টঙ্গি সাব রেজিস্ট্রিার মোশারফ চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে কোটি কোটি টাকার সম্পদ

নিশান ডেক্স:

নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে বরাবরই আলোচিত গাজীপুরের টঙ্গি সাব রেজিস্ট্রিার মোশারফ হোসেন চৌধুরী। তিনি যেখানেই যান সেখানের নানা অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে থাকেন। মঙ্গলবার সাব রেজিস্ট্রি অফিসে সাংবাদিদের উপর হমলা করে আবারো আলোচনায় আসেন মোশারফ হোসেন চৌধুরী। এই দিন তার নেতৃত্বে ক্যাডার বাহিনী ৭১ টিভির সাংবাদিকদের উপর হামলা চালায়। এদিকে সাব রেজিস্ট্রার মোশারফ হোসেন চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে কোটি কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মোশারফ হোসেন চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায়। তিনি বিয়ে করেছেন বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌর এলাকার গনিপুর গ্রামে। এখানে তিনি চৌমুহনীর পৌর এলাকার গনিপুর, উপজেলার নরোত্তমপুর ও লক্ষীনারায়পুর গ্রামে নামে বেনামে ও স্ত্রীর নামে বিপুল সম্পত্তির ক্রয় করেন। তিনি এই টাকার উৎস হিসেবে গরুর খামার দেখালেও সেখানে এটা একটা ভাওতাবাজি। কারণ গরুর খামারের আয় দিয়ে এতো সম্পত্তি ক্রয় করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন স্থানীয়রা। তিনি যে দলিলগুলো করেন তাতেও প্রতরনার আশ্রয় নেন। তিনি এওজবিল হেবা দলিল করে সরকারকে লাখ লাখ টাকা রজস্ব বঞ্চিত করছেন।
এদিকে চাকরী জীবনে সাব রেজিস্ট্রার মোশারফ হোসেন চৌধুরীর অতিত ইতিহাসও ঘুষ দূর্নীতিতে ভরা। তিনি ২০১২ সালের ১২ এপ্রিল বেগমগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিসে যোগদান করেন অনিয়ম ও দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। দলিল লেখক ও ভূমি রেজিস্ট্রি করতে আসা মানুষের কাছ থেকে সরাসরি ঘুষ দাবী করায় আন্দোলনের মুখে মাত্র তিন মাসের মাথায় তাকে কুড়িগ্রামের চিলমারী সাব রেজিস্ট্রি অফিসে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়। সেখান থেকে রাজবাড়ি ও কুমিল্লা হয়ে বর্তমানে তিনি টঙ্গি সাব রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত রয়েছেন। বেগমগঞ্জ থেকে এক হিসেবে তিনি রাতের আধারে পালিয়ে যান। এর পরও তিনি ঘুষ দূর্নীতি বন্ধ করেননি। অনিয়ম, দূর্নীতি ও ঘুষের টাকায় তার সঞ্চিত কোটি কোটি টাকার সম্পদের হিসাব নিতে এলাকাবাসী দূর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
এদিকে সম্প্রতি ৭১ টিভির প্রতিবেদকে এক ভোক্তভোগী সাব রেজিস্ট্রার মোশারফ হোসেনের অনৈতিক অর্থ লেনদেনর ভিডিও পাঠালে সেটির সূত্র ধরে সোমবার টঙ্গি সাব রেজিস্ট্রি অফিসে তথ্য যাচাই করতে যায় ৭১ টিভির প্রতিবেদক জেমসন মাহবুব ও ক্যামেরা পারসন আরিফুজ্জামান পিয়াস। সরকারী অফিস ৯ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত অফিস হলেও সাব রেজিস্ট্রার অফিসে আসেন বেলা সাড়ে ১২ টায়। তথ্য নিয়ে জানা যায় নিয়মিতই কোনো কারন ছাড়াই দেরিতে অফিসে আসেন সাব রেজিস্ট্রার মোশারফ হোসেন। অফিসে এসে ৭১ টিভির সাংবাদিকদের দেখেই বিব্রত হন তিনি। প্রতিবেদকের সাথে কথা বলে কুশল মিনিময় করেই এজলাশে চলে যান মোশারফ হোসেন।

৭১ টিভির টিম তখনও তার খাস কামরাই অবস্থান করছিলেন। দুপুর আড়াইটার দিকে সাব রেজিস্ট্রার তার হাতের কাজ শেষ করে কামরাই আসার সময় অফিস ফাঁকা থাকায় সাব রেজিস্ট্রার তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে তার কামরায় অবস্থান নেয়। এসময় প্রতিবেদকে তথ্য সংগ্রহে বাঁধা দেওয়াসহ ক্যামেরা বন্ধ করতে বলে। এসময় প্রদিবেদক তার কয়েক বান্ডিল টাকা লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্য না দিয়ে উল্টো সাব রেজিস্ট্রার তার ক্যাডাদের নিয়ে প্রতিবেদকদের উপর হামলা চালায়।
সাব রেজিস্ট্রার নিজেই তেড়ে এসে সাংবাদিকদের উপর হামলা চালায়। এ বিষয়ে সাব রেজিস্ট্রারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

হামলার শিকার ৭১ টিভির প্রতিবেদক জেমসন মাহবুব জানান, সেবামূলক অফিসের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন আচরণ কাম্য নয়।

জানতে চাইলে গাজীপুর জেলা রেজিস্ট্রার মুন্সি মোখলেসুর রহমান জানান, ‘বিষয়ি খুবই দু:খ জনক, আমরা অবশ্যই বিষয়টি তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা প্রহণ করা হবে।
এছাড়া টাকা লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী ফি নিতে পারবেন তবে তার পরিমান বান্ডিল বান্ডিল নয়।’ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান জেলা রেজিস্ট্রার মোখলেসুর রহমান।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *