বাংলাদেশে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে: বার্নিকাট

অনলাইন ডেস্ক : মার্কিন দূতাবাসের সাবেক প্রটোকল কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাগুলোর তদন্তে আশানুরূপ কোনো অগ্রগতি নেই- এমন মন্তব্য করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট বলছেন, ‘বাংলাদেশে এখন অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।’তিনি আরও বলেন, ‘জুলহাজের মতো হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশ সরকার ও পুলিশের একার পক্ষে রোধ করা সম্ভব নয়। এ হত্যার তদন্তে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে যুক্তরাষ্ট্র। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ সব কথা বলেন বার্নিকাট।

গত সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কলাবাগানের বাসায় জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব তনয়কে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনার দুদিনের মাথায় সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে তার কার্যালয়ে দেখা করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট। এ সময় সেখানে পুলিশের আইজি একেএম শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বার্নিকাট জানান, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিষয়ে কথা বলতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন।

তিনি বলেন, ‘এইমাত্র আপনাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে আমি সাক্ষাৎ করেছি। তারা আমাদের শক্তিশালী সহযোগী। কিন্তু তাদের বা আমাদের কারও একার পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়। আমাদের সবাইকে এক সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।’

জুলহাজ মান্নান হত্যার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এরপর তিনি বলেন, ‘জুলহাজ আমাদের অত্যন্ত প্রিয়ভাজন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি আমাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির সঙ্গে কাজ করছিলেন। তিনিই আপনাদের সংস্কৃতির সঙ্গে আমাকে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি জানান কীভাবে আপনাদের সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করতে হবে। এখানে মার্কিন দূতাবাসে কাজ শুরুর জন্য তিনি আমাকে সাহায্য করেছিলেন।’জুলহাসের প্রশংসা করে বার্নিকাট বলেন, ‘তিনি কর্মীদের ভালোবাসতেন। তিনি একজন উৎফুল্ল সহকর্মী ছিলেন। আর যতটা জেনেছি, তাতে বোঝা যায় তিনি বড় পরিসরে মানবাধিকার রক্ষায় কাজ কাজ করতেন। তিনি আমার অফিস থেকে গিয়েও কাজ করতেন। তিনি ইউএসএআইডির স্বপ্নপূরণে কাজ করতেন। গণতন্ত্র ও সুশাসন নিয়ে কাজ করতেন। তিনি মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করতেন। তিনি বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নিয়ে কাজ করতেন।’

তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি আমার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে মার্কিন দূতাবাস পরিবার ও জুলহাজের পরিবারকে সান্ত্বনা দেয়ার কথা বলেন।’

জুলহাজকে হত্যার ব্যাপারে বার্নিকাট বলেন, ‘আমি আপনাদের সবাইকে বলতে চাই- তাকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো মানুষের জন্য প্রত্যাশিত নয়। আপনি যা কিছু বিশ্বাস করেন, যা কিছু লেখেন, আপনাকে যে কেউ ভালোবাসুক অথবা আপনি স্রষ্টার বন্দেগী করেন বা না করেন, তার কোনো কিছুর কারণে আপনাকে হত্যা করা হবে এটি প্রত্যাশিত নয়।’

স্বাধীন মতপ্রকাশ করার জন্য কাউকে হত্যা করা হবে, নিরাপত্তা না থাকা কেমন সংস্কৃতি তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বার্নিকাট।

তিনি বলেন, ‘জুলহাজের হত্যাকাণ্ডের মতো যেসব হত্যার ঘটনা ঘটছে, আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার একটি তালিকা দিয়েছি। এই ঘটনাগুলোর তদন্ত বিষয়ে আশানুরূপ কোনো অগ্রগতি নেই। বাংলাদেশে এখন অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।’

সহযোগিতার ধরণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বার্নিকাট বলেন, ‘আমাদের কাছে যেসব তথ্য-উপাত্ত আছে, সেগুলো আমরা বাংলাদেশকে দেব। তদন্তে একসঙ্গে কাজ করব। আমাদের যে অভিজ্ঞতা আছে সেগুলো শেয়ার করব।’

বাংলাদেশ সরকার অতীতে সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে মন্তব্য করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে বাংলাদেশ তার  সকল সামর্থ ব্যবহার করুক এটা নিশ্চিত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।’

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার এক টুইটবার্তায় কলাবাগানের জোড়া খুনের ঘটনার দায় জঙ্গি সংগঠন আল -কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশীয় শাখা আনসার আল ইসলাম স্বীকার করেছে বলে জানায় জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ।

সংগঠনটির মুখপাত্র মুফতি আব্দুল্লাহ আশরাফের নামে এই টুইটে বলা হয়, আনসার আল ইসলামের দুঃসাহসী মুজাহিদিনরা বাংলাদেশের সমকামিতা প্রসারের পথিকৃত, সমকামীদের গুপ্ত সংগঠন ‘রূপবান’ এর পরিচালক জুলহাস মান্নান ও তার সহযোগী সামির মাহবুব তনয়কে হত্যা করেছেন।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *