মেঘনা পাড়ে ভূমিহীনদের ঝুকিপূর্ন বসবাস

ইয়াকুব নবী ইমন: নোয়াখালীর উপকূলীয় উপজেলা হাতিয়ার মেঘনা নদীর পাড়ে ঝুঁকিপূর্ন ভাবে বসবার করছে কয়েক হাজার ভূমিহীন পরিবার। অব্যাহত নদী ভাঙ্গনে নি:স্ব ভূমিহীন পরিবারগুলো অনেকটা জীবনের ঝুকি নিয়েই বসবাস করছে নদীর পাড়ে। যে কোন সময় ঝড়, জ¦লোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দূর্যোগে বড় ধরনের প্রাণ-হানীর আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বেশির ভাগই জেলে ও কৃষকের বসবাস। যুগে যুগে নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে এরা বর্তমানে নি:স্ব ও অসহায়। নদী ভাঙ্গনে একমাত্র সম্বল বসত ঘর হারিয়ে তারা এখন ঠাই নিয়েছে মেঘনা নদীর পাড়ের চেয়ারম্যান ঘট, হরনি, বয়ারচর, চতলা ও সুইস গেইট এলাকায়। নদী পাড়ে খুপড়ি ঘর বানিয়ে তারা কোন মতে বসবাস করছে। এতে তাদের জীবন রয়েছে মারাত্মক ঝুকিকে। প্রায় সময় ঘুর্নিঝড়ের কবলে পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করে। যে কোন সময় ঝড়, জ¦লোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দূর্যোগে বড় ধরনের প্রাণ-হানীর আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।
বয়ারচর চতলা পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: আরিফ জানান, নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে বর্তমানে এই এলাকায় হাজার হাজার পরিবার বেড়ি বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে বেড়ি বাঁধটিও ঝুঁকিপূর্ন। যে কোন সময় বেঁড়িবাধটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। স্থানীয়দের আবেদন নিবেদনের পর পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সিডিএসপি বেঁড়িবাধ রক্ষায় সামান্য জি.আই ব্যাগ ফেললেও তাতে ভাঙ্গন রোধ হচ্ছেনা। নদী ভাঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে এখানকার মানুষ আরো নি:স্ব হবে। হাতিয়ার হরনি ইউনিয়নের প্রশাসনিক কমিটির প্রশাসক মুশফিকুর রহমান জানান, নদী ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী ভাবে ব্লব বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। না হয় দিন দিন ভূমিহীনের সংখ্যা বাড়বে। যারা বেঁড়ি বাঁধের উপর বসবাস করছে তারা আর কোথাও যাওয়ার পথ পাবেনা।
নদী পড়ে ঝুকিপূর্ন ভাবে বসবাসকারী ভূমিহীনদের প্রধানমন্ত্রীর ’জমি আছে ঘর নেই’ প্রকল্পের আওতায় পূনর্বাসনের কথা জানিয়ে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস বলেন, ইতিমধ্যে আমরা হাতিয়ায় নদী ভাঙ্গনের কারণে ভূমিহীনদের তালিকা তৈরী করতে ইউএনওকে নির্দেশ দিয়েছি। তালিকা তৈরী হলে পর্যায়ক্রমে আমরা ভূমিহীনদের পূর্নবাসন করবো। নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আয়েশা আলী বলেন, নদী ভাঙ্গন এখানকার সব চেয়ে বড় সমস্যা। নদী ভাঙ্গার কারণে অনেকে নি:স্ব হয়ে এখন ভূমিহীন। তাদের মাথা গোজার ঠাই নেই। আমি জন প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর নদী ভাঙ্গন রোধকে গুরুত্ব দিয়ে আমার প্রথম কাজ শুরু করি। নদী ভাঙ্গন রোধে ব্লক বাঁধ নির্মানের জন্য একটি প্রকল্প বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে রয়েছে। এটি পাশ হলে দ্রুত আমরা নদী ভাঙ্গন রোধে ব্লক বাঁধ নির্মাণ শুরু করবো। এর পর ভূমিহীনদের পূর্নবাসনের কাজে আমরা হাত দেব।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *