হাতিয়া ও নিঝুম দ্বীপে পর্যটন কেন্দ্রিক সংযোগ তৈরি হচ্ছে

হাতিয়া প্রতিনিধি: নিঝুম দ্বীপ ও হাতিয়ায় পর্যটন আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ৪৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘নোয়াখালী জেলার হাতিয়া ও নিঝুম দ্বীপে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে পর্যটন করপোরেশন। ম্যানগ্রোভ বন এবং চিত্রা হরিণসহ বন্যপ্রাণীসমৃদ্ধ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নৈসর্গিক দৃশ্যসংবলিত নিঝুম দ্বীপ একটি ভিন্নধর্মী ও আদর্শ পর্যটন এলাকা। নিঝুম দ্বীপটি হাতিয়ার মূল ভূ-খন্ড থেকে মোক্তারিয়া খাল দ্বারা বিচ্ছিন্ন। এ প্রকল্পের মাধ্যমে হাতিয়া ও নিঝুম দ্বীপ উন্নয়নের মধ্যে একটা পর্যটনকেন্দ্রিক সংযোগ তৈরি করা হবে। প্রকল্পটি সম্প্রতি অনুমোদনও দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী। চলতি বছর শুরু করে আগামী দুই বছরের মধ্যে এই সুবিধা গড়ে তোলা হবে। নোয়াখালী জেলার হাতিয়া এবং নিঝুম দ্বীপে আগত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য মানসম্মত পর্যটন সুবিধাদি যেমন রিভার ক্রুজ, আবাসিক ব্যবস্থা, এন্টারটেইনমেন্ট পার্ক, ইয়ুথ ইন, কনফারেন্স হল, ওয়াচ টাওয়ার, কৃত্রিম লেক, বারবি-কি-কিউ শেড, সার্ভিস বল্ক, ক্যাটারিং, পিকনিক শেড, কিডস কর্নার ইত্যাদি সুবিধা সৃষ্টি করা হবে। সেইসাথে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের মাঝে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে পর্যটন করপোরেশন আশা করছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, বন বিভাগ ১৯৭২ সাল থেকে নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও প্রকল্পের আওতায় নিঝুম দ্বীপে কেওড়া, বাইন, গেওয়া প্রভৃতি ম্যনগ্রোভ প্রজাতির বৃক্ষের বনায়ন শুরু করে। নিঝুম দ্বীপ বন বিভাগ কর্তৃক ও প্রতিষ্ঠিত ম্যানগ্রোভ ইকো-সিস্টেম। এই ইকো-সিস্টেম সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রকল্পের আওতায় কটেজ, ইয়ুথ ইন, এম্ফি থিয়েটার, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি স্থাপনা একতলা বিশিষ্ট করে গড়ে তোলা হবে। এ ছাড়া, হাতিয়া ও নিঝুম দ্বীপে পৃথক ওয়াচ টাওয়ারও তৈরি করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে এ দ্বীপে প্রচুর পরিমাণে দেশি-বিদেশি পর্যটক আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে এই এলাকার অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে। নিঝুম দ্বীপ ঘিরে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। শীতকালে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে আগত হাজার হাজার পাখির কলতান পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে। পর্যটকদের অভিযোগ হাতিয়া থেকে নিঝুম দ্বীপে যাতায়াতের ব্যবস্থা ভালো নয়। কিছু আবাসিক হোটেল গড়ে উঠলেও সেখানে গড়ে উঠেনি পর্যটনের সুযোগ সুবিধা। এজন্য হাতিয়ার সঙ্গে সংযোগ রেখেই ইকো-ফ্রেন্ডলি বা পরিবেশবান্ধব পর্যটন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, নিঝুম দ্বীপে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে পর্যাপ্ত সুবিধা তৈরি, নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা, থাকার সুব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং নিরাপত্তা বিধান করা হলে অনেক বেশি পর্যটকদের সমাগম ঘটবে।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *