করোনা ঝুকিতে চৌমুহনী: আড়ৎ কর্মচারী নিহত, আক্রান্ত-২

ইয়াকুব নবী ইমন: বৃহত্তর নোয়াখালীর প্রধান বানিজ্যিক শহর চৌমুহনীতে দিন দিন বাড়ছে করোনা রোগের ঝুঁকি। ইতিমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক আতৎ কর্মচারী নিহত হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে একই আড়তের দুই সহোদর কর্মচারী। তাদের বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর শনিবার ওই আড়ৎ লকডাউন করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অপরদিকে চৌমুহনীর পূর্ব বাজারের মিয়ার পোল মান্দার তলা এলাকার এক যুবক শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে বিভিন্ন যান বাহনে করে চলে আসে। বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রশাসন তার বাড়িও লকডাউন করে দিয়েছে। এ সব ঘটনায় পুরো চৌমুহনী শহরে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সূত্র জানায়, চৌমুহনী শহরের কালী তলা রোডের মেসার্স গগন সাহা’র আড়তের এক হিন্দু কর্মচারি গত সপ্তাহে করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যায়। পরে পরীক্ষায় তার শরীরে করোনা ভাইরাস পজেটিভ আসে। তার স্বজনরা তথ্য গোপন করে তাকে সোনাপুর মহাশ্মসানে দাহ করে। করোনায় মৃত হিন্দু এই সহকর্মীর সংস্পর্শে থাকা কুমিল্লার লাকসামের দুই সহোদরের করোনা শনাক্ত হয়েছে। দুই সহোদরের বাসা লাকসাম পৌরশহরের দক্ষিণ লাকসাম ৮নং ওয়ার্ডে। শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আব্দুল আলী।
তিনি আরো জানান, লাকসাম পৌরসভার দক্ষিণ লাকসাম সাহাপাড়া এলাকার দুই সহোদর চৌমুহনীতে একই আড়তে চাকুরি করতেন। ওই আড়তে চাকুরিরত এক সহকর্মী করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর দুই সহোদরের মধ্যে একজন নমুনা সংগ্রহের ৮দিন আগে লাকসামে চলে আসেন। এরই মধ্যে করোনা আক্রান্ত সহকর্মী মারা গেলে গত বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে অন্য ভাইও বাড়িতে চলে আসেন। দুই ভাই করোনায় মৃত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকার খবর পেয়ে ওইদিন রাতে স্থাণীয় প্রশাসন তাদের বাড়িসহ আশে-পাশের তিনটি বাড়ি লকডাউন করে দেন। পরদিন বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে সেই দুই সহোদরের নমুনা সংগ্রহ করে আইডিসিআর-এ পাঠানো হয়। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে আইইডিসিআর থেকে প্রেরিত রিপোর্টে তাদের করোনা ফলাফল পজেটিভ আসে।
এদিকে চৌমুহনী শহরের একাধিক সচেতন নাগরিক মনে করছেন, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অতি লোভের কারণেই করোনা ছড়াচ্ছে চৌমুহনীতে। দোকান বা আড়ৎগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করলে হয়তো এভাবে করোনা ছড়াতো না। এ নিয়ে ফেসবুকেও সমালোচনা ঝড় উঠেছে। শহরের একই আড়তের তিন কর্মচারী এক সাথে আক্রান্ত হওয়া মানে চৌমুহনীর অবস্থা ভবিষ্যতে খারাপ হতে যাচ্ছে। কারণ গগন সাহার কাষ্টমার পুরো বৃহত্তর নোয়াখালীর শত শত মুদি দোকানদার । এই কর্মচারীদের সংস্পর্শে আসা বৃহত্তর নোয়াখালীর হাজার হাজার দোকানদার এখন করোনা ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে। বিষয়টি খুবই উদ্বেগ জনক বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
চৌমুহনী শহরের এমন বেহাল অবস্থা নিয়ে ফেসবুকেও অনেকে ব্যবসায়ী সমিতি ও প্রশাসনের সমালোচনা করেছে। তারা প্রশাসনকে আরো কঠোর হওয়ার আহবান জানিয়েছে। সচেতন মহল বলছেন, যদি জেলাব্যাপী লকডাউন চলে তাহলে কি ভাবে মানুষ ঢাকা, নারায়নগঞ্জ ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলা থেকে নোয়াখালীতে প্রবেশ করে। জেলাবাসী লকডাউন সফল করতে প্রশাসনের আরো কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
রোববার রাতে এ সব বিষয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব আলম মোবাইলে জানান, আমরা আপাতত ওই আড়তটি লকডাউন করে দিয়েছি। আড়তের মালিকের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। রিপোর্টের পর পরবর্তিতে প্রদক্ষেপ নেয়া হবে।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *