করোনার হট স্পট বেগমগঞ্জ!

ইয়াকুব নবী ইমন: দিন যত যাচ্ছে করোনা রোগের হট স্পটে পরিণত হচ্ছে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা। দিন দিন উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত রোগির সংখ্যা বাড়ছে। শুক্রবার রাতেও উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের মির্জানগর গ্রামে এক যুবকের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় সরকারী ভাবে করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৬ জনে।
এর মধ্যে উপজেলার জীরতলী ইউনিয়নে ১ জন, আলাইয়ারপুর ইউনিয়নে ১ জন, চৌমুহনীর চৌরাস্তার আপন নিবাস হাউজিং-এ ২ জন, চৌমুহনী বাজারে ১ জন ও সর্বশেষ গত রাতে গোপালপুর ইউনিয়নে ১ জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়। এ ছাড়া চৌমুহনীর কালিতলা রোডের মেসার্স গগন সাহা আড়তের তিন কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়। এর জন্য এক জনের বাড়ি পাশ^বর্তি সোনাইমুড়ী উপজেলার নাটেশ^র ইউনিয়নে। তিনি মারা যাওয়ার পর তার পরিচয় গোপন করে সোনাপুরের শ^শানে নিয়ে তাকে দাহ করা হয়। সহকর্মীর মৃত্যুর এই আড়তে কর্মরত কুমিল্লার লাকসামের আরো দুই সহোদর লকডাউনের মধ্যেই গোপনে লাকসাম চলে যায়। কিন্তু এলাকাবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করে নমুনা সংগ্রহ করে পাঠালে পরীক্ষার জন্য পাঠানো তাদের শরীরে করোনা পজেটিভ আসে। পরে প্রশাসন মেসার্স গগন সাহা আড়তের মালিক রাজন সাহার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানে তার শরীরে করোনা পজেটিভ আসে। এ নিয়ে চৌমুহনী শহরে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শনিবার দুপুরে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অসীম কুমার দাস জানান, করোনা ভাইরাসের উপসর্গ থাকায় গত ২৫ এপ্রিল শনিবার বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের মির্জানগর গ্রাম থেকে ৬ জনসহ মোট ৯জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ ইনস্ট্রিটিউট অব ট্রফিক্যাল এন্ড এনফেকসাস ডিজিস (বিআইটিআইডি) চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছিল। যার মধ্যে ওই যুবকের করোনা রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে। বাকী ৮টি রিপোর্ট নেগেটিভ আসছে।

তিনি আরও বলেন, শনাক্ত হওয়া ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরে জ্বর ও কাশিতে ভুগছিল। ভালো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে সে বাড়ীতে চিকিৎসা নিচ্ছিলো। এমন খবরের ভিত্তিতে তার বাড়ীতে স্বাস্থ্য কর্মী পাঠিয়ে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। তার বাড়ীতে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে। করোনা শনাক্ত যুবকের সংস্পর্শে আসা সকলের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হবে। লকডাউন ঘোষণা করা হয় তার বাড়ী। তার শারীরিক অবস্থার প্রেক্ষিতে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা হবে।
এ দিকে দিন দিন করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ায় আতঙ্ক বাড়ছে সচেতন মহলের মধ্যে। তারা মনে করছেন, সাধারণ মানুষ এখনো বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেনা। এখানে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার হচ্ছেনা। চৌমুহনীতে মানুষ যত্রযত্র বাজার করছে। লকডাউনের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চৌমুহনীতে আসা বড় বড়া ট্রাক, পিকআপসহ বিভিন্ন পন্য বাহি গাড়ির ড্রাইভাররা অবাধে চলফেরা করছে। তাদেরও পরীক্ষার কোন সিস্টেম এখানে নেই। সব মিলিয়ে চমর ঝুঁকিতে রয়েছে বৃহত্তর নোয়াখালীর প্রধান বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনী।

সব চেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, করোনায় আক্রান্ত রোগী ও তার স্বজনরা প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে বাইরে ঘুরাফেরা করার ঘটনাও আছে এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে দূর্ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে। এতে প্রশাসনের কর্তব্যক্তিদের মধ্যেও হাতাশা দেয়া দিচ্ছে।

এ সব বিষয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব আলম জানান, আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আমরা যতটুকু সম্ভব মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছি। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে বাজার করতে গোলাবাড়িয়ার কাচা বাজার মদন মোহন স্কুলের মাঠে নেয়া হয়েছে। যে কোন এলাকায় করোনা রোগীর সন্ধান পাওয়া গেলে ওই এলাকা দ্রুত লকডাউন করে দিচ্ছি। এই করোনা যুদ্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা নিজেদের ভালোর জন্যই ঘরে থাকবে হবে। করোনা প্রতিরোধে তিনি সবাইকে ঘরে থাকার ও নিরাপদ সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলার আহবান জানান।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *