ভ্রাম্যমাণ সিএনজি ফিলিং স্টেশনের নামে ঘুরে বেড়াচ্ছে ‘জলন্ত বোমা’

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বিভিন্ন জায়গায় ট্রাক কিংবা কাভার্ডভ্যানে গড়ে তোলা হয়েছে ভ্রাম্যমান ঝুঁকিপূর্ণ সিএনজি ফিলিং স্টেশন। এ ধরনের ফিলিং স্টেশনগুলো এক একটি জলন্ত বোমার মত আমাদের চারপাশে ঘুরছে, এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের উদাসিনতা মারাত্বক দূর্ঘটনার কারন হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন বসাতে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের অন্তত ১৮টি অনুমতি ও সম্মতিপত্রের প্রয়োজন হয়। দুর্ঘটনা এড়াতে দরকার হয় সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ। অথচ কোম্পানীগঞ্জের চরকাঁকড়া ইউনিয়নের রূপনগর, মুছাপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজার, বসুরহাট পৌরসভার করালিয়াসহ কয়েকটি স্থানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ ভ্রাম্যমাণ সিএনজি ফিলিং স্টেশন। ট্রাক কিংবা কাভার্ডভ্যানে সিলিন্ডার বসিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এসব স্টেশন। নিষিদ্ধ জেনেও ঝুঁকিপূর্ণভাবে যানবাহনে গ্যাস বিক্রি করছে ভ্রাম্যমাণ স্টেশনগুলো। প্রশাসনের নজর এড়াতে ট্রাক কিংবা কাভার্ড ভ্যানটি ঢেকে রাখা হয়। দেখলে মনে হবে ট্রাক/কাভার্ড ভ্যানটি পন্য খালাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। ইতিপূর্বে উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের দরবার শরীফ নামক স্থানে এ রকম একটি ভ্রাম্যমান সিএনজি ফিলিং স্টেশনে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ২লক্ষ টাকা জরিমানা করে। কিন্তু তারপরও বন্ধ হয়নি অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ এসব সিএনজি ফিলিং স্টেশন। সেই ভ্রাম্যমান ফিলিং স্টেশনটি এখন রূপনগর নামক স্থানে বসেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভ্রাম্যমান সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ করতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ চান এলাকাবাসী। বিশিষ্টজনদের মতে, ফিলিং স্টেশনে সমস্যা হলে তার কারিগরি সমাধান করা হয় কিন্তু যারা খোলা সিলিন্ডারে এই ব্যবসা করছে। তারা কিভাবে এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজটি করে যাচ্ছে সেটাই আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন ব্যক্তি আমজাদ হোসেন বলেন, একটি মাইন বিস্ফোরণ হলে যেরকম ক্ষতি হয়, একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তার চেয়েও বেশি ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বড় কোন দূর্ঘটনা ঘটার আগেই আমরা আশা করছি সরকারের যারা দায়িত্বে আছেন তারা এই বিষয়টি খুব শীঘ্রই তাদের নজরে আনবেন। কোম্পানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের অপারেটর শামসুজ্জামান জানান, বিষয়টি আমাদেরও চোখে পড়েছে. তবে কেউ অভিযোগ করেনি, অভিযোগ পেলে আমার কর্তৃপক্ষের কাছে জানাবো। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহম্মেদ জানান, আমরা বিষয়টি সরেজমিনে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নিব।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *