মানবিক পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন

ইয়াকুব নবী ইমন: কর্মরত অবস্থায় নিহত পুলিশ সদস্যের মেয়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত আফছানা আক্তারের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো: আলমগীর হোসেন। আফসানার পিতা আবুল কালাম আজাদ বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল (নং-২১৬) হিসেবে লক্ষীপুরে কর্মরত অবস্থায় গত ২১-৫-২০০৪ ইং তারখে মৃত্যু বরন করেন। তিনি নোয়াখালী সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের পূর্ব শফিপুর গ্রামের বাসিন্ধা ছিলেন। আজাদের মৃত্যুর পর থেকেই পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়ে। এরিমধ্যে মেয়ে আফছানা ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে স্ত্রী নাছিমা আক্তারসহ পরিবারের সদস্যদের মাঝে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার।
এদিকে মঙ্গলবার কর্মরত অবস্থায় নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ তহবিল হতে মাসিক ভাতার চেক গ্রহন করতে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আসেন নিহত পুলিশ সদস্য আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী নাছিমা আক্তার ও মেয়ে আফছানা আক্তার। ভাতার চেক গ্রহন শেষে আজাদের স্ত্রী নাছিমা আক্তার পরিবারের অসহায়ত্ব ও মেয়ে আফছানা আক্তারের ক্যান্সারে আক্রান্তের কথা পুলিশ সুপারের কাছে বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন।
এ সময় পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর হোসেন এই পুলিশ সদস্যের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষনা দেন। সেই সাথে আফছানার চিকিৎসার জন্য ব্যক্তিগত তহবিল হতে তাৎক্ষনাত নগদ ২৫ টাকা তাদের হাতে তুলে দেন এবং ভবিষ্যতে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
আফছানা আক্তার বর্তমানে নোয়াখালী সরকারি কলেজে অনার্স তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। নিহত পুলিশ কনস্টেবল আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী নাছিমা আক্তার ও মেয়ে আফছানা আক্তার পুলিশ সুপারের এমন মানবিকতায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নিহত কনস্টেবল আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী নাছিমা আক্তার বলেন, আমরা কখনো কল্পনাও করিনি এসপি সাহেব এভাবে আমাদের পাশে দাঁড়াবেন। আল্লাহ উনাকে নেক হায়াত দান করুন।
নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো: আলমগীর হোসেন বলেন, যারা দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারায় আমরা তাদের খবর অনেকেই রাখতে পারিনা। যে সকল পুলিশ সদস্য মারা যায় তারা স্ত্রী সন্তানদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতে রেখে যায়। তাই তাদের পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার কর্তব্য। আমি নিজের দায়বদ্ধতা থেকেই আজাদের পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়েছি। যাতে অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা অনুপ্রাণিত হয়।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *