এমন মানবিকতা ছড়িয়ে পড়ুক সর্বত্র

নিশান রিপোর্টার: করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার পর দাপন কাপন দেওয়ার ভয়ে স্বজনরা ও জানাযা পড়ানোর ভয়ে মসজিদের ইমাম পালিয়ে গেলেও দায়তি¦টি কাঁধে নেয় ছাত্রলীগ-যুবলীগ। জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ছাত্রলীগ-যুবলীগের এই মানবিক কাজটির জন্য প্রশংসায় ভাসছে তারা। কবর খোড়া, জানাজা পড়ানো, মাটি দেওয়া ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। জেলা, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও ছবিগুলো নিজেদের ওয়ালে পোষ্ট করে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক টিমকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। এমন মানবিকতা ছড়িয়ে পড়ুক সর্বত্র এমনটাই প্রত্যাশা সুশিল সমাজের।
জানা গেছে, গত রোববার রাতে করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হাজীপুর ইউনিয়নের বাসিন্ধা ও চৌমুহনী পূর্ব বাজারের সুগন্ধা কমিউনিটি সেন্টারের ম্যানেজার স্বপন। এর পর থেকেই তার স্বজনরা সব বাড়ি ঘর থেকে পালিয়ে যায়। স্বপন একমাত্র সন্তান হলেও পিতা পর্যন্ত লাশটির জানাযা ও দাপনের সময় আসেনি। এর প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাশ এলাকায় নিয়ে গেলেও কেউ কবর খোঁড়া, জানাযা পড়ানো বা কবর দেওয়ার ব্যাপারে এগিয়ে আসছিলো না। পরে অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই লাশটি দাফনের কাজ করলো হাজীপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রাকিব ও উপজেলা থেকে গঠিত স্বেচ্ছাসেবক দল। জানাযা পড়ানোর ভয়ে আগেই স্থানীয় মসজিদের ইমাম পালিয়ে যাওয়ায় লাশের জানাযা পড়ান হাজীপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বাবলু। এ সময় সার্বিকভাবে তাদের সহযোগিতা করেন বেগমগঞ্জ মডেল থানার এএসআই শাকিদুল।
এদিয়ে হাজীপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক দলের এমন মানবিক কাজের একাধিক ছবি অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। প্রশংসায় ভাসতে তারা।
এ বিষয়ে হাজীপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বাবলু ও হাজীপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রাকিব জানান, আসলে কোন প্রশংসা পাওয়ার জন্য আমরা কাজটি করিনি। মানবিক দিক থেকেই কাজটি করেছি।
বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ হাসান শুভ বলেন, তাদের এমন মানবিক কাজ দেখে ও এই দলের একজন সদস্য হিসিবে সত্যি আমরা গর্বিত। এমন ছাত্রলীগ যুবলীগ দেশের প্রতিটি প্রান্তে জন্ম নিক এমনটাই চাই।
চৌমুহনী পৌর আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রিয়াজ তাঁর ফেসবুক ওয়ালে ছাত্রলীগ, যুবলীগের এমন মানবিক কাজের প্রশংসা করে বলেন, যারা কাজটি করেছে তাদের প্রতি রইলো অফুরন্ত ভালোবাসা।
বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব আলম তাঁর ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, গতকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করোনা সন্দেহে হাজিপুর ইউপির মারা যাওয়া এক যুবকের লাশ দাফন ও কবরস্থ করার বিষয় বেশ আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে বেগমগঞ্জের জীবনবাজি রাখা একদল সাহসী স্বেচ্ছাসেবকের ভূয়সী প্রশংসা হয়েছে। হাসপাতালে টগবগে যুবকের মৃত্যু হলেই করোনা সন্দেহ করে স্থানীয়রা অস্থির করে তোলে যে -এ লাশ এলাকায় আনা যাবে না, দাফনতো দূরের কথা! মৌলভীরা এলাকা ছাড়া।
কবর খোঁড়া থেকে দাফন -যাবতীয় দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় প্রশাসনের নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকগণ ও শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। -কুর্ণিশ দাফনে অংশগ্রহণকারী সবাইকে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এই পোষ্টেও অনেকে প্রশংসা করে মন্তব্য করেছেন।
বেগমগঞ্জ উপজেলা নিবাহী অফিসার মাহবুব আলম বলেন, যখন লাশটি দাপনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে তখন আমাদের নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবক দল কাজটি করে দেখিয়ে দিলো মানবিকতা এখনো মরে যায়নি। এখন যে কোন মৃত্যুকেই করোনা রোগি বলে প্রচার করায় মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ফলে স্বজনরাও লাশের কাছে আসেনা। আমাদেরকে বেকায়দায় পড়তে হয়। আমাদের আরো সচেতন হতে হবে। সুস্থ্য থাকতে অবিশ্যই আমাদেরকে বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হওয়া যাবেনা। সবাইকে সরকারের নির্দেশনা মেনে চলারও আহবান জানান তিনি।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *