাড়িতে নিয়ে যায়। এর পরও তার নির্যাতন থাকেনি। যৌতুকের বাদীতে গত ২২ জানুয়ারী সকালে ব্যাপক মারধর করে বাদশা ও তার পরিবারের লোকজন। এতে ঘটনাস্থলেই রিনার মৃত্যু হয়। পরে রিনার গলায় ওড়না পেচিয়ে এটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করতে থাকে তারা। খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যদি এটি আত্মহত্যা হয় তাহলে ঘটনার দিন বাদশা ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়ে গেল কেন?
এদিকে সরেমজিন রিনার শশুর বাড়িতে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে আলাপ কালে জানা যায়, বাদশা একজন মাদকাশক্ত ব্যক্তি। প্রায় সময় বাদশা মদ খেয়ে মাতলামি করে ও স্ত্রী ও ছেলে মেয়েকে নির্যাতন করতো।
বাদশা তার স্ত্রী রিনাকে নির্যাতনের বিষয়টি তার কন্যা সবার কাছে বলেছে। বর্তমানে রিনার হতভাগ্য দুটি সন্তান তাদের নানার বাড়িতে আছে। নরপিশাস বাদশা এই সন্তানদের দিকেও তাকায় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
অপরদিকে ঘটনার পর নিহত গৃহবধু রিনার বড় ভাই আবদুল মমিন বাদী হয়ে বাদশা, তার ভাই মানিক, মা সামছুর নাহার ও বোন মুন্নিকে আসামী করে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামনা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
পুলিশের কাছে নিয়ে যাওয়া এজাহারে নিহত গৃহবধুর ভাই আবদুল মমিন আরো উল্লেখ করেন, যারা আমার বোনকে দেখেছে তারা বলেছে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতে চিহৃ আছে। এ ব্যাপারে বেগমগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) ফিরোজ হোসেন মোল্লা বলেন, ডাক্তারী রিপোর্টে এটি আত্মহত্যা এসেছে। ফাইনাল রিপোর্টও হয়ে গেছে। তবে গৃহবধু রিনাকে যৌতুকের দাবীতে আগে পরে নির্যাতনের বিষয়টি ওসি বেগমগঞ্জের সাথে আলাপ করতে চাইলে তিনি ব্যস্ত আছেন, পরে কথা বলবেন বলে জানান।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রতিষ্ঠাতা: মরহুম কাজী মো: রফিক উল্যাহ, সম্পাদক: ইয়াকুব নবী ইমন, প্রকাশক: কাজী নাজমুন নাহার। সম্পাদক কর্তৃক জননী অফসেট প্রেস, ছিদ্দিক প্লাজা, করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী থেকে মূদ্রিত।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ছিদ্দিক প্লাজা(৩য় তলা উত্তর পাশ), করিমপুর রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী। মোবাইল: সম্পাদক-০১৭১২৫৯৩২৫৪, ০১৮১২৩৩১৮০৬, ইমেইল-:: jatiyanishan@gmail.com, Emonpress@gmail.com
Developed By: Trust soft bd