ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আড়াই বছরেও শুরু হয়নি বেগমগঞ্জের জননেতা নুরুল হক আধুনিক হাসপাতলের নির্মাণ কাজ

প্রতিনিধি: ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দীর্ঘ আড়াই বছরেও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজে জননেতা নুরুল হক আধুনিক হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি। হাসপাতাল না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। ঠিক মতো ক্লাস ও হাতে কলমে শিক্ষা গ্রহন করতে না পারায় হতাশ শিক্ষর্থীরা। তাছাড়া হাসপাতালটি নির্মাণ হলে স্বাস্থ্য সেবাও পাবে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ।
সূত্র জানায়, জেলাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবী প্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে বেগমগঞ্জের চৌরাস্তায় আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজটি স্থাপন করা হয়। একই সাথে জননেতা নুরুল হক আধুনিক হাসপাতাল নামে ৫০০ শয্যার একটি হাসপাতালও নির্মানের কথা ছিলো কলেজ ক্যাম্পাসে। কিন্তু সে সময় তা নির্মাণ করা হয়নি। পরবর্তীতে কলেজের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী উক্ত হাসপাতালটির জন্য জোরালো দাবী জানালে ২০০১৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারী সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম কলেজ কম্পাসে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সে সময় হাসপাতালটি নিমানে ব্যায় ধরা হয় ৪০০ কোটি টাকা । কিন্তু নানা জটিলতায় হাসপাতালটি নির্মান কাজ আবারো ভেস্তে যায়। ফলে সময় বাড়ায় বেড়ে যায় হাসপাতাল নির্মান ব্যায়। এমন দীর্ঘসূত্রতায় হাসপাতালটি নির্মান নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কলেজ ক্যাম্পাসে হাসপাতাল না থাকায় শিক্ষার্থীরা বাসে করে ১২ কিলোমিটার দুরে জেলা সদর হাসপাতালে গিয়ে প্যাট্রিক্যাল ক্লাস করতে হয়। ফলে তারা চমর ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। সেই সাথে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। হাসপাতাল না থাকায় কাঙ্খিত শিক্ষা অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তাই তারা হতাশ।
কলেজের ৯বম ব্যাচের আদনান, শাকিলসহ একাধিক শিক্ষার্থী জানান, আমাদের কলেজ ক্যাম্পাসে হাসপাতালটি না থাকায় খুবই সমস্যার মধ্যে আছি। আমরা প্যাট্রিকেল ক্লাসগুলো জেলার সদর হাসপাতালে গিয়ে করতে হয়। ফলে আমাদের সময় ও অর্থ দুটোই ব্যায় হচ্ছে। তাছাড়া জেলা পর্যায়ের ওই হাসপাতালটিতে সব সময় আমরা ভালো মতো হাতে কলমে শিখতে পারিনা। অনেকটা হুলস্থুলের মধ্যে থাকতে হয়। সেখান থেকে এসে আবার বিকালে কলেজে ক্লাস করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই দ্রুত হাসপাতালটি কলেজ ক্যাম্পাসে নির্মাণ করা প্রয়োজন। আমরা এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ঠদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের জেলা শাখার সভাপতি ডাক্তার ফজলে এলাহী খান ও সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার মাহবুবুর রহমান জানান, আবদুল মালেক মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে হাসপাতালটি নির্মান হলে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বৃহত্তর নোয়াখালীসহ কুমিল্লা ও চাঁদপুরের সাধারণ জনগনও উপকৃত হবে এবং চিকিৎসা সেবা পাবে।

নোয়াখালী আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবদুস সালাম জানান, আমাদের প্রকল্পটি একটি আ¤্রলো প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলায় আরো তিনটি হাসপাতাল নির্মাণ হবে। প্রকল্প ব্যায় বাড়ার কারণে একটু জটিলাতা সৃষ্টি হয়। তবে সব জটিলতা কাটিয়ে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এই অনুমোদন সাপেক্ষে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই আশা করি হাসপাতালটি নির্মান কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

জননেতা নুরুল হকের সন্তান ও উপজেলা চেয়ারম্যান ওমর ফারুক বাদশা জানান, হাসপাতালের সমস্যাটি সমাধানে আমি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি তারা বলেছে দ্রুত কাজ শুরু হবে। তবুও আমি আবার যোগাযোগ করবো।

নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরণ বলেন, হাসপাতালটি নির্মানের জন্য আমি একাধিকবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিবসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে দেখা করেছি, কথা বলেছি। আশা করি জটিলতা কাটিয়ে সহসায় হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ও এলাকাবাসীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ দ্রুত কলেজ ক্যাম্পসে জননেতা নুরুল হক হাসপাতালটি নির্মান করবে এমনটাই শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *