মেঘনায় অবাধে জাটকা নিধন!

ইয়াকুব নবী ইমন, মেঘনা উপকূল থেকে ফিরে: নোয়াখালীর মেঘনা নদীর উপকূল ও গভীর বঙ্গপোসাগরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা ইলিশ নিধনের মহোৎসব চলছে। নিধনকৃত এসব জাটকা প্রকাশ্যে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোতে বিক্রি হচ্ছে। অবাধে জাটকা ইলিশ নিধন চললেও মৎস্য বিভাগ, জেলা-উপজেলা প্রশাসন ও কোস্টগার্ডের তেমন ভূমিকা না থাকায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতনমহল বলছেন, প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকলে এভাবে কারেন্ট জাল দিয়ে অবাধে জাটকা ইলিশ শিকার করা সম্ভব নয়।
নোয়াখালীর উপকূলীয় উপজেলা হাতিয়া, সুবর্নচর ও কোম্পানীগঞ্জের মেঘনা উপকূলে প্রায় ৪০ হাজার জেলের বসবাস। চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিল এ দু’মাস নদীতে ও সাগরে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে সরকার। সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জেলেরা জাটকাসহ বিভিন্ন জাতের মাছ শিকার করছে অবাধে। বিভিন্ন এনজিও’র কিস্তি এবং মহাজনের দাদন পরিশোধের জন্য জেলেরা কারেন্ট জাল নিয়ে নদীতে মাছ ধরতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
সরেজমিনে হাতিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান ঘাট ও বয়ারচরের বিভিন্ন হাট বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, অবাধে জাটকা ইলিশ বিক্রি করতে দৃশ্য। এছাড়া রাতের অন্ধকারে পিকআপ ভ্যানে করে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দূর-দূরান্তে পাচার করা হচ্ছে জাটকা ইলিশ। একটি অসাধু চক্র জাটকা ইলিশ নিধন ও পাচারে সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
হাতিয়ার মৎস ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক ইসমাঈল হোসেন জানান, মার্চ-এপ্রিল এ দু’মাস জাটকা ইলিশ কেনা বেচা বন্ধ থাকলেও তাদের সবাইকে পুর্নবাসনের ব্যবস্থা না করায় কিছু জেলে পেটের দায়ে নদীতে মাছ শিকার করতে বাধ্য হচ্ছে। তবে সরকারী ভাবে তাদের পরিপূর্ণ পূর্নবাসন করা ও নদীতে কোস্টগার্ডের টহল বাড়ানো হলে জাটকা নিধন অনেকটা কমে যাবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
এ ব্যাপারে নোয়াখালী জেলা মৎস কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন জানান, মার্চ-এপ্রিল অভয়াশ্রম এলাকায় জাটকা শিকার, পরিবহন, সংরক্ষণ এবং কেনা বেচা নিষিদ্ধ। ইতিমধ্যে জেলার প্রতিটি মৎস্য ঘাটে জাটকা নিধন রোধে প্রচার প্রচারণা, মাইকিং এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। তাছাড়া অভিযানের সময় জেলেদের পুনর্বাসনেরও ব্যবস্থা করেছে সরকার। জাটকা নিধন রোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *