নোয়াখালী-৪ আসনে দুই সেয়ানের লড়াই!

ইয়াকুব নবী ইমন: অবশেষে বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ গ্রহনের ঘোষনা দেওয়ায় এক দিনেই পাল্টে গেছে নোয়াখালী-৪(সদর-সুবর্নচর) আসনের নির্বাচনী চিত্র। এতো দিন ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা নিক্রিয় থাকলেও এখন তাদের তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। নোয়াখালী-৪ আসনটি আওয়ামীলীগ-বিএনপি দুই দলের জন্যই ইমেজ রক্ষার লড়াই। আসনটি জেলা সদর হওয়ায় সবার কাছে এই আসনটি গুরুত্বপূর্ন। কারণ এখান থেকে জেলাব্যাপী সব দলের রাজনীতি নিয়ন্ত্রন করা হয়। এই আসন থেকে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জেলা সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইচ চেয়ারম্যান সাবেক এমপি শাহ জাহান প্রতিদ্ধন্ধিতা করবেন। ফলে কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডের দৃষ্টিও থাকে এই আসনের উপর।
স্থানীয়রা বলছেন, এখানে লড়াই হবে দুই সেয়ানে সেয়ানে। কারণ বিগত ১০ বছর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকায় একরামুল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে জেলা আওয়ামীলীগ অনেকটা সু-সংগঠনিত এবং ঐক্যবদ্ধ। তাছাড়া বিগত দিনের উন্নয়নের কারণে জেলায় আওয়ামীলীগ সরকারের প্রতি আস্থাও বেড়েছে অনেক ভোটারের। তাছাড়া উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সচেতন ভোটাররা আওয়ামীলগকেই ভোট দেবে বলে মনে করেন আওয়ামীলীগের নীতি নির্ধারনী মহল। সে হিসেবে জয়েন ব্যাপারে আওয়ামীলীগ অনেকটা নিশ্চিন্ত। তবে শান্তিপূর্ন ভাবে ভোট হলে পাল্টে যেতে পারে ভোরের চিত্র। কারণ এই আসনটি বিএনপির খাঁটি হিসেবে পরিচিত। সময় ও সুযোগ ফেলে বিএনপিও ফসল তাদের ঘরে তুলতে বদ্ধ পরিকর।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানায়, নোয়াখালী-৪ আসনটি দুটি উপজেলা ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। সদর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়ন, সুবর্নচর উপজেলার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে এই আসনটি গঠন করা হয়। এটি ২৭১ সংসদীয় আসন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৩২৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৬৫ হাজার ২৩৮ এবং নারী ২ লাখ ৭৯ হাজার ৯১ জন।
বর্তমান সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী ২০০৮ সালে এ আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জেলা আওয়ামীলীগকে সু-সংগঠিক করে।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী বিএনপি নির্বাচনে না আসায় একরামুল করিম চৌধুরী আওয়ামীলীগ থেকে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী একরামুল করিম চৌধুরী শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। দলের নেতাকর্মীরাও চাঙ্গা। ফলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদি একরামুল করিম চৌধুরী।
অপরদিকে এ আসন থেকে তিন বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান বিএনপির ভাইচ চেয়ারম্যান শাহ জাহান। তিনি ১৯৯১ সালে এ আসনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তিতে পর পর আরো দুই বার ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তিনি এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে তিনি বর্তমান এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন। সাবেক তিন বারের সংসদ সদস্য ও বর্তমানে বিএনপির নীতি নির্ধারনী মহললের এক জন শাহ জাহান নিজ এলাকায় ব্যাপক পরিচিত। তিনি ক্ষমতায় থাকা কালে এই আসনে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তার ব্যক্তি ইমেজও ভালো। তাছাড়া নোয়াখালীর এই আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আজ সোমবার থেকে দলের মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু হওয়ায় দলের নেতাকর্মীরা উৎফুল্ল। নেতারা মাঠ গুচিয়ে নিচ্ছেন। অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি শাহ জাহান।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *