হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অপ-প্রচার ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি: নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেহরাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অপ-প্রচার ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। একটি কুচক্রি মহল দীর্ঘদিন থেকে মেহরাজ চেয়ারম্যানের মান-সম্মান ক্ষুন্ন করার কাজে লিপ্ত রয়েছে। এরি অংশ হিসেবে মাতৃত্বকালীন ভাতার টাকা বিতরনে অনিয়মের অভিযোগ এনে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মহলটি ভূল তথ্যা সরবরাহ করে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করেছে। যেখানে এই টাকা সংশ্লিষ্ঠ ব্যক্তির ব্যক্তিগত ব্যাংক একাউন্টে জমা হওয়ার কথা সেখানে ইউপি চেয়ারম্যান টাকা আত্মসাতের বিষয়টি হাস্যকর বলেই মনে করছেন সচেতন মহল। তাছাড়া এই কার্যক্রমের সাথে ইউপি কার্যালয় ও চেয়ারম্যান তদারকিরও কোন সুযোগ নেই বলে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
৩০ মে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে মাতৃত্বকালীন ভাতা বিতরন করে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এখানে ইউপি কার্যালয় বা ইউপি চেয়াম্যানের কোন কাজ নেই। ইউনিয়নের মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগী মোল্লাগ্রামের সিরাজ উদ্দিনের স্ত্রী রাহেনা খাতুন, মুন্সিগ্রামের আলাউদ্দিনের স্ত্রী শারমিন বেগম, কামাল উদ্দিনের কন্যা সুরমা বেগম, সোহেল উদ্দিনের স্ত্রী সারমিন আক্তার, সূর্যদয় গ্রামের ইসরাফিলের কন্যা রাহেনা বেগম, পুর্বাচল গ্রামের কোরবান আলীর কন্যা তাছলিমা বেগম, আদর্শ গ্রামের শরিফ উদ্দিনের কন্যা খুকু মনি, সামসু উদ্দিনের স্ত্রী আরজু বেগম, ধানসিডি গ্রামের রাদেশ উদ্দিনের স্ত্রী লিমা বেগম সহ ৬৯ জন ভাতাভোগী তাদের ৭২০০ টাকা করে গ্রহন করেন। এর মধ্যে কিছু কিছু ভাতাভোগীদের আত্মীয় স্বজনের মধ্যে টাকা নিয়ে মনোমালিন্য দেখা দেয়। যা পরবর্তিতে ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে গেলে তিনি উভয় পক্ষকে টাকা ভাগ করে দেন। এই কাজটি কেই ষড়যন্ত্রকারীরা ব্যবহার করে ভাতাভোগীদের টাকা আত্মসাত করেছে বলে প্রচার চালায়। যা পরবর্তিতে সাংবাদিকদের ভূল তথ্য সরবরাহ করে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করে।
এ ব্যাপারে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেহরাজ উদ্দিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে এ সব অভিযোগ মিথ্যা। কিছু মহিলার ক্ষেত্রে শশুরবাড়ী ও বাবার বাড়ীর লোকজনের মধ্যে এ টাকা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় তাদের টাকা ভাগ করে দিয়েছি মাত্র। এখানে আমি টাকা আত্মসাতের প্রশ্নই আসেনা।
তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন থেকেই একটি মহল আমার বিরুদ্ধে নানা ভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তারা আমাকে বেকায়দায় পেলতে বিভিন্ন কাল্পনিক কিচ্ছা কাহিনী রচনা করছে। নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদ ও আমার মান সম্মান ক্ষুন্ন করতে তারা উঠে পড়ে লেগেছে। মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগীদের টাকা আত্মসাতের ঘটনাটিও কাল্পনিক। ভূয়া ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে তারা আমাদের সাংবাদিক ভাইদের বিভ্রান্ত করে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করেছে। আমি এমন সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। যেখানে করোনার ঝুকি নিয়ে দিন রাত নিঝুমদ্বীপবাসীর সেবা করে যাচ্ছি সেখানে এমন মিথ্যা অভিযোগে আমাকে হয়রানি করার চেষ্টা দু:খজনক। ভবিষ্যতে এভাবে কেউ ষড়যন্ত্র করলে নিঝুমদ্বীপবাসীকে সাথে নিয়ে তাদের কঠোর ভাবে জবাব দেয়া হবে বলে তিনি হুশিয়ার করেন।
সোনালী ব্যাংক জাহাজমারা শাখার ম্যানেজার শ্রীবাস চন্দ্র দাস এ বিষয়ে বলেন, এই টাকাগুলো সংশ্লিষ্ঠ ভাতাভোগীদের একাউন্টেই জমা হয়। নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে আমাদের ৬৯ জন ভাতাভোগী রয়েছেন। ইউনিয়নটি দূর্গম এলাকায় হওয়ায় সেখান থেকে অনেক মহিলাকে জাহাজমারা এসে টাকা উত্তোলন করা সম্ভব হয়না। তাই আমরা গিয়ে সেখানে টাকা বিতরন করি। সব গ্রাহকেই আমাদের কাছ থেকে টাকা বুঝে নিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে কেউ কারো কাছ থেকে টাকা কেটে নেওয়ার সুযোগ নেই।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রেজাউল করিম ও হাতিয়া মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা চন্দন চক্র বর্তী জানান, সাবইকে ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে এ ভাতা প্রদান করা হয়। এখানে ইউনিয়ন পরিষদের ও ইউপি চেয়ারম্যানের কোন তদারকি করার সূযোগ নেই।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *