নোয়াখালীতে করোনায় প্রাণ গেল ২২ জনের

মোস্তফা মহসিন ও ইয়াকুব নবী ইমন: নোয়াখালীতে মহামারি করোনা ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। দিন দিন মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সর্বত্র বিরাজ করছে আতঙ্ক, উদ্বেগ, উৎকন্ঠা। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কঠোর অবস্থান, মোবাইল কোর্ট, লকডাউন ও নজরদারির পরও নিহত ও আক্রান্তের সংখ্যা কমানো যাচ্ছেনা। এ জন্য জেলার সাধারণ মানুষের অসচেতনাকেই দায়ী করেছেন অভিজ্ঞ মহল। অপরদিকে বর্তমানে বেগমগঞ্জ উপজেলা ও বৃহত্তর নোয়াখালীর প্রধান বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনী করোনার হট স্পটে পরিণত হয়েছে। এখানে প্রতিদিনই নিহত ও আক্রান্তের খবর আসছে। জেলায় এ পর্যন্ত নিহত ২২ জনের মধ্যে বেগমগঞ্জেরই ১৪ জন আর জেলায় আক্রান্ত ৮৪১ জনের মধ্যে ৩৮৩ জন বেগমগঞ্জের।
জেলায় করোনায় নিহতরা হচ্ছেন, সোনাইমুড়ীর ইতালী প্রবাসী মোরশেদ আলম (৪৫), সেনবাগে রাজমেস্ত্রী মো. আক্কাস (৪৮), বেগমগঞ্জে মীরওয়ারিশপুর গ্রামের বেচার দোকান এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তারেক হোসেন (৩০), গনিপুর গ্রামের ব্যবসায়ী ও যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম মিন্টু (৪৭), সোনাইমুড়ীর কৃষক ফখরুল ইসলাম বাচ্চু (৫৯), বেগমগঞ্জের কুতুবপুর গ্রামের ব্যবসায়ী শহিদুর রহমান (৬৬), চৌমুহনী পৌরসভা করিমপুরের ব্যবসায়ী বেলাল উদ্দিন (৫৭), পশ্চিম গণিপুর গ্রামের ব্যবাসয়ী হাজী আবুল খায়ের পাটোয়ারী(৭৪), নরোত্তমপুর গ্রামের জতন লাল সাহা (৬৫), সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটার মাঈন উদ্দিন মানিক(৬৫), নোয়াখালী পৌরসভা ৪নং ওয়ার্ড জয়কৃষ্ণপুরের আব্দুর রাজ্জাক ফারুক(৫৫) উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নে আব্দুল মান্নান মনু (৬১), বেগমগঞ্জের একলাশপুরের সাখায়েত উল্যাহ (৮০), সেনবাগের কাবিলপুর ইউনিয়নের মহিদীপুর গ্রামের আহসান উল্যাহ (৫৩), কাবিলপুর ইউনিয়নের উত্তর সাহপুর মসজিদের মুয়াজ্জেন মোজাম্মেল হোসেন (৪৪), চৌমুহনী পৌরসভার পূর্ব বাজারে কাজী মো. সোলায়মান (৬৪), বেগমগঞ্জ একলাশপুরের নূরুল হক(৬২), বেগমগঞ্জের ইউনিয়নের দরবেশপুর গ্রামের খামারবাড়ির মৃত তোফায়েল আহাম্মদের পুত্র নুর মোহাম্মদ(৪৬), দূর্গাপুর গ্রামের নবীর হোসেন ৬৫), শরীফপুর ইউনিয়নের মধ্য খানপুর গ্রামের মো হানিফ (৬০), আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের ব্যাংকার পারভেজ হোসেন(৩৫)। এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় ৭২ জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ার রিপোর্ট এসেছে। এনিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত ৮৪১ জন। (আক্রান্তের হার ১৮.০২%)। সুস্থ হয়েছে ৮৭ জন। (সুস্থতার হার ১০.৩৪। আক্রান্ত চাটখিল-১৭জন, সোনাইমুড়ি-৭জন, সেনবাগ-০০জন, বেগমগঞ্জ-৩২ জন, নোয়াখালী সদর-১১জন, কোম্পানীগঞ্জ-০৭জন, কবিরহাট-০৫জন, সূবর্ণচর-০৪জন, হাতিয়া-০৪জন)। মৃত্যু-২২ জন। (মৃত্যুর হার ২.৬১%)। (বেগমগঞ্জ-১৪জন, সোনাইমুড়ি-০২জন, সেনবাগ-০৪জন, সূবর্ণচর- ০১জন, সদর- ০১জন)। ২৪ ঘন্টায় স্যাম্পল প্রেরণ ২৩৪ জন। আজকের প্রাপ্ত ফলাফল -৩১২ জন। পজিটিভ -৭২ জন। নেগেটিভ -২৪০জন। এযাবৎ মোট স্যাম্পল প্রেরণ-৫৬৯৪ জন। প্রাপ্ত ফলাফল – ৪৬৬৭ জন। পজিটিভ -৮৩৯ জন। নেগেটিভ -৩৮২৮ জন।আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা : ৭৩২ জন। কোভিড হাসপাতালে (শহীদ ভুলু ষ্টেডিয়াম) ভর্তি রোগীর সংখ্যা : ৪৭জন। করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা : (উপজেলা ভিত্তিক তথ্য) : নোয়াখালী সদর-১৯৭ জন। সুবর্ণচর-২১ জন। হাতিয়া-০৬ জন। বেগমগঞ্জ- ৩৮৩ জন। সোনাইমুড়ী-৪৭ জন। চাটখিল-৫৫ জন। সেনবাগ-৫৬ জন। কোম্পানিগঞ্জ -০৮ জন। কবিরহাট-৬৮ জন।
নোয়াখালীতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ও মৃত্যু হার বেড়ে যাওয়ায় জেলার প্রধান বানিজ্য কেন্দ্র চৌমুহনী বাজার তৃতীয় দফায় লকডাউন করা হয়েছে আগামী ৭ই জুন পর্যন্ত। তবে লকডাউন তুলে দিতে প্রশাসনকে ব্যবসায়ীরা চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *