সেনবাগে গৃহবধু মাম্মি হত্যাকান্ড: ঘাতক স্বামীর জবানবন্ধী প্রদান

সেনবাগ প্রতিনিধি: নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার উত্তর রাজারামপুর গ্রামের যৌতুকের দাবীতে গৃহবধু জাহেদা খাতুন প্রকাশ মাম্মি (২০) হত্যার দোষ স্বীকার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্ধী প্রদান করেছে মামলার প্রধান আসামী ঘাতক স্বামী আলী আহম্মদ প্রকাশ সোহল (৩০)। গত ১১ জানুয়ারী সন্ধ্যায় নোয়াখালী সিনিয়ির চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ সোয়েব উদ্দিন খানের আদালতে সে জানায় স্ত্রী মাম্মি তাকে পরকিয়া সন্দেহ করলে দুই জনের মধ্যে ঝড়গা হয়। যার এক পর্যায়ে সে প্লাস (কাজ করার যন্ত্র)দিয়ে গলায় চাপ দিয়ে শ^াস রোধ করে স্ত্রীকে হত্যা করে। এর আগে সেনবাগ থানার এসআই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাজফুজুর রহমান দীর্ঘ সাড়ে তিনমাস চেষ্টার পর মোবাইলফোর ট্যাকিংয়ে মাধ্যমে ১০ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার ঘাতক মাম্মির স্বামী আলী আহম্মদ প্রকাশ সোহেলকে ফেনীর সোনাগাজীর আবতাবি পাড়ার হকদি গ্রামের সদর উদ্দিনের বাড়ি থেকে ও তার স্বীকারোক্তিতে ফেনী শহরের শাহীন একাডেমি এলাকার টমটম চালক আলা উদ্দিনের বাসা থেকে দেবর আবুল কালাম আজাদ প্রকাশ রুবেল (২৫)কে গ্রেফতার করা হয়। উল্লেখ্যঃ বিগত ২০১৮ সালের (২৭ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার ভোরে সেনবাগ উপজেলার ৭নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের উত্তর রাজারামপুর গ্রামের আবুল হোসেনের বাড়িতে যৌতুকের দাবীতে গৃহবধু মাম্মিকে হত্যার পর তার লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায় পরিবারের সদস্যরা। মাম্মির ৮ মাস বয়সের ইশরাত জাহান মুনতাহা নামে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। নিহত মাম্মির পিতার বাড়ি একই উপজেলার ৮নং বীজবাগ ইউনিয়নের বালিযাকান্দি গ্রামে। নিহতের মা রাহেলা আক্তার জানায়, ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল মাম্মিকে বিয়ে দেন একই উপজেলার ৭নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের উত্তর রাজারামপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে সোহেলের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকে মেয়ের জামাই সোহেল যৌতুক দাবী করে আসছিলো। দাবীকৃত যৌতুক না পেয়ে তারা মেয়েকে মারধর করে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে মেয়ের জামাই, দেবর ও ভাসুর সহ ও পরিবারের লোকজন । ওই ঘটনায় পর মাম্মির জেঠা আবদুর আউয়াল বাদি হয়ে সেনবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলা নং ২৬ তারিখ ২৯/৯/২০১৮ইং । এঘটনায় সেনবাগ থানা পুলিশ তিন আসামীতে গ্রেফতার করলো। এরমধ্যে স্বামী নিজে একা স্ত্রীকে হত্যা করেছে বলে আদালতে জবানবন্ধী দিয়েছে।

Share Button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *