১৫ই আগষ্টকে আনন্দ দিবস লেখায় বেগমগঞ্জের স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

প্রতিনিধি: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কেন্দুরবাগ বাজারে অবস্থিত অক্সফোড আইডিয়াল জুনিয়র স্কুলের চলতি সনের ক্যলেন্ডারে ১৫ আগষ্টকে জাতীয় আনন্দ দিবস লেখার মাধ্যম জাতীয় শোক দিবসকে ব্যঙ্গ করায় আদালতে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুর হোসেনের বিরুদ্ধে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ৩ নং আমলী আদালত মাশফিকুল হকের কোর্টে মামলাটি করেন বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ আলম নান্নুর ছেলে ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ হাসান শুভ।
জানা গেছে, ওই স্কুলের চলতি বছরের বার্ষিক ক্যালেন্ডারে ১৫ আগষ্ট জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসকে জাতীয় আনন্দ দিবস উল্লেখ করা হয়। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয়রা স্কুলটিতে হামলা, ভাংচুর করে ও অনেকগুলো ক্যালেন্ডার সংগ্রহ করে আগুন লাগিয়ে দেয়। সর্ব শেষ এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবীতে বাজারে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা স্কুলে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ নুর হোসেনকে গ্রেফতারের জন্য তার বাড়িতে গেলে তাকে পায়নি। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার মা ও স্ত্রীকে থানায় আনলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে মামলার বাদী জাহিদ হাসান শুভ জানান, অক্সফোড আইডিয়াল জুনিয়র স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ নুর হোসেন জিরতলী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ও বেগমগঞ্জ উপজেলা জামাতের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক এবং একজন জঙ্গী ও কয়েকটি নাশকতার ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছেন। ঐ স্কুলের চলতি সনের ক্যলেন্ডারে জাতীয় শোক দিবসকে আনন্দ দিবস উল্লেখ করে রাষ্ট্রদ্রোহী অপরাধ করেছেন। এ ঘটনা জানার জন্য ৪ঠা আগষ্ট বিদ্যালয়ে মামলার আমিসহ সচেতন অভিভাবকরা গেলে আসামি নুর হোসেন সকলের উপর ক্ষিপ্ত হয়। এর পর অভিভাবকরা তার প্রতিষ্ঠানে তালা লাগিয়ে দেয়। এলাকাবাসী উক্ত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেছে।
এ ব্যপারে বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ চৌধুরী জানান, নুর হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় কোন মামলা হয়নি। তবে শুনেছি আদালতে মামলা হয়েছে। মামলাটি থানায় আসলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন কোন অপরাধীকে ধরতে হলে তার বিরুদ্ধে পুলিশের নিকট ডকুমেন্ট থাকতে হবে। এখন পর্যন্ত নুর হোসেনকে ধরার নামে তার পরিবার পরিজনকে ধরা হয়েছে এটা মিথ্যা ও বানোয়াট এবং গুজব। তবে সে যে অপরাধ করেছে অত্যন্ত জগন্য বলে আমি মনে করি।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় দৈনিক জাতীয় নিশানসহ কয়েকটি জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় পৃথক ভাবে সংবাদ ছাপা হয়েছে।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *