নোয়াখালীতে বোরো ক্ষেত প্রস্তুতে ব্যস্থ চাষিরা

জাতীয় নিশান রিপোর্ট: নোয়াখালীর জেলায় পৌষের কনকনে শীতকে উপেক্ষা করে চলতি মৌসুমে বোরো আবাদে ব্যস্থ সময় পার করছেন কৃষকরা। আমনের বাম্পার ফলনে তারা বোরো ধান চাষে মাঠে নেমেছেন। এবার আমনের ফলনকে ছাড়িয়ে বোরো ফলন ভাল হবে বলে তারা আশাবাদি। জেলার হাতিয়া, সুবর্ণচর, কোম্পানীগঞ্জ, বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ী ও সেনবাগ উপজেলায় কৃষকরা জমি প্রস্তুত, চারা তোলা ও রোপনের কাজে ব্যস্থ। কয়েক দিন ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীত থাকায় বীজ তলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় ছিলেন কৃষকরা। তবে কৃষি বিভাগ থেকে আক্রান্ত বীজ তলা রক্ষায় সার্বিকভাবে পরামর্শ দেয়ায় তেমন ক্ষতি হয়নি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সুত্রে জানা যায়, এবার জেলায় মোট ৬০ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ৭৫ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো রোপন করা হয়েছে। আবহাওয়া অনকূলে থাকায় এ জেলায় পূর্বের তুলনায় এবার বোরোর বাম্পার ফলন হবে। রোপনকৃত জমির মধ্যে উন্নতফলনশীল বীজসহ বিভিন্ন রকমের বীজ রয়েছে। এ ব্যাপারে হাতিয়া উপজেলার কৃষক আব্দুল কাদির বলেন, চলতি মৌসুমে আমি ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করবো। এর মধ্যে তিন বিঘা জমিতে ধান চারা লাগানো হয়েছে। প্রচন্ড শীত থাকায় শ্রমিক সংকট দেখা দেয়ার অতিরিক্ত মজুরি দিয়ে জমিতে কাজ করতে হচ্ছে। আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যে বাকী জমিগুলোতে চারা রোপনের কাজ শেষ হবে। সুবর্ণচর উপজেলার সিরাজ মিয়া জানান, ১৫ বিঘা জমির মধ্যে এ পযর্ন্ত ৮-১০ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। আগে একজন শ্রমিকের মজুরি ৪শ টাকা ছিল। এখন ৫শ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কৃষক মো. আলম খাঁ বলেন, গত মৌসুমে আমন চাষে তেমন ভাল ফলন পাওয়া যায়নি। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বোরো চাষই একমাত্র ভরসা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, শীতের কারণে বোরো আবাদ পিছিয়ে নেই। স্থানীয় কৃষকরা পুরোদমে বোরো ধান আবাদ শুরু করেছেন। শেষ পযর্ন্ত আবহাওয়া অনুকূলে ও সেচ ব্যবস্থা ঠিকমতো ভাল থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *