সোনাইমুড়ীতে হিজবুত তাওহীদ আবারও সক্রীয়


জামাল খলিল, স্টাফ রিপোর্টার: নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে হিজবুত তাওহীদ সদস্যরা আবারও সক্রীয় হয়ে উঠেছে। তাদের আনাগোনায় গ্রামবাসী আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে বলে জানা গেছে। সুত্রে জানা যায়, হিজবুত তাওহীদ নামক সংগঠনটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কালো তালিকাভুক্ত। গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে সংগঠনটি। যেকোন সময় এ সংগঠনটি নিষিদ্ধ হতে পারে। জঙ্গিবাদী তৎপরতায় লিপ্ত থাকার অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে সংগঠনটির বিরুদ্ধে। বিগত ২০০৯ সালে তাদের চলাফেরা সন্দেহজনক দেখে এলাকাবাসী বাধা দেয়। এ সংগঠটির অন্যতম নেতা উপজেরার পশ্চিম চাঁদপুর গ্রামের নুরুল আমিনের জামাতা ফিরোজ আলমের নেতৃত্বে গ্রামবাসীর উপর অতর্কিত ভাবে হামলা চালায়। এসময় হিজবুত তাওহীদের সদস্যরা প্রায় ১০/১২জন গ্রামবাসীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন স্থান থেকে ৩০/৩৫জন হিজবুত তাওহীদের নারী-পুরুষ সদস্যকে আটক করে। তাদের বসত বাড়ীতে তল্লাশি মুখোশ, ছোরা, গান ফাউডার, জেএমপি ও হিজবুত তাওহীদের জিহাদী বই উদ্ধার করে। ঐ গ্রামে মসজিদ থাকা অবস্থায়ও আবারও ঐ সংগঠনের সদস্যরা নুরুল আমিনের বাড়ীতে মসজিদের নামে ঘর নির্মাণ করেছিল। এখানে বহিরাগত লোকজনকে একত্রিত কওে বিভিন্ন ধরনের জিহাদী কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিল। এসময় গ্রামের মুসল্লিরা বাধা দিলে গ্রামবাসী ও হিজবুত তাওহীদের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে হিজবুত তাওহীদের ২ সদস্য ও ১গ্রামবাসী নিহতসহ অন্তত ৭০জন আহত হয়। পরে হিজবুত তাওহীদের সদস্যরা বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় ও কোর্টে সাংবাদিক জামাল খলিলসহ প্রায় ২০০ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে হত্যা, মারধর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ এনে ৩টি মামলা দেয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত টাকা ও ক্ষমতার অপব্যবহারে উক্ত মামলায় গ্রেফতার আতঙ্কে গ্রামের শত শত নিরীহ জনগণ পালিয়ে বেড়াচ্ছে। সরেজমিনে গেলে স্থানীয় পশ্চিম চাঁদপুর গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানান, ২০০৯ সাল থেকে এ গ্রামে হিজবুত তাওহীদের অন্যতম সদস্য মোহাম্মদ বিলালের নেতৃত্বে হিজবুত তাওহীদ সংগঠিত হয়। তারা বিভিন্ন লোভনীয় ও জিহাদী পথের প্রলোভন দেখিয়ে নিরীহ লোকজনকে তাদের সদস্য করে নিচ্ছে। তাদের প্রচার প্রচারণায় এলাকায় বিভিন্ন ধরণের লিফলেট, ব্যানার, পোষ্টার বিলি করছে। রাতের বেলায় তাদের বাড়ীতে গোপনীয় বৈঠক বসে বিভিন্ন পরিকল্পনা করছে। ইতিপূর্বে হিজবুত তাওহীদের সদস্যরা শহীদি জামে মসজিদ নামে একটি মসজিদ নির্মাণ করে। এ মসজিদের নাম নিয়ে এলাকায় বিতর্ক রয়েছে। মসজিদে তাদের সদস্য ছাড়া অন্য কাউকে নামাজ আদায় করতে দেওয়া হয় না বলে গ্রামবাসী জানায়। গোয়েন্দা সুত্রে জানা যায়, নোয়াখালীতে প্রকাশ্যে সহিংস সন্ত্রাসী তৎপরতায় লিপ্ত হওয়ার পর হিজবুত তাওহীদ সংগঠনটি সারা দেশের ন্যায় সোনাইমুড়ীতেও ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে। ব্যানার, লিপলেট, হ্যান্ডবিল, জিহাদী বই ডকুমেন্টারীসহ তারা নানা প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছে। জঙ্গিবাদ বিষয়ে সক্রীয় হয়ে ওঠা এ সংগঠনের বিরুদ্ধে মৌলবাদ প্রচারসহ জঙ্গীবাদের অভিযোগ রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ে যে সব সন্দেভাজন সংগঠন নিষিদ্ধ করণের পর্যালোচনার তালিকায় আছে, তাদের মধ্যে অন্যতম হিজবুত তাওহীদ ও জেএমবি। বক্তব্য নিতে হিজবুত তাওহীদের বর্তমান রোকন ফিরোজ ও বেলালের মুঠোফোনে কল দিলে তার ফোন রিসিভ না করলেও হিজবুত তাওহীদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মোখলেছুর রহমান সুমন রিসিভ করে জানান, বিগত ২০০৯সালে গ্রামবাসী ও হিজবুত তাওহীদের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষে ২জন নিহত হওয়ায় এ মসজিদের নাম দেওয়া হয়েছে জিহাদী মসজিদ। তবে এ সংগঠনটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের গোয়েন্দা নজরদারীতে রয়েছে স্বীকার করে তিনি বলেন, আমরা বহু আগে সংগঠিত, তাই ইচ্ছা করলেই আমাকে নির্মূল করা যাবে না। আর বর্তমান সরকারের আমলে তারা নন, সবাই গোয়েন্দা নজরদারীতে আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সোনাইমুড়ী থানার ওসি আব্দুস সামাদ হিজবুত তাওহীদ ও জেএমবির সদস্যদের বিষয়ে জানান, বিগত সময়ে কয়েকবার গ্রামবাসী ও হিজবুত তাওহীদের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। বর্তমানে যদি তারা বিরোধ করার বিষয়ে কোন পরিকল্পনা করে তা খতিয়ে দেখা হবে। গ্রামবাসী আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই। গোয়েন্দা নজরদারীতে হিজবুত তাওহীদ রয়েছে। আপনাদের সহযোগিতায় হিজবুত তাওহীদ এত তৎপর ও আপনি প্রতি মাসে তাদের থেকে মনোহারা নেন এমন প্রশ্ন করলে উত্তেজিত হয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *