৭০ বছরেও স্বীকৃতিহীন ভাষা সৈনিক রইছ উদ্দিন

ভাষা আন্দোলন দীর্ঘ ৭০ বছরেও রাষ্ট্রিয় স্বীকৃতি মেলেনি ভাষা সৈনিক রইছ উদ্দিনের। দিন কাটে অভাব অনটনে। টাকার অভাবে নিতে পারছেননা উন্নত চিকিৎসা। মাঝে মধ্যে শহীদ দিবসে সংবর্ধনা দিয়েই দায়ীত্ব শেষ করছেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। উন্নত চিকিৎসা, রাষ্ট্রিয় স্বীকৃতি ও সর্বত্র মাতৃভাষার যথাযর্থ ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবী স্বজন ও এলাকাবাসীর। তবে সব রকমের সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন । জীবন্ত কিংবদন্তি এই ভাষা সৈনিককে নিয়ে দৈনিক জাতীয় নিশান সম্পাদক ইয়াকুব নবী ইমনের বিশেষ প্রতিবেদন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এক সময়ের চৌমুহনী পৌর এলাকার পূর্ব বাজার মহুরী বাড়ির বাসিন্ধা ৫২-এর ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক রইছ উদ্দিনের বর্তমান বাস বেগমগঞ্জ উপজেলার জিরতলী ইউনিয়নের ফাজিলপুরের ভূঁইয়া বাড়িতে। দুই ছেলে ও চার কন্যসহ একটি ছোট ঘরে থাকেন তিনি । ১৯৫২ সালের তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্র ভাষা উর্দু ঘোষনার পরপরেই পূর্ববাংলার ছাত্রজনতা ভাষা আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়েন। সেই সংগ্রামের প্রথম সারির সৈনিক রইছ উদ্দিন। তাঁর নেতৃত্বে নিজ জেলা নোয়াখালীর চৌমুহনী শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবীতে সোচ্ছার ছিলো ছাত্রজনতা। পরবর্তিতে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে কাজ করেন। অথচ ভাষা আন্দোনের ৭০ বছর আর স্বাধীনতার ৫০ বছরেও রষ্ট্রিয় কোন স্বীকৃতি মেলেনি এই ভাষা সৈনিকের। আজো অবহেলতি ভাষা সৈনিক রইচ উদ্দিন। বয়সের ভারে নুজ্জ অসুস্থ এই ভাষা সৈনিকের দিন কাটে অভাব অনটনে। টাকার অভাবে নিতে পারছেননা উন্নত চিকিৎসা। মাঝে মধ্যে শহীদ দিসবে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হলেও পরবর্তিতে আর কেউ খোঁজ নেয়না। দেশের অফিস আদালতসহ সর্বত্র মাতৃভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করা, ভাষা সৈনিক রইছ উদ্দিনের উন্নত চিকিৎসা ও রাষ্ট্রিয় স্বীকৃতি দাবী করেছে স্বজন ও এলাকাবাসী। আজো উত্তাল সেই দিনের কথা আর পুলিশের নির্যাতনের স্মৃতি ভুলেননি ভাষা সৈনিক রইছ উদ্দিন। তিনি জানান, আন্দোলন করতে গিয়ে তিন বার গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছেন, অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু ভাষা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াননি। দেশের সর্বত্র বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত হলেই তিনি সন্তোষ্ট হবেন বলে জানান।
এই ভাষা সৈনিকের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহনাজ বেগম নাজু ও ভাইস চেয়ারম্যান নুর হোসেন মাসুদ বলেন, আমরা উনার সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে যতটুকু সম্ভর উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে পাশো দাঁড়াবো।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুন নাহার জানান, ভাষা সৈনিক রইছ উদ্দিনকে কাছে পেয়ে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত। উনি বার উনার পরিবার যদি আমাদের কাছে সহযোগীতার আবেদন করে আবিশ্যই সরকারের পক্ষ থেকে আমরা উনাদেরকে সহযোগীতা কবরো।
ভাষা সৈনিক রইছ উদ্দিনের উন্নত চিকিৎসা সেবা সহ সব রকমের সহযোগীতার আশ্বাস দিয়ে নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরণ বলেন, বর্তমান সরকার সবার জন্য কাজ করছে। এই ভাষা সৈনিককে আমরা আগেও সহযোগীতা করেছি, এখনো করবো। উনার ছেলে রয়েছে তার সাথে কথা বলে উনার কি সমস্যা আছে তা সমাধানের চেষ্টা করবো।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *