চকবাজার ট্রেজেডি: নিহত ১২ জনের নোয়াখালীর গ্রামের বাড়িতে দাপন সম্পন্ন

প্রতিনিধি : ঢাকার চকবাজার ট্রেজেডিতে নিহত অন্তত ১২ জনের দাপন সম্পন্ন হয়েছে নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলার গ্রামের বাড়িতে। স্বজন হারায়ি শোকে মুহ্যমান পরিবারের সদস্যরা। অনেকে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। পরিকল্পিত নগরায়নের দাবী জানিয়েছে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের ও এলাকাবাসী।
সূত্র জানায়, অগ্নিকান্ডে ঠিক কত জন নিহত হয়েছে তা এখনো সঠিক ভাবে কেউ বলতে পারছেনা। অনেকের অত্মীয় স্বজন এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ইতিমধ্যে সোনাইমুড়ি, কোম্পানীগঞ্জ ও বেগমগঞ্জ উপজেলার নিহতদের মধ্যে মোট ১২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে এবং শুক্রবার তাদের পারিবারিক গোরস্থানে দাপন করা হয়েছে। এদের মধ্যে সোনাইমুড়ির নাটেশ্বর ইউনিয়নের ঘোষকামতা গ্রামের খাসের বাড়ির সাহেব আলীর দুই ছেলে মাসুদ রানা (৩৬) ও মাহাবুবুর রহমান রাজু (২৮), মধ্য নাটেশ্বর গ্রামের ছিদ্দিক উল্যাহ(৩৫), পশ্চিম নাটেশ্বর গ্রামের মিনহাজী বাড়ির মৃত ভুলু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী হোসেন (৬৫), নাটেশ্বর গ্রামের সৈয়দ আহমদের ছেলে হেলাল উদ্দিন(৪০), মির্জা নগর গ্রামের আবদুর রহিম বিএসসির ছেলে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু (৩৮), মমিন উল্যার ছেলে সাহাদাত হোসেন হিরা (৩২), মৃত গাউছ আলমের ছেলে নাছির উদ্দিন (৩২) ও পার্শ্ববর্তী বারোগা ইউনিয়নের দৈলতপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে আনোয়ার হোসেন(৩৬), বেগমগঞ্জ উপজেলার মুজাহিদপুর গ্রামের কামাল হোসেন(২৮), আলাইয়ারপুর গ্রামের বাবু(৩৩) ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী গ্রামের জসিম উদ্দিন(৪২)। এ ঘটনায় শোকে মূহমান গোটা এলাকা। নিমতলী ট্রেজেডির পর সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নেয়ায় পূনরায় চকবাজারে একই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করেন নিহতদের স্বজনরা।
নিহত হিরার চাচা আবদুর রহিম জানান, চরবাজারের রাস্তাগুলো প্রসস্থ নয়, ভবনগুলো অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠেছে। রাস্তায় সারাক্ষণ যানজট থাকে। ফলে অগ্নিকান্ডের পর সাধারণ মানুষ ও বাড়ি ঘরের বাসিন্ধারা নিরাপদ দুরত্বে যেতে না পেরে মুত্যৃর মুখে পতিত হয়। আমার দুই বাতিজা মারা গেছে, ব্যবসা বাণিজ্য সব শেষ। সরকার যেন নিহতদের দিকে তাকায়।

বজরা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অগ্নিকান্ডে আমাদের এলাকার অনেক লোক মারা গেছে। এই ক্ষতি কখনো পূরন হবেনা। এই এলাকার মানুষ জীবন জীবিকার তাগিদে চকবাজারে ব্যবসা বাণিজ্য করতে গিয়ে আর লাশ হয়ে ফিরলো। পরিকল্পিত নগরায়ন না করায় এই দূর্ঘটনায় বেশি প্রাণ হানী হয়েছে। নিমতলী ট্র্যাজেডির পর সরকার যদি ব্যবস্থা নিতো তাহলে এতো বেশি ক্ষয়ক্ষতি হতো না।

নিমতলী ও চকবাজারের মতো ভবিষ্যতে এমন ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনার মতো আর কোন ঘটনা যেন না ঘটে সেই ব্যবস্থা নেবে সরকার এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *