সোনাইমুড়ীতে কেন্দ্র দখল, ব্যালেট ছিনতাই, জাল ভোট গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০

সোনাইমুড়ী প্রতিনিধি: সোনাইমুড়ীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র দখল, ব্যালেট ছিনতাই, জাল ভোট ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। প্রার্থীসহ প্রায় ১০ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার উপজেলার ৯নং দেওটি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড (বাগ পাঁচরা) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, প্রশাসন কর্তৃক পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শনিবার সকাল ৮টায় উক্ত কেন্দ্রে যথারীতি ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ভোটে লিভারেল ডেমোক্রেটিক সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুনের ফুটবল প্রতীকে এককভাবে ভোটাররা ভোট দিতে থাকে। পক্ষান্তরে প্রতিপক্ষ আওয়ামীলীগের নুর ইসলাম ভুঁইয়ার প্রতীক মোরগ মার্কায় তেমন ভোট না পাওয়ায় তার নির্বাচনী এজেন্টরা কেন্দ্রের ভিতরে হইচই শুরু করে। ভোট শুরুর ১ ঘন্টার মাথায় এমন ঘটনা আগত ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করে। এক পর্যায়ে মোরগ প্রতীকের পক্ষে কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পুলিং এজেন্ট থেকে ব্যালেট বক্স ও ব্যালেট ছিনিয়ে নিয়ে নিজেরাই মোরগ প্রতীকে সীল মারতে থাকে। এ বিষয়ে এলডিপি প্রার্থী মামুন প্রিজাইডিং অফিসারের নিকট অভিযোগ করলে তিনি কেন্দ্রের দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃংখলা বাহিনীর সহায়তায় অল্প কিছুসংখ্যক ব্যালট পেপার ও বক্স উদ্ধার করে। বেলা ২টার দিকে অনেকেই দুপুরে খাওয়ার জন্য বাড়ীতে যায়। এই সুযোগে আওয়ামীলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পুরো কেন্দ্র নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়। এসময় এলডিপি প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা তাকে কিল ঘুষি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। এমতাবস্থায় সন্ত্রাসীদের কবল থেকে কয়েকজন কর্মী মামুনকে উদ্ধার করতে গেলে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গোলাগুলি শুরু করে। এতে ফুটবল প্রতীকের কর্মী নোমান, ইকবাল ও শফিক গুলিবিদ্ধ হয়। সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা লাঠি ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে মামুনসহ আরো ৭/৮ জন গুরুত্বর আহত হয়। সন্ত্রাসীদের তাড়াতে কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ ও আনসার বাহিনী প্রায় ২০/২৫ রাউন্ড ফাকা গুলি বর্ষন করে। এসময় কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক অনির্দিষ্টকালের জন্য ভোট গ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করে। এদিকে মাটিতে পড়ে থাকা এলডিপি সমর্থিত প্রার্থী মামুনসহ আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পেটে মারাত্বক আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উক্ত হাসপাতালের চিকিৎসক ডাক্তার জসিম উদ্দিন জানান, মামুনের শারীরিক অবস্থা তেমন ভালো নয়। পেটের কয়েকটি লেয়ার অকেজু হয়ে গেছে। তাকে সুস্থ্য করতে হলে কৃত্তিম লেয়ার বসাতে হবে।
এদিকে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট, ব্যালট ছিনতাই ও গোলাগুলির ঘটনায় উপজেলা রিটার্নিং অফিসার রহিমা খাতুন জাহান, আমরা এসব অনিয়ম দেখে ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছি এবং শীঘ্রই একটি তদন্ত কমিটি করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *