সোনাইমুড়িতে যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার আসামী রনি অস্ত্রসহ গ্রেফতার

সোনাইমুড়ী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে যুবলীগ নেতা আরিফ হোসেন হত্যা মামলার ২ নং আসামী নাছির উদ্দিন রনিকে (২৪) অস্ত্র সহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার বিকালে সোনাইমুড়ী বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ। রনি সোনাইমুড়ী উপজেলার ৯ নং দেওটি ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের পালপাড়া গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ির মৃত আবুল কাশেমের ছেলে।
জানা গেছে, গত ৮ জানুয়ারি রাতে যুবলীগ নেতা আরিফ মোটর সাইকেল যোগে পালপাড়া হয়ে বারুলের দিকে যাওয়ার সময় কে বা কারা গুলি করে হত্যা করে তার মোটর সাইকেল ও সাথে থাকা টাকা লুট করে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ ব্রিজের উপর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পর দিন ৯ জুন আরিফ হোসেনের আত্মীয় আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ টিপু বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো ৫ জনকে আসামী করে সোনাইমুড়ী থানায় মামলা করে। মামলার ১ নম্বর আসামী নজরুলকে রাতেই চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই মামলার ২ নং আসামী নাছির উদ্দিন রনি গতকাল বিকালে সাদা মাইক্রো বাস যোগে এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় সোনাইমুড়ী বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে একটি এলজি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। মামলার ১নং আসামীর দেয়া তথ্য মতেই রনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
তবে গ্রেফতার নাছির উদ্দিন রনির মা জান্নাতুল ফেরদাউস জানান, আমার ছেলে নিরপরাধ। সে এলাকায় ছাত্রদলের রাজনীতি করে ও তার চাচা আজাদের সাথে আমাদের সম্পত্তি নিয়ে পূর্ব শত্রুতা রয়েছে। তার চাচা শত্রুতাকে ব্যবহার করে মামলার বাদীকে দিয়ে আমার সন্তানকে পরিকল্পিত ভাবে যুবলীগ নেতা আরিফ হত্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে। সে সম্পূর্ণ নিরপরাধ। আমাদেরকে হয়রানি করতেই রনিকে মিথ্যা মামলায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। আমরা তার নি:শর্ত মুক্তি দাবী করছি। তাছাড়া রনির চাচা আমাদেরকে এর আগেও অনেক ভাবে হয়রানি ও নির্যাতন করেছে। আমাদেরকে বাড়ি ঘরে থেকে মেরে বের করে দিয়েছে কয়েক বার এবং বিভিন্ন সময় প্রাণ নাশের হুমকি দেয়।
এদিকে গ্রেফতারকৃত রনির স্ত্রী জানান, আমার স্বামী নির্দোষ। তাকে পরিকল্পিতভাবে তার চাচা আজাদ সম্পত্তির লোভে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়। আমার স্বামী তার বাবার সাথে ব্যবসা বাণিজ্য করতো। ব্যবসাটাকে ঢাকায় নেওয়ার জন্য সে সম্পত্তি বিক্রি করার প্রস্তাব গ্রহণ করে। আর এতেই তার চাচা আজাদ ক্ষিপ্ত হয়। এতে সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়া ও আত্মসাতের জন্য পরিকল্পিত ভাবে আমার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।
এ হত্যাকান্ডের ন্যায় বিচার চেয়ে নিহত আরিফ হোসেনের স্ত্রী ফাতেমা বেগম জানান, আমার স্বামীকে গুলি করে হত্যা করে তার সাথে থাকা সবকিছু নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। পুলিশ প্রশাসনের কাছে আবেদন তদন্তের মাধ্যমে আমার স্বামীর প্রকৃত খুনিদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি এবং যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়েও প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছি।
এ ব্যাপারে সোনাইমুড়ী থানার ওসি আব্দুস সামাদ জানান, মামলার ১ নং আসামীর জবানবন্ধিতে রনির নাম উঠে আসে। তার আমরা তাকে নজরদারিতে রাখছিলাম। সে এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা তাকে একটি এলজি পিস্তলসহ সোনাইমুড়ী বাজার থেকে গ্রেফতার করে। সে যুবলীগ নেতা আরিফ হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত ২নং আসামী । তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে কোর্টে পাঠানো হবে।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *