নোয়াখালী-৫ আসনে দুই ভিআইপ প্রার্থীর লড়াই!

ইয়াকুব নবী ইমন:নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট-সদর আংশিক) আসনটি জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু জেলায় নয়, দেশব্যাপী আলোচিত এই আসন। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নির্বাচনী এলাকা হওয়ায় এ আসনটি ভিআইপি হিসেবে পরিচিত। দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর নির্বাচনী লড়াইয়ের কারণে জাতীয়ভাবে সবার দৃষ্টি থাকে এ আসনের দিকে। দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই উত্তাপ বাড়ছে কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট-সদর (আংশিক) উপজেলার রাজনীতিতে। যদিও ভোটের মাঠে বিএনপি নেই, তবুও তবে ভেতরে ভেতরে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানায়, নোয়াখালী-৫ আসনটি দুটি উপজেলার পূর্নাঙ্গ ও একটি উপজেলার আংশিক অংশ এবং দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন, কবিরহাট উপজেলার একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়ন এবং সদর উপজেলার দুটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৩১ হাজার ৬৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩৮ এবং নারী ১ লাখ ৬৩ হাজার ৩৩১ জন।
এ আসনে ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আবু নাছের চৌধুরী নির্বাচিত হন। বর্তমান সাংসদ সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ১৯৯৬ সালে এ আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের যুব, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৮ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বার তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে ওবায়দুল কাদের বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় ফের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ওবায়দুল কাদের খুবই শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। দলের নেতাকর্মীরা নির্বাচনমুখি। দল অত্যান্ত সু-সংগঠনিত। ফলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি ওবায়দুল কাদের।
এক প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা দেশের অনেক উন্নয়ন করেছি। আমাদের নোয়াখালীতে বিশেষ করে আমার এলাকায় অনেক উন্নয়ন হয়েছে। আরো উন্নয়নের বাকি রয়েছে। অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে হবে। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে জনগণ আবারো আমাকে তথা নৌকায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনার জয়কে নিশ্চিত করবে। এ জন্য তিনি দলের নেতাকর্মীসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।
অপরদিকে এ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য হয়েছিলেন সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি ১৯৭৯ সালে এ আসনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করার পর তিনি ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং সরকারের তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এক বছর পর তাকে উপ-প্রধানমন্ত্রী করা হয়। ১৯৮৮ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৮৯ সালে তাকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং এরশাদ তাকে উপ-রাষ্ট্রপতিও করেন। জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯১ সালে মওদুদ আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০১ সালেও তিনি বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নোয়াখালী-৫ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি তখনকার সময় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। এখানে তারও ব্যক্তি ইমেজ ও দলীয় শক্ত অবস্থান রয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ব্যারিস্টার মওদুদ আহম্মদ এ আসনে ব্যাপক ভাবে পরিচিত। তিনি ক্ষমতায় থাকা কালে ওই আসনে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন বলে দাবী করছে বিএনপি।
তবে কেন্দ্রীয় ভাবে এখনো বিএনপি ভোট করার সিন্ধান্ত না নেওয়ায় তিনি এখনো মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি। তবে দলের নেতাকর্মীরা মাঠ গুচিয়ে নিচ্ছেন। অবাধ, সুষ্ঠ নির্বাচন হলে ব্যারিস্টার মওদুদ আহম্মদনও জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি।
এমনি এই আসনে রাজনৈতিক সহাবদ্ধান অন্যান্য আসনের তুলনায় ভালো। যদিও বিএনপি দাবী করছে তাদেরকে জারনীতি করতে দেওয়া হচ্ছেনা। মামলা, হামলা ও হুলিয়া জারি করে বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানী করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহম্মদ বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদেরতো দাঁড়াতেই দিচ্ছেনা। আপনারা জানেন আমি এলাকায় গেলে পুলিশ আমার বাড়ি ঘেরাও করে রাখে যে নেতাকর্মীরা আমার কাছে না আসতে পারে। আমাদের অনেক নেতাকর্মী এলাকা ছাড়া। তাদের ঠিকমতো বাড়ি ঘরে থাকতে দেওয়া হচ্ছেনা। সরকারের মুখে এক কথা বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। তিনি বলেন, আমাদের বিএনপি ক্ষমতায় থাকা কালে আমরা এলাকার অনেক উন্নয়ন করেছি। আওয়ামীলীগ সেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছে। অনেক প্রকল্প আমার সময়ে করা। আওয়ামীলীগ সেগুলো শুরু বাস্তবায়ন করেছে। সুতারং দেশের স্বার্থে গনতন্ত্রের স্বার্থে এলাকার ভোটাররা আমাকে ভোট দিয়ে আবার জয়ী করবে ইনশাআল্লাহ। এ জন্য তিনি দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সচেতন নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *