প্রেমের জেরে তিন বন্ধু বলি হলেন নোয়াখালীর মেহেরাজ

স্টাফ রিপোর্টার:  প্রেম নিয়ে দ্বন্ধের জের ধরে নোয়াখালীর মেহেরাজকে(১৯) তুলে নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। কোমল পানীয়ের সঙ্গে চেতনা নাশক ট্যাবলেট খাইয়ে তিন বন্ধু মিলে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে। পরে বস্তাবন্দি করে মোটরসাইকেল যোগে পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুরে এনে তার মরদেহ খালে ফেলে দেয়া হয়। এ ঘটনায় আটক আবদুল্লাহ আল মামুন বৃহস্প্রতিবার সকালে লক্ষ্মীপুর জেলা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এতে সহযোগিতা করেন তানভীর ও রাশেদ নামে তার দুই বন্ধু। নিহত মেহেরাজ নোয়াখালীর সুধারাম থানার উত্তর হুবলি গ্রামের মো. শাহজাহানের পুত্র। এর আগে গত সোমবার রাতে নোয়াখালী জেলার সুধারাম এলাকা থেকে মামুনকে আটক করা হয়। ওই সময় তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যার সময় ব্যবহার হওয়া মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, মেহেরাজ, তানভীর ও মামুন নোয়াখালীর সুধারাম এলাকার বাসিন্দা। তারা তিনজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। স্থানীয় এক মেয়ের সঙ্গে প্রেম নিয়ে তানভীর ও মেহেরাজের মধ্যে দ্বন্ধের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে তানভীর তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এ কথা সে তার বন্ধু মামুন ও রাশেদকে জানায়। তানভীর ও মামুন সুধারাম থানার উদয় সাধুর হাটের সততা বস্ত্রালয়ের কর্মচারী। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মোটরসাইকেলযোগে মেহেরাজকে নিয়ে মুন্সি তালক গ্রামের দিকে যায়। সন্ধ্যা হলে মেহেরাজকে তারা কোমল পানীয়ের সঙ্গে চেতনানাশক ট্যাবলেট মিশিয়ে খাইয়ে দেয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সে অচেতন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পরনের বেল্ট খুলে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে তাকে প্লাস্টিকের বস্তায় বন্দি করে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পূর্ব সৈয়দপুর গ্রামের টক্কার পুল থেকে খালে ফেলে দেয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি পানিতে ভেসে উঠলে ওই স্থান থেকে পুলিশ বস্তাবন্দি মরদেহটি উদ্ধার করে।
এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রেমের দ্বন্ধের কারণে তিন বন্ধু মিলে পরিকল্পিতভাবে মেহেরাজকে হত্যা করে। হত্যার ঘটনায় জড়িত আসামি মামুন লক্ষ্মীপুর আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *