শবে বরাত প্রসঙ্গ কথা

আবুল খায়ের নাঈমুদ্দীন: শবে-বরাত, নাম শুনলেই কেমন কেমন আনন্দে মনটা নেচে ওঠে। মনের ভেতরে এক রকম আমেজ তৈরী হয় যা সবার সাথে শেয়ার করার মতো। বিশেষ করে শিশুরা বেশি আনন্দ পেয়ে থাকে বেশি। সকল শিশুর সবচে কাছের বন্ধু মাকে জড়িয়ে ধরে জানতে চায় মা “শবে বরাত” আবার কি? এটা দেখতে কেমন? তাড়াতাড়ি আসেনা কেন? তখন মায়েরা সুন্দর করে আদর মাখা কন্ঠে বুঝিয়ে বলেন, এটা কোন গাড়ি নয় কোনো বস্তুও নয় যে আসবে বা দেখা যাবে। বরং “শব” মানে রাত আর বরাত মানে ভাগ্য। এক কথায় “শবে-বরাত” মানে ভাগ্য রজনী। এই রাতে আল্লাহ মানুষের ভাগ্য লিপিবদ্ধ করেন৷ তাই ভাগ্য রজনীকে অনেকে বিভিন্ন ইবাদতের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করে। তবে ইসলামের ইতিহাসে মহান মহান মনীষীদের কাউকে আলাদাভাবে এই রজনীকে পালন করতে দেখা যায়নি। অবশ্য শবেবরাত কিন্তু রমযানের পয়গাম নিয়ে আসে। রমযানের পরে আসে মহান ঈদ। তাছাড়া এক বছর পর এই আনন্দের আভাসে সবাই উৎসুক থাকে। আমাদের দেশে এই রাতকে কেন্দ্র করে মহা ধুমধামের আয়োজন করা হয়। স্বয়ং সরকারও এ রাতের উসিলায় বছরের একদিন সরকারী সকল দপ্তর বন্ধ ঘোষনা করে থাকেন।
গ্রামাঞ্চলে এ রাতের উদ্দেশ্যে মসজিদে মসজিদে আলাদা করে ওয়াজ মাহফিলের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। সে রাতে এশার পর মাহফিলের আয়োজন হয়। মহিমান্বিত রাত হিসেবে এর গুনাবলী বর্ণণা করা হয়। আবার মিষ্টি, বিস্কুট, হালুয়া রুটি, জিলাপি এবং ফায়েস ফিন্নির ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। আর এসব খাওয়ার জন্য গ্রামের কচি-কাঁচার দল সন্ধ্যার পর হতে দলে দলে ঈদের রাতের মতো পাঞ্জাবী পায়জামা পরে মসজিদে যায় এবং জামাতের সাথে এশার নামাযও আদায় করে। কেউ কেউ দিনের বেলায় রোযাও রাখে। মূলত শবে বরাত সম্পর্কে আল্লাহ আলাদা কিছু বলেননি, সূরা দুখানের ছোট তিন নং আয়াতের মাধ্যমে বরকতময রাতের ইশারা দিয়েছেন তা এই রাতই হতে পারে। আল্লাহ বলেন, “আমি একে নাযিল করেছি এক বরকতময় রাত। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রাত প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়। এ রাতে আল্লাহ লাওহে মাহফুজে কোরান সংরক্ষিত করেছেন। এই রাতকে খাস করে আরো একটি বর্ণণা দেয়া হয়েছে নেসফে শা’বান বা শাবান মাসের পনের তারিখ। আরবীতে রাত আগে চলে বিধায় চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতের কথাই বলা হয়েছে। আমরা শুধু অতিরিক্ত কিছু নফল নামায আদায় করবো। যেন এ রাতকে আলাদাভাবে আমলের রাত মনে করা না হয়। ছোটরা বড়দের সাথে মসজিদে যাবে, ইমাম সাহেব নামায শেষে বয়ান করে মোনাজাত করবেন আমরা মুনাজাতে হাত তুলে আমাদের দাদা দাদী, নানা নানী, আত্বীয় স্বজন যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের জন্য দোয়া করবো। আল্লাহ যেন সবাইকে সুখে রাখেন। এমন আমল করবোনা যেন পরের দিন ফজরের নামায কাযা না হয়। আমাদের ছোট বেলায় দেখতাম শবে বরাতের রাতের জন্য সবাই অপেক্ষা করতো পাড়ায় পাড়ায় গরু জবাই করা হতো। তার এক ভাগ আমাদের ঘরেও আসতো। এখনো এটা চলে আমি আগেই বলে রাখি তাই গরু জবাই হলেই এক ভাগ আমাদের বাসায় দিয়ে যায়। আর সে দিন বাজারে মোরগ মাছ সব কিছুর দাম একটু বেশি থাকে। তাতে মনে হয় ওদের সওয়াব বেশি হয়। তারপর সন্ধ্যা হলেই সবাই গোসল বা নতুন অযু করে মসজিদে যেতো। মাগরিব শেষে এসে রুটি আর গোস্তের ঝোল দিয়ে খেয়ে আবার মসজিদে। সাথে ছোট ছোট বাচ্চাদেরও নেয়া হতো। তারপর মধ্যরাত পর্যন্ত বয়ান, কোরআন তেলাওয়াত, কবর যিয়ারত এভাবে প্রায় সারারাত চলতো নামাযিদের আনাগোনা। এখন আর সেসব দেখা যায়না।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *