চৌমুহনীতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে শত কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা

প্রতিনিধি: বৃহত্তর নোয়াখালীর প্রধান বাণিজিক শহর চৌমুহনীর স্টেশন মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ২৫টি দোকায় পুড়ে গেছে। এতে শতকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছে ব্যবসায়ীরা। রোববার সন্ধা ৭ টার দিকে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।
ব্যবসায়ীরা জানায়, হঠাৎ করে মার্কেটের ভেতরের একাধিক দোকানে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহুর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে চৌমুহনী, মাইজদী, সোনাইমুড়ী ও সেনবাগের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনার আগেই মনোহরি, মুদি, কোকারিজ, এ্যালমোনিয়াম, আবাসিক হোটেল, কম্পিউটার ও ভিডিও এডিটিং দোকানসহ অন্তত ২৫টি দোকান ভষ্মিভূত হয়। এতে শত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
অগ্নিকান্ডের স্থলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। তবে পানির অভাবে ও সাধারণ মানুষের ভিড়ের কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সঠিক ভাবে কাজ করতে পারেনি।
অপরদিকে সাধারণ মানুষকে সরাতে গিয়ে তোপের মুখে পড়তে হয় চৌমুহনী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের।
এদিকে অগ্নিকান্ডের পর পরেই বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব আলম অগ্নিকান্ডের স্থলে আসেন। তিনি জানান, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রন আসার পর ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে প্রশাসন থাকবে বলেও জানান ইউএনও মাহবুব আলম। এর পর আসেন জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস ও চৌমুহনী পৌর মেয়র আক্তার হোসেন ফয়সল। একই স্থানে বার বার অগ্নিকান্ডের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।
এর পরেই অগ্নিকান্ডের স্থলে আসেন নোয়াখালী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্যাহ বুলু। তিনি অগ্নিকান্ডের স্থল ঘুরে দেখেন ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সান্তনা দেন। এ সময় তিনি পানি পেতে দেরি হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের যথাসময়ে কাজ করতে না পারার বিষয়টি উল্লেখ করে চৌমুহনীতে দ্রুত খাল সংস্কার ও অবৈধ ভাবে দখল হওয়া পুকুরগুলো উদ্ধারের দাবী জানান।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *