মেঘনার ভাঙনে জনজীবন আতঙ্ক

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় অঞ্চল রামগতি-কমলনগর দুটি উপজেলা। মেঘনা কোলজুড়ে গড়ে উঠা দুটি উপজেলাতে মেঘনার তীব্র ভাঙনে মানুষ আতঙ্কে দিনপার করছে। সরেজমিনে দেখা যায়, মেঘনার ভাঙ্গন এতটাই তীব্র হচ্ছে। ভাঙনের তীব্রতা দেখে এলাকা বাসী খুবই আতঙ্কে আছে। আঠার টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত রামগতি-কমলনগর উপজেলা। মেঘনার ভাঙনে রামগতি-কমলনগরের চর আব্দুল্লাহ, চর আগলী, চর রমিজ, চর গাজী, বড় খেরী,আলেকজান্ডার, সাহেবের হাট, চর মার্টিন, চর কালকিনি, পাটোয়ারী হাট সহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়া পথে । ভাঙনের তীব্রতা দেখে, প্রতিনিয়ত ঘর-বাড়ি,গাছ-গাছালী, গরু-ছাগল,মহিষ সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী অন্যত্রে সরি নিচ্ছে ভুক্তভোগীরা । নদীগর্ভে রেখে যাচ্ছে বাবা-মা, নানা-নানী,দাদা-দাদীসহ নিকটস্থ আত্মীয় স্বজনের কবর। বিলুপ্ত হচ্ছে ফসলি জমি,আবাস ভূমি,দালাল-কোটা। এছাড়াও হারিয়ে গেছে,শত বছরের ঐতিহাসিক লুধুয়া বাজার,সাহেবের হাট বাজার, বাংলা বাজার,তালতলি বাজার, সেবাগ্রাম বাজার, কাদির পন্ডিতের হাট বাজারসহ ছোটখাটো বাজার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে, লুধুয়া হাই স্কুল,পল্লী মঙল হাই স্কুল,মাতাব্বর হাট মাদ্রাসা, কাদিরপন্ডিতের হাট হাই স্কুল, ফজলুর রহমান হাই স্কুলসহ অনেকগুলো প্রাইমারী স্কুল,মাদ্রাসা। এছাড়াও মানুষের সেবা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হারিয়ে গেছে রামগতি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ পুরানো আমলে মসজিদ, মাদ্রাসা। কমলনগর উপজেলা ভবন থেকে নদীর দুরত্ব মাত্র দেড় কি.মি.। দুটি উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতসহ নির্মানাধীন স্থাপনা হুমকির মুখে। যেকোন সময় গড়তে পারে বড় দুর্ঘটনা। মেঘনার ভাঙনে ভিটে-মাটি,বসতঘর নদী গর্ভে হারিয়ে সড়কের দু,পাশে ঝুকি বসবাস করছে হাজারও পরিবার ।এতে আতঙ্কে দিনপার করছে অসহায় মানুষগুলো। নদী গর্ভে হারিয়ে যাওয়া, আব্দুল্লাহ, মিজান,শামসুল, জামাল জানান, বাবা-দাদার রেখে যাওয়া বাড়ি-ঘর,জমি-জামা নদীতে ভেঙে গেছে। আমরা অসহায়ত্েেব মধ্যে দিন পার করছি। চোখের সামনে ভেঙে গেছে সব সম্পত্তি। এদের মত হাজারও পরিবার সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে কোন মতে জীবন-যাপন করছে। ২০১৪ সালের মেঘনার ভাঙ্গন প্রতিরোধে ১৩৪৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হওয়ার পর ১ম পর্যায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার বাঁধে ২শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এরমধ্যে রামগতিতে ৪ কিলোমিটার কমলনগরে ১ কিলোমিটার কাজ হয়েছে। দুটি উপজেলায় প্রায় ১৫ কি.মি. নদী ভাঙনে কবলিত। সেখানে ৫ কি.মি. দুটি উপজেলা রক্ষার্থে সামান্য। রামগতিতে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কাজ করা হয়। যার কারণে নদী বাঁধে তেমন সমস্যা হয়নি।কিন্তু কমলনগরে মাত্র ১ কি.মি. কাজ বরাদ্দ হয়েও কাজটি করানো হয় স্থানীয় ঠিকাদার দিয়ে। যার কারণে কয়েকবার বাঁধে ধস দেখা দেয়। ঠিকাদার দিয়ে কাজ করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এমটাই দেখা যায়। স্থানীয়দের মতে, অতিদ্রুত দ্বিতীয় ধাপে নদী বাঁধের কাজ না করলে, রামগতি-কমলনগর হয়ত বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে এমটাই দাবি।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *