আতঙ্কে রোগিদের নিয়ে হাসপাতাল চাড়ছে স্বজনরা!

প্রতিনিধি: নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ছাদের পলেস্তার খসে পড়ে ৫ শিশুসহ ১০ জন আহত হওয়ার পর রোগিদের নিয়ে হাসপাতাল চেড়ে চয়ে যাচ্ছেন স্বাজনরা। এ সময় রোগির স্বজনদের অনেকটা আতঙ্কগ্রস্ত দেখা যায়। অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে হাসপাতালের এই অবস্থা দেখে।
জানা গেছে, বুধবার সকাল ৭টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে হাসপাতালের ছাদের পলেস্তার খসে পড়ে। এতে শিশু ওয়ার্ডে থাকা শিশু রোগিসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। এ সময় রোগী ও স্বজনদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মাইজদি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রোগীদের বের করে আনেন। আহতদের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে দুই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনার পর হাসপাতাল চেড়ে চলে রোগিদের নিয়ে অন্যত্র চরে যাচ্ছেন রোগির স্বজননা।
নোয়াখালী সদরের দত্তেরহাট থেকে আসা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগির স্বজন মাহমুদ ভোক্ষ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে রোগিদের জীবনের নিরাপত্তা নেই সেখানে কি ভাবে মানুষ চিকিৎসা করাতে আসবে। দেশের এতো উন্নয়ন হয় কিন্তু জনগুরুত্বপূন হাসপাতালের উন্নয়ন হয়না।
একই ভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সোনাপুর থেকে আত্মীয়কে চিকিৎসা করাতে আসা ইকবাল হোসেন, বেগমগঞ্জের চৌমুহনী থেকে আসা সঞ্চয় দাস, কবিরহাট থেকে ইমাম উদ্দিনসহ অনেকে। তারা দ্রুত নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের এই দূরাবস্থার অবসান চান, চান দ্রুত উন্নয়ন কাজ।
তিন বছর আগে শিশু ওয়ার্ডসহ আরো তিনটি ভবনকে গণপূর্ত বিভাগ পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। এর আগে ২০১৮ সালের ১২ জুলাই হাসপাতালের পুরোনো ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ওয়ার্ডের ছাদ ধসে সিনিয়র স্টাফ নার্স স্বপ্না মজুমদার ও শিক্ষানবিশ নার্স রানী আক্তার আহত হয়েছিলেন। ছাদের পলেস্তার খসে পড়ার জন্য ভবনটির জরাজীর্ণ অবস্থাকে দায়ী করেছেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ফরিদ উদ্দীন আহমেদ।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খলিল উল্যাহ জানান, ভবনটি দীর্ঘদিন থেকেই ঝুকিপূর্ন। রোগী বেশি হলে আমরা সেখানে কোন মতে চিকিৎসা করাই। এ ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

 

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *